📌 স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুহিত ঘোষণা করেছেন, সরকার ৫০০টি উপজেলায় মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে নতুন কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্প শুরু করছে। পাইলট হিসেবে ২০টি উপজেলায় শুরু হলেও ধাপে ধাপে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত ঘোষণা করেছেন, সরকার মানসিক স্বাস্থ্য সেবাকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে নতুন কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০০টি উপজেলায় ছড়িয়ে দেবেন। প্রাথমিকভাবে ২০টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প শুরু হলেও ধাপে ধাপে সেবাটি দেশের সব উপজেলায় বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫০০টি উপজেলায় মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেবেন সরকার, শুরু হবে পাইলট প্রকল্পে ২০টি উপজেলায়
- 📌 ১৩ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বক্তব্য দেন
- 📌 মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের কারণ হিসেবে যুদ্ধ-সংঘাত, একাকীত্ব ও ডিজিটাল আসক্তি উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী
- 📌 মর্যাদা ও অধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে পাঁচই আগস্টের গণপ্রতিরোধের স্মৃতি তুলে ধরেন ডা. মুহিত
- 📌 মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় দরকার মানসিক স্বাস্থ্য সেবার জন্য
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সেবাকে বড় শহর বা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সরকারের নতুন কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রাথমিকভাবে ২০টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প শুরু হলেও ধাপে ধাপে সেবাটি ৫০০টি উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
১৩ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ‘সামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য: অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজকল্যাণের সোপান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধ-সংঘাত, দ্রুত পরিবর্তনশীল লাইফস্টাইল, একাকীত্ব ও অতিরিক্ত ডিজিটাল আসক্তি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর ক্ষত সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “প্রযুক্তির যুগে আমরা আপাতদৃষ্টিতে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত মনে হলেও ভেতরে ভেতরে প্রত্যেকেই এক একটি বিচ্ছিন্ন ‘দ্বীপে’ পরিণত হচ্ছি। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোর-কিশোরীরা এর বড় শিকার।”
মর্যাদা ও অধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে পাঁচই আগস্টের গণপ্রতিরোধের স্মৃতি তুলে ধরেন ডা. মুহিত। তিনি বলেন, মানবিক মর্যাদা বজায় না থাকলে সমাজে নিয়ন্ত্রণহীন বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, “উন্নয়ন প্রকল্প মানেই কেবল ইট-কাঠ-পাথরের বড় বড় ভবন আর কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। আমরা কেবল ভবন বানিয়ে দামী ইকুইপমেন্ট কিনে রাখলাম, কিন্তু সেখানে সেবা দেওয়ার দক্ষ জনবল থাকল না—এই ভুল সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও পাবনার মানসিক হাসপাতালের সেবাকে জেলা ও উপজেলা স্তরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি সাজানো হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাকাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আহ্বান জানান, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, “সবাইকে শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক মাস্টার্স বা পিএইচডি ডিগ্রি দিলে তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে কাজ করতে চাইবেন না। তাই মানসিক স্বাস্থ্য খাতেও দুই বা তিন বছর মেয়াদী ভোকেশনাল ডিপ্লোমা বা টেকনিক্যাল কোর্স চালু করা প্রয়োজন।”
"মানসিক স্বাস্থ্য শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার বিষয় নয়। এর সঙ্গে সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা দরকার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (বাংলা একাডেমি), ঢাকা ও পাবনা (মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ, সাবেক সচিব সাইদুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০টি উপজেলা, ২০টি উপজেলা (পাইলট), ১৩ অক্টোবর (তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!