📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, মার্চ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে হামের কারণে ২২ হাজার নিশ্চিত আক্রান্ত ও ১ হাজার ১৪৭ মৃত্যু হয়েছে। শিশুদের টিকাদানের ঘাটতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রাদুর্ভাবকে বাড়িয়ে তুলেছে
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই লাখ দুই হাজারাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার, যার মধ্যে ১ হাজার ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৯৪ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২২ হাজার নিশ্চিত আক্রান্ত ও ১ হাজার ১৪৭ মৃত্যু হয়েছে হামে, যার ৯৪ শতাংশ শিশু।
- 📌 ২০২৫ সালে টিকাদানের হার নেমে এসেছে: প্রথম ডোজ ৯০ শতাংশ, দ্বিতীয় ডোজ ৮৬ শতাংশ।
- 📌 ৪০ লাখ শিশু আগের হাম প্রতিরোধী কর্মসূচির বাইরে থেকে গেছে, যা সরকারি তথ্যের নির্ভুলতার প্রশ্ন তুলেছে।
- 📌 ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নতুন কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
- 📌 ৪০ শতাংশ শিশুর জন্মনিবন্ধন নেই এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ১/৩ পদ শূন্য রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে জনসংখ্যার অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে দুই ডোজ টিকার আওতায় আনতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ২০২৪ সালে প্রথম ডোজের টিকাদানের হার ছিল ৯৬ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজের ৯৩ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা যথাক্রমে ৯০ ও ৮৬ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা বেড়েছে।
রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতি, টিকা সংগ্রহে বিলম্ব এবং টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্নের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সরকারি টিকাদান তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু প্রাথমিক হিসাব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার তথ্য দেখিয়েছে, যা হিসাব ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়।
২০২৪ সালে সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে, কিন্তু প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য পূরণ হয়নি। একই বয়সী শিশুদের তালিকায় আগের কর্মসূচির তুলনায় প্রায় ৪০ লাখ বেশি শিশুর তথ্য পাওয়া গেছে, যা আগের কর্মসূচিতে কত শিশু বাদ পড়েছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জরুরি কর্মসূচি শুরু করার আগে সাধারণত চার দফা পরীক্ষা করা হয়, কিন্তু এবার মাত্র এক দফা পরীক্ষা করা হয়েছিল।
স্বাস্থ্য কর্মসূচির ত্রুটিগুলোর মধ্যে রয়েছে টিকা সংরক্ষণের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের সংখ্যা যাচাইয়ের অভাবে। ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৪০ শতাংশ শিশুর জন্মনিবন্ধন নেই, যা টিকার বাইরে থাকা শিশুদের শনাক্তকরণকে আরও কঠিন করে তুলেছে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যকর্মীদের পদ শূন্য থাকার সমস্যা রয়েছে — সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পদ খালি রয়েছে।
"হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে জনসংখ্যার অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে দুই ডোজ টিকার আওতায় আনতে হয়। বাংলাদেশে এই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতা স্বাস্থ্যসংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সারাদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিশুদের (৫ বছরের কম বয়সী ৯৪ শতাংশ মৃত্যুবরণ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ হাজার নিশ্চিত আক্রান্ত, ১ হাজার ১৪৭ মৃত্যু, ৯০ শতাংশ প্রথম ডোজ টিকাদান, ৮৬ শতাংশ দ্বিতীয় ডোজ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!