📌 অস্ট্রেলিয়ায় কোয়ালা, ক্যাঙ্গারু ও ওমব্যাটের মতো থলিধারী প্রাণীদের আদি নিবাস ছিল না। বিজ্ঞানীরা জানান, এদের পূর্বপুরুষ দক্ষিণ আমেরিকা থেকে অ্যান্টার্কটিকা পার হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিল। এখানে ৫ কোটি বছর আগে থেকেই এদের অস্তিত্ব রয়েছে
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের একমাত্র মহাদেশ যেখানে কোয়ালা, ক্যাঙ্গারু ও ওমব্যাটের মতো শত শত থলিধারী প্রাণী বা মার্সুপিয়ালদের বসবাস। কিন্তু বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এদের আদি নিবাস ছিল না এই মহাদেশে। যুক্তরাজ্যের সালফোর্ড ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক রবিন বেকের মতে, এদের পূর্বপুরুষ দক্ষিণ আমেরিকা থেকে অ্যান্টার্কটিকা পার হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিল। বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে গবেষণা করে জানিয়েছেন, থলিধারী প্রাণীদের জন্মের সময় তাদের শাবকেরা খুবই দুর্বল থাকে। তারা জন্মের পরই মায়ের থলিতে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে কয়েক মাস ধরে বড় হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অস্ট্রেলিয়ায় থলিধারী প্রাণীদের আদি নিবাস ছিল না — এদের পূর্বপুরুষ দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এসেছিল
- 📌 ১২ কোটি বছর আগে থলিধারী প্রাণীদের পূর্বপুরুষের জীবাশ্ম চীনে পাওয়া গেছে
- 📌 ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে মার্সুপিয়ালরা দক্ষিণ আমেরিকায় পৌঁছায় এবং ২০-৩০ লাখ বছরে ৭০টির বেশি প্রজাতিতে বিভক্ত হয়
- 📌 অস্ট্রেলিয়ায় এদের আসার সময় দক্ষিণ আমেরিকা, অ্যান্টার্কটিকা ও অস্ট্রেলিয়া একসাথে যুক্ত ছিল
- 📌 বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকায় ১০০টির বেশি মার্সুপিয়াল প্রজাতি রয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় ৫০টির বেশি
📰 বিস্তারিত
বিজ্ঞানীরা জানান, থলিধারী প্রাণীদের (মার্সুপিয়াল) আদি নিবাস ছিল উত্তর গোলার্ধের লরেশিয়া মহাদেশে, যা বর্তমান উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ছিল। সে সময় এদের ৭০টির বেশি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে, কিন্তু সবগুলোই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পরবর্তীতে ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে মার্সুপিয়ালরা দক্ষিণ আমেরিকায় পৌঁছায়। সেখানে তারা দ্রুত বৈচিত্র্য লাভ করে — কিছু মাংসাশী হয়ে ওঠে, আবার কিছু ফল ও বীজ খাওয়ার উপযোগী হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় এদের আসার সময় দক্ষিণ আমেরিকা, অ্যান্টার্কটিকা ও অস্ট্রেলিয়া একসাথে যুক্ত ছিল। বিজ্ঞানী রবিন বেকের মতে, থলিধারী প্রাণীরা অ্যান্টার্কটিকা পার হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিল। অ্যান্টার্কটিকার সিমোর দ্বীপে পাওয়া জীবাশ্ম এই তথ্যের প্রমাণ। অস্ট্রেলিয়ায় এদের আসার পর থেকে এখানে তাদের অস্তিত্ব অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ৫০টির বেশি মার্সুপিয়াল প্রজাতি রয়েছে, যেখানে দক্ষিণ আমেরিকায় ১০০টির বেশি প্রজাতি বাস করে।
বিজ্ঞানীরা আরও জানান, দক্ষিণ আমেরিকার একটি অপোসাম প্রজাতি ‘ভার্জিনিয়া অপোসাম’ উত্তর আমেরিকায় গিয়ে বসবাস শুরু করে। এখন এটি মেক্সিকোর উত্তরে একমাত্র মার্সুপিয়াল প্রজাতি। তবে ‘অপোসাম’ ও ‘পসাম’ আলাদা প্রজাতি — পসামের আদি নিবাস অস্ট্রেলিয়া ও নিউ গিনি, যেখানে তাদের দাঁতের গঠন দক্ষিণ আমেরিকার অপোসামের থেকে আলাদা।
"মার্সুপিয়ালদের শাবকেরা জন্মের পরই মায়ের থলিতে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে কয়েক মাস ধরে বড় হয়। এদের শরীরের এই বিশেষ বৈশিষ্ট্য তাদের অন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীদের থেকে আলাদা করে তোলে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, চীন, অ্যান্টার্কটিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক রবিন বেক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ কোটি বছর (জীবাশ্মের বয়স), ৭০টি প্রজাতি (লরেশিয়ায়), ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর (দক্ষিণ আমেরিকায় পৌঁছানো), ১০০টি প্রজাতি (দক্ষিণ আমেরিকায় বর্তমান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!