📌 প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে 'ম্যানচাইল্ড সিনড্রোম' দেখা দিলে তারা দায়িত্ব এড়িয়ে শিশুসুলভ আচরণ করে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেছেন, এই সমস্যা ত্রুটিপূর্ণ লালনপালন ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে হয়
প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে শিশুসুলভ আচরণের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে 'ম্যানচাইল্ড সিনড্রোম'। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন, দৈনন্দিন কাজে নির্ভরশীল হন এবং আবেগীয়ভাবে অপরিণত আচরণ করেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেছেন, এই আচরণের মূল কারণ হলো ত্রুটিপূর্ণ পারিবারিক লালনপালন এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 'ম্যানচাইল্ড সিনড্রোম' বা 'পিটার প্যান সিনড্রোম' হলো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের শিশুসুলভ আচরণের একটি মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা
- 📌 দায়িত্ব এড়ানো, দৈনন্দিন কাজে নির্ভরশীলতা, আবেগীয় অপরিণততা — এই সিনড্রোমের প্রধান বৈশিষ্ট্য
- 📌 শৈশবে মা-বাবার অতিরিক্ত আগলানো, দায়িত্বের অভাব বা মানসিক আঘাত এই সমস্যার মূল কারণ
- 📌 সমাজে ছেলেদের ঘরকাজে অদক্ষতা তৈরি করে এই আচরণের পথ প্রশস্ত করে
- 📌 সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টি করে, স্ত্রীকে কেয়ারটেকারের ভূমিকায় ফেলে
📰 বিস্তারিত
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'ম্যানচাইল্ড সিনড্রোম' হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বয়সে বড় হলেও মানসিকভাবে শিশুসুলভ আচরণ করেন। এই অবস্থায় পুরুষরা সাধারণ দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন, যেমন সংসারের খরচ চালানো, সিদ্ধান্ত নেওয়া বা ঘরের সাধারণ কাজ। তারা নিজের কাপড় ধোয়া, খাবার বেড়ে খাওয়া বা ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার মতো মৌলিক কাজেও নির্ভরশীল থাকেন।
ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেছেন, এই সিনড্রোমের পেছনে মূলত ত্রুটিপূর্ণ পারিবারিক লালনপালন দায়ী। শৈশবে যদি ছেলেকে অতিরিক্ত আগলে রাখা হয় এবং কোনো দায়িত্ব বা ভুলের মুখোমুখি হতে না দেওয়া হয়, তবে তার মধ্যে স্বনির্ভরতা গড়ে ওঠে না। বিশেষ করে আমাদের সমাজে ছেলেদের প্রায়ই শেখানো হয় যে তাদের কাজ শুধু পড়াশোনা ও টাকা উপার্জন করা। বিপরীতে কন্যাসন্তানদের ঘরকাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে ছেলেরা ঘরের কাজে সম্পূর্ণ অদক্ষ হয়ে বড় হয়।
এছাড়া শৈশবে কোনো মানসিক আঘাত বা সঠিক রোল মডেলের অভাব থাকলে একজন মানুষের মানসিক বয়স একটি নির্দিষ্ট স্তরে আটকে যেতে পারে। এই কারণে শরীরের বৃদ্ধি হলেও মনের দিক থেকে তারা বড় হতে পারেন না। অনেকের মধ্যে তীব্র আত্মকেন্দ্রিকতা এবং 'সবাই আমার যত্ন নেবে' এমন একটি মানসিকতা কাজ করে। তারা প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের জবাবদিহি থেকে বাঁচতে ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুর মতো আচরণ করে সুবিধা নিতে চান।
ডা. সানজিদা বলেন, এই সিনড্রোম সম্পর্কের ক্ষেত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ, তখন নারী সঙ্গীকে একজন জীবনসঙ্গীর বদলে কেয়ারটেকারের ভূমিকা পালন করতে হয়। যা একপর্যায়ে সম্পর্কে তিক্ততা ও মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি করে।
"দায়িত্ব এড়ানো এই ধরনের পুরুষের প্রধান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম। সংসারের খরচ চালানো, সিদ্ধান্ত নেওয়া বা ঘরের সাধারণ কাজগুলো করতে অনীহা প্রকাশ করাও এই দায়িত্ব এড়ানোর মধ্যে পড়ে। নিজের কাপড় ধোয়া, খাবার বেড়ে খাওয়া বা ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার মতো মৌলিক কাজের জন্যও সঙ্গী বা মায়ের ওপর নির্ভর করতে তাঁরা দ্বিধা করেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সোশ্যাল মিডিয়া ও পারিবারিক পরিবেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. সানজিদা শাহরিয়া (মনোরোগ বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ০ (সংখ্যা না থাকলেও মেটাডেটা পূরণের জন্য উল্লেখ করা হয়েছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!