📌 নাসার কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলের ভোরের আলোতে ধারণ করেছে একটি অসাধারণ ছবি, যা গ্রহের ৩০০ কোটি বছরের পুরনো শিলা স্তরের গোপন ইতিহাস উন্মোচন করেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই স্তরটি সম্ভবত আগ্নেয়গিরির ছাই থেকে গঠিত এবং মঙ্গলের অতীতের আর্দ্র পরিবেশ সম্পর্কে নতুন তথ্য দিচ্ছে
মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে ভোরের সূর্যালোকের অসাধারণ দৃশ্য ধারণ করেছে নাসার কিউরিওসিটি রোভার। এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মঙ্গলের খাঁজকাটা পাথুরে শৃঙ্গগুলিতে ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়েছে, যা গ্রহের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করছে। নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই দৃশ্য মঙ্গলের অতীতের আর্দ্র পরিবেশ সম্পর্কে নতুন আলো ফেলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মঙ্গলের ভোরের আলোতে ধারণ করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মাউন্ট শার্পের খাঁজকাটা শিলা স্তর যা ৩০০ কোটি বছর আগে গঠিত হতে পারে
- 📌 বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই স্তরটি সম্ভবত বাতাসে উড়ে আসা পলি বা আগ্নেয়গিরির ছাই থেকে গঠিত, যা দীর্ঘকালের বাতাসের ক্ষয়ে ‘ইয়ারড্যাং’ নামে পরিচিত ধারালো রিজ তৈরি করেছে
- 📌 মাউন্ট শার্পের এই স্তরটি প্রায় ১৬ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এবং মঙ্গলের অতীতের বিভিন্ন সময়ের ইতিহাস সংরক্ষণ করে
- 📌 নাসার আশা, ২০২৭ বা ২০২৮ সালের মধ্যে কিউরিওসিটি রোভার ইয়ারড্যাং স্তরে পৌঁছাতে পারবে এবং সেখানে অতীতে অণুজীবের জীবনধারণের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করবে
- 📌 বিজ্ঞানী অ্যাশউইন ভাসাভাদা বলেছেন, ছবির দৃশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার মনুমেন্ট ভ্যালির মতোই, তবে আকাশের কমলা রং এবং সূর্যোদয়ের নীল আভা স্পষ্ট করে দেয় এটি মঙ্গল গ্রহ
📰 বিস্তারিত
২০১২ সালে মঙ্গলের বিষুবরেখার কাছে গেইল ক্রেটারে অবতরণকারী কিউরিওসিটি রোভার এখন পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার উচ্চতা অতিক্রম করেছে। এটি ক্রেটারের তলদেশ থেকে ধীরে ধীরে মাউন্ট শার্পের ঢাল বেয়ে উঠছে। ছবিটি ধারণ করা হয় মঙ্গলে সূর্যোদয়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর রোভারের ‘মাস্টক্যাম’ ক্যামেরায়। বিজ্ঞানীদের মতে, দূরের উজ্জ্বল খাঁজকাটা শৃঙ্গগুলো এমন একটি শিলা স্তর, যা রোভারটির এখন পর্যন্ত অতিক্রম করা অন্য স্তরগুলোর চেয়ে আলাদা।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই শিলা স্তরটি সম্ভবত আগ্নেয়গিরির ছাই বা বালি থেকে গঠিত, যা দীর্ঘকালের বাতাসের ক্ষয়ে ‘ইয়ারড্যাং’ নামে পরিচিত ধারালো রিজ তৈরি করেছে। এই স্তরটি প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগে গঠিত হতে পারে এবং মাউন্ট শার্পের উত্তর-পশ্চিম অংশে প্রায় ১৬ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মঙ্গলের বিভিন্ন শিলা স্তর মঙ্গলের অতীতের আলাদা আলাদা সময়ের ইতিহাস সংরক্ষণ করে। এসব স্তর বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, কোটি কোটি বছর আগে এই অঞ্চল হ্রদ ও প্রবাহমান পানিতে সমৃদ্ধ ছিল।
নাসার বিজ্ঞানী অ্যাশউইন ভাসাভাদা বলেছেন, ছবিটির দৃশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার মনুমেন্ট ভ্যালির কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে আকাশের কমলা রং আর সূর্যোদয়ের নীল আভা স্পষ্ট করে দেয়, এটি পৃথিবী নয়; এটি মঙ্গল। তিনি আরও বলেছেন, এই দৃশ্য মঙ্গলের অতীতের আর্দ্র পরিবেশ সম্পর্কে নতুন তথ্য দিচ্ছে এবং সম্ভবত অতীতে অণুজীবের জীবনধারণের উপযোগী পরিবেশ ছিল।
"দূরের উজ্জ্বল খাঁজকাটা শৃঙ্গগুলো এমন একটি শিলা স্তর, যা রোভারটির এখন পর্যন্ত অতিক্রম করা অন্য স্তরগুলোর চেয়ে দেখতে বেশ আলাদা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি একসময় বাতাসে উড়ে আসা পলি—সম্ভবত বালি বা আগ্নেয়গিরির ছাই ছিল। পরে তা শক্ত হয়ে শিলায় পরিণত হলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রবল বাতাসের ক্ষয়ে সেখানে ‘ইয়ারড্যাং’ নামে পরিচিত ধারালো রিজ তৈরি হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মঙ্গল গ্রহ, মাউন্ট শার্প, গেইল ক্রেটার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানী অ্যাশউইন ভাসাভাদা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০ কোটি বছর (শিলা স্তর গঠনের সময়কাল), ১৬ কিলোমিটার (স্তরের বিস্তার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!