📌 বাংলাদেশে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার ৯৭ শতাংশ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন, কিন্তু শিল্পপতি ও বাণিজ্য চাপের কারণে খসড়া প্রবিধানমালা বাস্তবায়িত হয়নি
বাংলাদেশে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জনস্বাস্থ্য বিপদে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর দাবি জানিয়েছেন, কিন্তু শিল্পপতিদের চাপে এই নীতি বাস্তবায়িত হয়নি। বিশ্ব খাদ্য দিবসের উপলক্ষে অনুষ্ঠিত একটি ওয়েবিনারে এসব তথ্য উত্থাপিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার খায়
- 📌 দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ ঘটে অসংক্রামক রোগে, যার অন্যতম কারণ অনিরাপদ খাদ্য
- 📌 খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে এফওপিএল খসড়া, কিন্তু শিল্পপতিদের বাধা ও বাণিজ্য চাপের কারণে বাস্তবায়ন স্থগিত
- 📌 বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাধ্যতামূলক সতর্কতা লেবেল খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে
- 📌 বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ছিল ‘ইনোভেট টুডে, নারিশ টুমরো’
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘প্রজ্ঞা’ একটি ওয়েবিনার আয়োজন করে। এতে বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত লবণ, চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে। গবেষণা থেকে দেখা যায়, দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার এসব খাবার খেয়ে থাকেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বর্তমান খাদ্য প্যাকেটের পেছনের জটিল পুষ্টি তথ্য সাধারণ ভোক্তাদের পক্ষে বোঝা কঠিন। এ কারণে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রবিধানমালা তৈরি করেছে। তবে খাদ্যশিল্পের দেশি-বিদেশি অংশীদারদের চাপে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থার বদলে স্বেচ্ছামূলক লেবেলিং, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির অজুহাত এবং বাস্তবায়নের সময় বাড়ানোর দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “খসড়াটি বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-এর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দিয়েছি এবং ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর সাথেও কাজ করছি। আশা করছি এটি দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ করা সম্ভব হবে।”
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটে অসংক্রামক রোগে, যার অন্যতম কারণ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ। বাধ্যতামূলক এফওপিএল খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তাই শিল্পগোষ্ঠীর হস্তক্ষেপমুক্ত থেকে খসড়া প্রবিধানমালাটি দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে।”
"প্যাকেটজাত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রকৃত পুষ্টিমান ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের স্পষ্ট ধারণা দিতে সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল সবচেয়ে বেশি কার্যকর।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মোহাম্মদ শোয়েব, ডা. মুশতাক হোসেন, আবু আহমেদ শামীম, মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৭ শতাংশ (অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণকারী), ৭১ শতাংশ (অসংক্রামক রোগে মৃত্যু), ৩.৪ (এসডিজি ৩.৪ অর্জন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!