📌 প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান পিকাসোর রাজনৈতিক ও শিল্পগত জীবন নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি পিকাসোর 'গোয়ের্নিকা' ও তার কমিউনিস্ট আন্দোলনে অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেছেন। প্যারিসের শিল্প-কবি বন্ধুত্ব ও তাদের প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংযোগের গল্পও শেয়ার করেছেন
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের সন্ধ্যায় প্রথম আলোর অফিসে হাজির হওয়ার সময় দেখলাম সম্পাদক মতিউর রহমান ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর সামনে বসে ছিলেন শিল্পী মাহবুবুর রহমানসহ কয়েকজন শিল্পী। আলাপের শুরুতে প্রথম আলোর পুড়ে যাওয়া ভবনের প্রদর্শনী নিয়ে কথা বলা হয়। কিন্তু শীঘ্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলো পাবলো পিকাসো ও তার শিল্পগত ও রাজনৈতিক জীবন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পিকাসোকে মতিউর রহমানের প্রিয় শিল্পী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, বিশেষ করে 'গোয়ের্নিকা' ও 'শান্তির কপোত' ছবির কারণে।
- 📌 পিকাসো ফ্রান্সের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন, ফ্রান্সের সেরা মানুষরা ছিলেন কমিউনিস্ট।
- 📌 পিকাসোর মৃত্যুর পর ১৯৭৩ সালে গণসাহিত্য মাসিক পত্রিকায় তার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল।
- 📌 পিকাসো প্যারিসে থাকাকালীন কবিদের সাথে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিলেন, বিশেষত গিয়োম আপোলিনের, ম্যাক্স জ্যাকব ও পল এলুয়ার।
- 📌 'গোয়ের্নিকা' ছবিটি স্পেনীয় গৃহযুদ্ধের প্রতীক হয়ে উঠেছে এবং বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনে শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
- 📌 পিকাসো ১৯৪৪ সালে রচিত 'হোয়াই আই বিক্যাম আ কমিউনিস্ট' লেখায় বলেছিলেন, কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদানের কারণ ছিল তার জীবন ও শিল্পকর্মকে অর্থবহ করে তোলা।
📰 বিস্তারিত
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের সন্ধ্যায় প্রথম আলোর অফিসে হাজির হওয়ার সময় দেখলাম সম্পাদক মতিউর রহমান ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর সামনে বসে ছিলেন শিল্পী মাহবুবুর রহমানসহ কয়েকজন শিল্পী। আলাপের শুরুতে প্রথম আলোর পুড়ে যাওয়া ভবনের প্রদর্শনী নিয়ে কথা বলা হয়। কিন্তু শীঘ্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলো পাবলো পিকাসো ও তার শিল্পগত ও রাজনৈতিক জীবন। মতিউর রহমান বলেন, পিকাসোকে তিনি সবসময় মানবিকতার প্রতীক হিসেবে দেখেছেন।
পিকাসোর 'গোয়ের্নিকা' ছবিটি স্পেনীয় গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা ও সাধারণ মানুষের যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি। মতিউর রহমান বলেন, পিকাসো চেয়েছিলেন এই ছবিটি স্পেনে ফ্যাসিস্ট ফ্রাঙ্কোর পতনের পরেই প্রদর্শিত হবে। ১৯৩৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শিত হয়েছিল। এই ছবিটি বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।
মতিউর রহমান বলেন, পিকাসো প্যারিসে থাকাকালীন কবিদের সাথে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিলেন। বিশেষত গিয়োম আপোলিনের, ম্যাক্স জ্যাকব ও পল এলুয়ার ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পিকাসোর শিল্পকর্ম ও কবিতার মধ্যে একটি অনন্য সম্পর্ক ছিল। পিকাসো ১৯০৪ সাল থেকে জীবনের প্রায় পুরোটা সময় প্যারিসে থাকলেও নিজেকে গণতান্ত্রিক স্পেনের নাগরিক মনে করতেন।
মতিউর রহমান বলেন, পিকাসো ১৯৪৪ সালে রচিত 'হোয়াই আই বিক্যাম আ কমিউনিস্ট' লেখায় বলেছিলেন, কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদানের কারণ ছিল তার জীবন ও শিল্পকর্মকে অর্থবহ করে তোলা। তিনি বলেছিলেন, নকশা ও রঙের মাধ্যমে তিনি পৃথিবী ও মানুষের জ্ঞানকে গভীরভাবে অনুধাবনের চেষ্টা করেছেন।
"কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেওয়া আমার জীবনের একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ। এটি আমার জীবন ও শিল্পকর্মকে অর্থ দিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, প্রথম আলোর অফিস
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: মতিউর রহমান, পাবলো পিকাসো, শিল্পী মাহবুবুর রহমান, গিয়োম আপোলিনের, ম্যাক্স জ্যাকব, পল এলুয়ার
- 📊 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 'গোয়ের্নিকা' ছবি, পিকাসোর কমিউনিস্ট আন্দোলনে অংশগ্রহণ, গণসাহিত্য মাসিক পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!