📌 শীতকালে বাংলাদেশে পরিযায়ী হয়ে আসা পাঁচটি পাখির চমৎকার ছবি তুলেছেন বাংলাদেশের ফটোগ্রাফাররা। সাইবেরিয়া থেকে শুরু করে ইউরোপ ও এশিয়া থেকে আসা এসব পাখির জীবনচক্র ও আবাসস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
শীতের সময় বাংলাদেশে পরিযায়ী হয়ে আসা পাঁচটি পাখির চমৎকার ছবি তুলেছেন দেশের ফটোগ্রাফাররা। বিবিসি নিউজ বাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাইবেরিয়ার তুন্দ্রা থেকে শুরু করে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া থেকে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসব পাখিরা শীতের অতিথি হিসেবে আসে। ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরায় এদের জীবনচক্র ও আবাসস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **চকাচকি বা খয়রা চখাচখি** পাখির আবাসস্থল প্রায় ৮৪ লাখ ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত, তবে সংখ্যা কমলেও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেনি।
- 📌 **নীলগলা ফিদ্দা** পাখি বাংলাদেশের হাওর, বিল বা জলাশয়ের ধারে ঝোপে বা নলবনে একাকীভাবে রাত কাটায়।
- 📌 **দাগি রাজহাঁস** বাংলাদেশ, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। শীতকালে মধ্য এশিয়া থেকে এসে বাংলাদেশে পরিযায়ী হয়।
- 📌 **চিতিপাখ শালিক** উত্তর ভারত ও পশ্চিম নেপালে বংশবৃদ্ধি করে এবং শীতকালে বাংলাদেশের নিচু বন ও আর্দ্র পাহাড়ি বনে আসে।
- 📌 **নীলশীর বা নীলমাথা হাঁস** উত্তর আমেরিকা, ইউরেশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে প্রজনন করে এবং শীতকালে বাংলাদেশে পরিযায়ী হয়।
- 📌 **রাঙ্গামুড়ি বা লালঝুটি ভুতিহাঁস** ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এদের আবাসস্থল প্রায় ৩০ লক্ষ ৬০ হাজার বর্গকিলোমিটার।
📰 বিস্তারিত
বিবিসি নিউজ বাংলার প্রতিবেদক শাহনেওয়াজ রকি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর শীতকালে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি আসে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চকাচকি বা খয়রা চখাচখি, নীলগলা ফিদ্দা, দাগি রাজহাঁস, চিতিপাখ শালিক, নীলশীর বা নীলমাথা হাঁস এবং রাঙ্গামুড়ি বা লালঝুটি ভুতিহাঁস। ফটোগ্রাফাররা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসব পাখির ছবি তুলেছেন।
চকাচকি পাখির আবাসস্থল প্রায় ৮৪ লাখ ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। গত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা কমলেও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেনি। নীলগলা ফিদ্দা পাখি বাংলাদেশের হাওর, বিল বা জলাশয়ের ধারে ঝোপে বা নলবনে একাকীভাবে রাত কাটায়। এদের সাধারণত ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ায় দেখা যায়।
দাগি রাজহাঁস বাংলাদেশ, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। শীতকালে মধ্য এশিয়া থেকে এসে বাংলাদেশে পরিযায়ী হয়। এরা শীতের শেষে আবার মধ্য এশিয়ার পার্বত্য হ্রদসমূহে বিচরণ ও প্রজনন করে। চিতিপাখ শালিক উত্তর ভারত ও পশ্চিম নেপালে বংশবৃদ্ধি করে এবং শীতকালে বাংলাদেশের নিচু বন ও আর্দ্র পাহাড়ি বনে আসে।
নীলশীর বা নীলমাথা হাঁস উত্তর আমেরিকা, ইউরেশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার নাতিশীতোষ্ণ ও উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে প্রজনন করে। শীতের শুরুতে এরা বাংলাদেশে পরিযায়ী হয়ে আসে। রাঙ্গামুড়ি বা লালঝুটি ভুতিহাঁস ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এদের আবাসস্থল প্রায় ৩০ লক্ষ ৬০ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত।
"বাংলাদেশে প্রতিবছর শীতকালে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি আসে। সাইবেরিয়ার তুন্দ্রা থেকে শুরু করে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া থেকে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এসব পাখিরা শীতের অতিথি হিসেবে আসে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সারাদেশ জুড়ে নলখাগড়া ঝাড়, ঝোপঝাড়, বেড়া, জলাভূমি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহনেওয়াজ রকি (বিবিসি নিউজ বাংলা প্রতিবেদক), ফটোগ্রাফাররা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৪ লাখ ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার (চকাচকি পাখির আবাস), ৩০ লক্ষ ৬০ হাজার বর্গকিলোমিটার (রাঙ্গামুড়ি পাখির আবাস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!