📌 বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় ময়মনসিংহের ২৫টি মাছের পুকুরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পাঙাশ ও রুই মাছে সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বাণিজ্যিক মাছের পুকুরে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে, যা মাছের উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহের ২৫টি মাছের পুকুরের তলদেশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, প্রতি কেজি পলিতে গড়ে ১১.০৪টি কণা
- 📌 মাছের নমুনা বিশ্লেষণে ১৫০টি মাছের পরিপাকতন্ত্রে মোট ৯০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে, গড়ে প্রতি মাছে ০.৬০টি কণা
- 📌 পাঙাশ মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংক্রমণ সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ, রুই মাছে ৩৬ শতাংশ
- 📌 পুকুরের তলদেশে বসবাসকারী মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের হার সর্বোচ্চ ৫২ শতাংশ
- 📌 গবেষণায় শনাক্ত প্লাস্টিকের মধ্যে পলিইথিলিন ৩৯ শতাংশ, পলিপ্রোপিলিন ২৭ শতাংশ
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. বদিউজ্জামান খানের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক গবেষণায় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ২৫টি মাছের পুকুরের তলদেশের পলিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। গবেষণাটি ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন ফ্রেশওয়াটার অ্যাকুয়াকালচার’ শীর্ষক এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী এনভায়রনমেন্টাল পলিউশনে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় ছয় প্রজাতির মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়, যার মধ্যে রুই, কাতলা, পাঙাশ, মৃগেল, কমন কার্প ও সরপুঁটি। প্রতিটি প্রজাতি থেকে ২৫টি করে মোট ১৫০টি মাছের নমুনা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। বিশ্লেষণে প্রতিটি মাছের পরিপাকতন্ত্রে গড়ে ০.৬০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা যায়, সরপুঁটি মাছে প্রতি মাছে গড়ে সর্বোচ্চ ১.২০টি কণা পাওয়া গেছে।
গবেষকরা মাছের বসবাসের স্তর ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। পুকুরের তলদেশে বসবাসকারী মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের হার সর্বোচ্চ ৫২ শতাংশ, মধ্যস্তরে বসবাসকারী মাছে ৩৫ শতাংশ এবং পানির উপরিভাগে বসবাসকারী মাছে ১৩ শতাংশ। খাদ্যাভ্যাসের ভিত্তিতে সর্বভুক মাছে গ্রহণের হার ৫৮ শতাংশ এবং তৃণভোজী মাছে ৪২ শতাংশ।
"মাছের শারীরিক অবস্থা নির্ণয়ের সূচক ফাল্টনের কন্ডিশন ফ্যাক্টর বা কে-মান সরপুঁটি মাছে সর্বোচ্চ ২.২৭ পাওয়া গেছে। বিপরীতে কাতলা ও পাঙাশে এ মান যথাক্রমে ০.৩৫ ও ০.৩৭।"
গবেষণায় পুকুরের তলদেশের পলিতে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা নির্ণয়ে পলিউশন লোড ইনডেক্স (পিএলআই) ব্যবহার করা হয়। নমুনাগুলোতে এ সূচকের মান ছিল ১ থেকে ৪.৫। গবেষকরা মনে করেন, পুকুরের তলদেশের পলি মাইক্রোপ্লাস্টিকের দীর্ঘমেয়াদি আধার হিসেবে কাজ করতে পারে। পলিতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে পলিইথিলিন ৩৯ শতাংশ এবং পলিপ্রোপিলিন ২৭ শতাংশ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মো. বদিউজ্জামান খান (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫টি পুকুর, ১৫০টি মাছের নমুনা, ৯০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা, ১১.০৪টি কণা/কেজি পলি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!