📌 চীনের চিকিৎসকরা কাটাছেঁড়া ছাড়াই মায়ের গর্ভে শিশুর বড় টিউমার ধ্বংসের নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। মাইক্রোওয়েভ এনার্জি ব্যবহার করে টিউমার সংকুচিত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে হাজারো শিশুর জীবন রক্ষা করতে পারে
চীনের চিকিৎসকরা কাটাছেঁড়া ছাড়াই মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর মারাত্মক টিউমার ধ্বংসের একটি যুগান্তকারী পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। এই নতুন প্রযুক্তি ‘মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন’ নামে পরিচিত এবং এটি শিশুর জীবন বাঁচাতে ভবিষ্যতে হাজারো মায়ের জন্য একটি বিপ্লবী বিকল্প হতে পারে। গর্ভস্থ শিশুটির ফুসফুসের জন্মগত ত্রুটি ‘সিপিএএম’ (সিপাম) নামে পরিচিত, যা প্রতি ২৫ থেকে ৩৫ হাজার গর্ভধারণের মধ্যে মাত্র একটিতে দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ত্রুটি মারাত্মক নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে টিউমার অত্যন্ত দ্রুত বড় হয়ে শিশুর হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসকে চেপে ধরতে পারে, যা গর্ভেই মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীনের চিকিৎসকরা মাইক্রোওয়েভ এনার্জি ব্যবহার করে গর্ভস্থ শিশুর ৫ সেন্টিমিটার বড় টিউমার ধ্বংস করেছেন — কাটাছেঁড়া ছাড়াই!
- 📌 গর্ভধারণের ২২তম সপ্তাহে শিশুর টিউমার শিশুর হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসকে চেপে ধরছিল, কিন্তু মাত্র তিন দিনে টিউমার ৯০% সংকুচিত হয়
- 📌 গর্ভস্থ শিশুর টিউমার নিরাময়ে ‘মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন’ পদ্ধতি প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে — যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা অনুযায়ী, ‘ফিটাল লোবেক্টমি’ পদ্ধতিতে শিশু বেঁচে থাকার হার মাত্র ৫০ শতাংশ
- 📌 ৩৭তম সপ্তাহে সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে জন্মগ্রহণকারী শিশুর ওজন ছিল ২ দশমিক ৯ কিলোগ্রাম
- 📌 চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাময়িকী ‘আলট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনোকোলজি’-তে এই ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে
📰 বিস্তারিত
চীনের একদল চিকিৎসক গর্ভস্থ শিশুর টিউমার নিরাময়ে একটি ন্যূনতম আক্রমণাত্মক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। গর্ভধারণের ২২তম সপ্তাহে শিশুর টিউমার প্রায় ৫ সেন্টিমিটার বড় হয়ে গিয়েছিল এবং তা শিশুর হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসকে মারাত্মকভাবে চেপে ধরছিল। চিকিৎসকরা মায়ের পেটের ওপর দিয়ে একটি ছোট সুই দিয়ে শিশুর টিউমারে প্রবেশ করেন এবং জরায়ুর ভেতরে ‘মাইক্রোওয়েভ এনার্জি’ পাঠিয়ে অস্বাভাবিক কোষগুলো উত্তপ্ত ও ধ্বংস করেন। এই প্রযুক্তি টিউমারের ভেতরের পানির অণুগুলো উত্তপ্ত করে, যা টিউমারকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়। মাত্র তিন দিনের মধ্যে টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয় এবং শিশুর তলপেটে জমে থাকা বিপজ্জনক তরলও পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায়।
গর্ভধারণের ৩৭তম সপ্তাহে সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে শিশুটি জন্মগ্রহণ করে। জন্মের সময় তার ওজন ছিল প্রায় ২ দশমিক ৯ কিলোগ্রাম। চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাময়িকী ‘আলট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনোকোলজি’-তে এই ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে। চিকিৎসকেরা এই পদ্ধতিকে ‘ন্যূনতম আক্রমণাত্মক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, এটি ভবিষ্যতে সিপিএএমের মতো জটিল রোগীদের চিকিৎসায় একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। তবে তারা বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেছেন, এই পদ্ধতির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়, কারণ এটি মাত্র একটি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে প্রমাণিত হয়েছে।
বর্তমানে সিপিএএমের কোনো আদর্শ চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। কিছু ক্ষেত্রে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয় টিউমার ছোট করার জন্য। আবার বিরল কিছু ক্ষেত্রে টিউমারে তরল জমে থাকলে চিকিৎসকরা ড্রেনেজ টিউব ব্যবহার করেন। তবে এই পদ্ধতিতে শিশুর জন্মের ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে ‘ফিটাল লোবেক্টমি’ পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জরায়ু কেটে শিশুকে বের করে টিউমার অপসারণ করা হয়, পরে আবার শিশুটিকে জরায়ুর ভেতর ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ফ্রান্সিসকোর গবেষণা অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে শিশু বেঁচে থাকার হার মাত্র ৫০ শতাংশ।
"গর্ভস্থ শিশুর টিউমার নিরাময়ে ‘মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন’ পদ্ধতির ব্যবহার এটাই প্রথম। তবে পদ্ধতিটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হলেও মাত্র একটি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ৪০ বছর বয়সী মা, গর্ভস্থ শিশু, চীনের চিকিৎসকদল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫-৩৫ হাজার গর্ভধারণে ১টি সিপিএএম ঘটনা, ৫ সেন্টিমিটার টিউমার আকার, ৫০% শিশু বেঁচে থাকার হার (ফিটাল লোবেক্টমি পদ্ধতিতে), ২ দশমিক ৯ কিলোগ্রাম শিশুর জন্ম ওজন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!