📌 ২০২৬ সালের শারীরতত্ত্ব নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী কার্ল ডাইসেরথ, পিটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল। তাদের আবিষ্কার হলো আলোক-জিনপ্রযুক্তি (অপটোজেনেটিকস) যা মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষকে আলো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার সম্ভবতা প্রদান করে। এই প্রযুক্তির মূল উৎস ছিল একটি ক্ষুদ্র সবুজ শৈবাল ক্ল্যামাইডোমোনাস থেকে উদ্ভূত চ্যানেলরোডপসিন প্রোটিন
বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে আলোক-জিনপ্রযুক্তি। ২০২৬ সালের শারীরতত্ত্ব বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী—কার্ল ডাইসেরথ, পিটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল। তাদের আবিষ্কার হলো আলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত স্নায়ুকোষের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি, যা মস্তিষ্কের জটিল কার্যক্রমের গবেষণায় বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। এই আবিষ্কারের মূল উৎস ছিল একটি ক্ষুদ্র এককোষী সবুজ শৈবাল ক্ল্যামাইডোমোনাস থেকে, যেটি আলো শনাক্ত করে সাঁতার কাটার দিক পরিবর্তন করতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৮ হাজার ৬০০ কোটি স্নায়ুকোষের** মধ্যে নির্দিষ্ট কোষকে আলো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার প্রযুক্তি আবিষ্কার করে বিজ্ঞানীরা, যা মস্তিষ্কের কার্যক্রম অধ্যয়নের নতুন পথ খুলেছে
- 📌 **চ্যানেলরোডপসিন-২** নামের আলোকসংবেদনশীল প্রোটিনের আবিষ্কার, যা নীল আলো পেলে সক্রিয় হয়ে স্নায়ুকোষের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে
- 📌 **অপটোজেনেটিকস** বা আলোক-জিনপ্রযুক্তি নামক এই প্রযুক্তি বিজ্ঞানীদেরকে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুবর্তনীকে আলো দিয়ে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম করেছে
- 📌 **২০০৫ সাল** থেকে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা স্তন্যপায়ী প্রাণীর স্নায়ুকোষের কার্যকলাপকে এক সেকেন্ডের হাজার ভাগের এক ভাগ সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে
📰 বিস্তারিত
মানুষের মস্তিষ্কে প্রায় ৮ হাজার ৬০০ কোটি স্নায়ুকোষ রয়েছে, যা বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে চিন্তা, স্মৃতি, আবেগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জটিল প্রক্রিয়াগুলো পরিচালনা করে। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলেন—মস্তিষ্কের কোনো নির্দিষ্ট আচরণ বা স্মৃতির জন্য ঠিক কোন স্নায়ুকোষ বা স্নায়ুবর্তনী দায়ী তা কীভাবে নিশ্চিতভাবে বোঝা যায়। এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পথে তিন বিজ্ঞানী—কার্ল ডাইসেরথ, পিটার হেগেমান ও গেয়র্গ নাগেল—আমূল পরিবর্তন আনেন।
আলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস প্রযুক্তির আবিষ্কারের জন্য তাদের যৌথভাবে দেওয়া হয়েছে ২০২৬ সালের শারীরতত্ত্ব নোবেল পুরস্কার। এই আবিষ্কার এমন এক প্রযুক্তির জন্ম দিয়েছে, যার মাধ্যমে জীবন্ত প্রাণীর মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষকে আলো দিয়ে অত্যন্ত দ্রুত চালু বা বন্ধ করা যায়। বিজ্ঞানীরা এখন শুধু মস্তিষ্কে কোথায় কী ঘটছে তা পর্যবেক্ষণই করেন না, বরং একটি নির্দিষ্ট স্নায়ুবর্তনী সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করে তার কাজও পরীক্ষা করতে পারেন।
গল্পের শুরু হয়েছিল একটি ক্ষুদ্র এককোষী সবুজ শৈবাল ক্ল্যামাইডোমোনাস থেকে। এই অণুজীব আলো শনাক্ত করতে পারে এবং আলোর উপস্থিতি অনুযায়ী সাঁতারের দিক পরিবর্তন করতে পারে। বিজ্ঞানীদের মনে প্রশ্ন জেগেছিল—চোখ বা মস্তিষ্ক না থাকা সত্ত্বেও এই শৈবাল কীভাবে আলো শনাক্ত করে? পিটার হেগেমান দীর্ঘদিন ধরে এই শৈবালের আলোকসংবেদন নিয়ে গবেষণা করেন। গেয়র্গ নাগেল ও তাঁর সহযোগীদের গবেষণায় এর পেছনে থাকা আণবিক ব্যবস্থাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর কেন্দ্রে রয়েছে ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামের আলোকসংবেদনশীল প্রোটিন।
"চ্যানেলরোডপসিন কোষঝিল্লিতে অবস্থানকারী আলোনিয়ন্ত্রিত একটি আয়ন চ্যানেল। নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো পড়লে প্রোটিনটির গঠনে পরিবর্তন ঘটে এবং এর মধ্যকার ক্ষুদ্র পথটি খুলে যায়। তখন বিভিন্ন ধনাত্মক আয়ন কোষঝিল্লির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে পারে।"
চ্যানেলরোডপসিন-২ নীল আলোয় অত্যন্ত দ্রুত সক্রিয় হতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যই পরবর্তী সময়ে স্নায়ুবিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটায়। বিজ্ঞানীরা শৈবালের এই আলোকসংবেদনশীল প্রোটিনটি স্তন্যপায়ী প্রাণীর স্নায়ুকোষে তৈরি করানোর সাফল্য লাভ করেন। কার্ল ডাইসেরথ ও তাঁর সহযোগীরা এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেন। চ্যানেলরোডপসিন-২ তৈরির নির্দেশ বহনকারী জিন স্নায়ুকোষের মধ্যে প্রবেশ করানো হলে স্নায়ুকোষের ঝিল্লিতে এই আলোকসংবেদনশীল প্রোটিন তৈরি হয়। এরপর নীল আলো ফেললে চ্যানেলরোডপসিনের পথ খুলে যায় এবং ধনাত্মক আয়ন স্নায়ুকোষের ভেতরে প্রবেশ করে। এর ফলে স্নায়ুকোষের বৈদ্যুতিক বিভব পরিবর্তিত হয় এবং ক্রিয়াবিভব সৃষ্টি হয়, যার ফলে স্নায়ুকোষ সক্রিয় হয়ে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠাতে শুরু করে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মস্তিষ্ক (বিশ্বব্যাপী গবেষণা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কার্ল ডাইসেরথ, পিটার হেগেমান, গেয়র্গ নাগেল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ হাজার ৬০০ কোটি স্নায়ুকোষ, চ্যানেলরোডপসিন-২ (২০০৫ সাল থেকে ব্যবহৃত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!