📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের যৌথ মূল্যায়ন দল বাংলাদেশের শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির ব্যর্থতা ও হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ বিশ্লেষণ করেছে। ২০০০-২০২৫ সালের মধ্যে ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৯ শিশু হামের টিকা পায়নি এবং ২০২৫ সালে টিকার মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। সরকারের স্থানীয় পরিকল্পনা ও টিকার সরবরাহে দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনে সরকারের টিকাদান কর্মসূচির ব্যর্থতা ও দুর্বলতা চিহ্নিত করেছে একটি যৌথ স্বাধীন মূল্যায়ন দল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, গ্যাভি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই দলের প্রধান ক্যাটরিনা ক্রেটসিঙ্গার বলেছেন, শিশুদের টিকাদানে ব্যর্থতা এবং টিকার সরবরাহে অসামঞ্জস্যের কারণে হামের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হুপিং কাশি ও ডিফথেরিয়ার মতো অন্যান্য রোগেরও প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৯ শিশু ২০০০-২০২৫ সালের মধ্যে হামের টিকা পায়নি, যার মধ্যে প্রতিবছর ২০ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থাকে;
- 📌 ২০২৫ সালে হাম-রুবেলার টিকার মজুত ফুরিয়ে যায় এবং পরবর্তী ক্যাম্পেইন বিলম্বিত হয়;
- 📌 ৭০ জন সদস্যের যৌথ মূল্যায়ন দল ৩ অক্টোবর থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে এবং গতকাল ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে প্রতিবেদন প্রকাশ করে;
- 📌 স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন টিকার মান ও সরবরাহের ‘কোল্ড চেইন’ ব্যবস্থার নিশ্চয়তা চেয়েছেন;
- 📌 ক্যাটরিনা ক্রেটসিঙ্গার বলেছেন, টিকা পান না এমন শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়;
- 📌 ২০২০ সালের পর হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইন বিলম্বিত হয়, পরবর্তী ক্যাম্পেইন ২০২৬ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়;
- 📌 ৭০ জন সদস্যের দল ৩ অক্টোবর থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, মায়েদের সাক্ষাৎকার নেয় এবং স্কুল-মাদ্রাসা পরিদর্শন করে;
- 📌 বিশেষজ্ঞরা টিকাদান কর্মসূচির স্থানীয় পরিকল্পনা, জনবল ও টিকার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছেন;
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, টিকা সরবরাহ ও বিতরণের বৈশ্বিক জোট গ্যাভির প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত যৌথ স্বাধীন মূল্যায়ন দল (জয়েন্ট ইনডিপেনডেন্ট রিভিউ টিম) গতকাল ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে। এই দলের প্রধান ক্যাটরিনা ক্রেটসিঙ্গার বলেছেন, বাংলাদেশের শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যর্থতা এবং টিকার সরবরাহে অসামঞ্জস্যের কারণে হামের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৯ শিশু হামের টিকা পায়নি। প্রতিবছর কমবেশি ২০ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থাকে, যা রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি সৃষ্টি করেছে।
মূল্যায়ন দলের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে হাম-রুবেলার টিকার মজুত ফুরিয়ে যায় এবং পরবর্তী ক্যাম্পেইন বিলম্বিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, টিকা পান না এমন শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। ক্যাটরিনা ক্রেটসিঙ্গার বলেছেন, ২০২৬ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইনটি প্রাদুর্ভাবের আগে অনুষ্ঠিত হয়নি। তিনি আরও বলেছেন, টিকা পান না এমন শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাবের হার বেশি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেছেন, টিকার মান নিশ্চিত করার জন্য ‘কোল্ড চেইন’ ব্যবস্থার নিশ্চয়তা দরকার। তিনি বলেছেন, টিকা তৈরি থেকে সরবরাহ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো দুর্বলতা থাকলে টিকার কার্যকারিতা কমে যায়। তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের অনুরোধ করেছেন, টিকার মান যাচাই করার জন্য আরও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
৭০ জন সদস্যের এই মূল্যায়ন দল ৩ অক্টোবর থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। তারা টিকাদান কেন্দ্র, টিকাকেন্দ্র থেকে ফেরত যাওয়া মায়েদের সাক্ষাৎকার নেয়, স্কুল ও মাদ্রাসা পরিদর্শন করে এবং পাঁচটি করে পরিবারে মা ও মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেছে। মূল্যায়ন দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকাদান কর্মসূচির স্থানীয় পরিকল্পনা, জনবলের শূন্য পদ পূরণ এবং টিকার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
"২০২৬ সালে প্রাদুর্ভাবের আগে শিশুদের মধ্যে ইমুনাইজেশন গ্যাপ তৈরি হয়েছিল। নিয়মিত টিকা কার্যক্রমে প্রতিবছর কমবেশি ২০ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থাকে। ২০০০ থেকে ২০২৫ সাল—এই পাঁচ বছরে ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৯ শিশু হামের টিকা পায়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সোনারগাঁও হোটেল), বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্যাটরিনা ক্রেটসিঙ্গার, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিশেষজ্ঞদের দল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৯ (টিকা পান না এমন শিশু), ২০ শতাংশ (টিকার বাইরে থাকা শিশু), ৭০ জন (মূল্যায়ন দলের সদস্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!