📌 হরিপুরের খেরবাড়ী গ্রামের মর্জিনা খাতুন পারিবারিক সংগ্রাম ও দাম্পত্য টানাপোড়েনের পর নিজের জীবন পুনরুজ্জীবিত করে নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের পথে অগ্রসর হন। তিনি ২৫ সদস্যের একটি নাগরিক সমাজ সংগঠন গঠন করে বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন ও যৌতুক প্রতিরোধে কাজ করছেন। স্থানীয়রা তাঁকে গ্রামের আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখেন
হরিপুর উপজেলার খেরবাড়ী গ্রামের মর্জিনা খাতুন একসময় পারিবারিক কলহ ও দাম্পত্য সংকটের কারণে নিজের সংসার ছেড়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু শূন্যহাতে ফিরে এলেও তিনি থেমে থাকেননি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে তিনি কৃষিকাজ ও পশুপালনে নিজেকে নিয়োজিত করেন। আজ তিনি গ্রামের নারী-শিক্ষা ও মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৫ সদস্যের নাগরিক সমাজ সংগঠন** গঠন করে মর্জিনা খাতুন বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করছেন।
- 📌 **বাল্যবিবাহের শিকার** শম্পা আক্তার বলেছেন, ‘নবম শ্রেণিতে পৌঁছানোর আগেই আমার বিয়ে হয়েছিল।’
- 📌 **স্থানীয় কৃষক সোহেল রানা** জানান, মর্জিনার প্রচেষ্টায় এলাকায় বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
- 📌 **গেদুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম** মর্জিনাকে ‘বেগম রোকেয়ার পথ অনুসরণকারী’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন।
- 📌 **মর্জিনা নিজের মেয়েকে শিক্ষিত** করে গড়ে তোলার পাশাপাশি গ্রামের অন্য মেয়েদেরও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
📰 বিস্তারিত
মর্জিনা খাতুনের জীবনের সংগ্রামের গল্প শুরু হয় পারিবারিক কলহ ও দাম্পত্য টানাপোড়েনের কারণে। তিনি নিজের সংসার ছেড়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু তিনি জীবনকে পরাজিত করতে চাননি। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও তিনি কৃষিকাজ ও পশুপালনে নিজেকে নিয়োজিত করেন। তার এই সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে তিনি এখন খেরবাড়ী গ্রামের নারী-শিক্ষা ও মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘মানবকল্যাণ পরিষদ’ (এমকেপি) ও ‘নেটজ বাংলাদেশ’-এর সহায়তায় মর্জিনার নেতৃত্বে ২৫ সদস্যের একটি নাগরিক সমাজ সংগঠন (সিএসও) গঠিত হয়। এই সংগঠনের সদস্যরা নিয়মিত সচেতনতামূলক বৈঠক, আলোচনা ও প্রচারের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, যৌতুক ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কাজ করছেন।
স্থানীয়রা জানান, একসময় খেরবাড়ী এলাকায় বাল্যবিবাহের প্রবণতা ছিল বেশি। বিশেষ করে দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোর মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটত। মর্জিনা ও তাঁর সংগঠনের সদস্যরা পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতার পাশাপাশি মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করছেন।
বাল্যবিবাহের শিকার শম্পা আক্তার বলেন, ‘নবম শ্রেণিতে ওঠার আগেই আমার বিয়ে হয়েছিল। অল্প বয়সে বিয়ের শারীরিক ধকল আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।’ স্থানীয় কৃষক সোহেল রানা মর্জিনার প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করে বলেন, ‘আগে এলাকায় বাল্যবিবাহের প্রবণতা বেশি ছিল। মর্জিনা খাতুনের সামাজিক তৎপরতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কারণে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা এখন অনেকটাই কমেছে।’
গেদুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম মর্জিনাকে প্রশংসা করে বলেন, ‘মর্জিনার হাত ধরেই আজ খেরবাড়ী গ্রাম মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে। বেগম রোকেয়ার পথ অনুসরণ করে তিনি এ এলাকায় একটি ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন আনছেন।’
"সহযোগী সংগঠনগুলোর সহায়তায় আজ আমরা খেরবাড়ী গ্রামে নারীর ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার রক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছি।"
মর্জিনা নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি নিজের মেয়েকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার পাশাপাশি গ্রামের অন্য মেয়েদেরও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছি। আমার লক্ষ্য, সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করে নারীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খেরবাড়ী গ্রাম, হরিপুর উপজেলা, ঠাকুরগাঁও
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মর্জিনা খাতুন, শম্পা আক্তার, সোহেল রানা, তরিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ সদস্যের নাগরিক সমাজ সংগঠন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!