📌 কক্সবাজারের মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে ২২ কোটি টাকায় নির্মিত হওয়া সড়ক প্রকল্পের বিরুদ্ধে পরিবেশবিদরা সতর্কতা জানিয়েছেন। প্রকল্পটি বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থলকে বিপন্ন করবে এবং অবৈধ বসতির জন্য সরকারি স্বীকৃতি দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে
কক্সবাজারের মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে ২২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বড় প্রকল্পের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই প্রকল্পে নির্মিত হওয়া সড়কটি দুই ইউনিয়নের মধ্যকার দূরত্ব কমাবে বলে দাবি করা হলেও, প্রকল্পের পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাবের কোনো সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন করা হয়নি। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে বসবাসকারী চার হাজারাধিক মানুষ এই সড়কের সুবিধা পাবেন। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কটি বনভূমির দখলদারদের অবৈধ বসতির জন্য যাতায়াত সহজ করবে এবং তাদের দখলকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কক্সবাজারের মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে ২২ কোটি ৩৭ লাখ টাকায় সড়ক নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীদের জন্য বিপদসূচক
- 📌 প্রকল্পের সুবিধা পাবে অবৈধভাবে বনভূমিতে বসবাসকারী চার হাজারাধিক দখলদার, যা তাদের দখলকে সরকারি স্বীকৃতি দেবে বলে আশঙ্কা
- 📌 মহেশখালী দেশের একমাত্র পাহাড়ি বনসমৃদ্ধ দ্বীপ, যেখানে চিত্রা হরিণ, পাহাড়ি কচ্ছপ ও অজগরসহ বহু প্রজাতির বন্যপ্রাণী বাস করে
- 📌 সড়ক নির্মাণ বন্যপ্রাণীদের চলাচলের পথ বিচ্ছিন্ন করবে এবং গাছ কাটার সুযোগ বাড়াবে, যা বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন-২০২৬-এর বিরুদ্ধে
- 📌 প্রকল্পের অনুমোদন ও অর্থায়নের পিছনে কোনো নিরপেক্ষ তদন্তের অভাব রয়েছে, যা আইনের শাসনের প্রতি অবজ্ঞা বলে মনে করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
মহেশখালী দ্বীপ বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি বনসমৃদ্ধ দ্বীপ। এখানে চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, সংকটাপন্ন পাহাড়ি কচ্ছপ, মুখপোড়া হনুমান, অজগরসহ বহু প্রজাতির বন্য প্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে। এই বন শুধু গাছের সমষ্টি নয়, বরং প্রাকৃতিক বন, পাহাড়ি ছড়া, জলাধার, উদ্ভিদ, কীটপতঙ্গ ও মাটির অণুজীবের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে বসবাসকারী চার হাজারাধিক মানুষ এই সড়কের সুবিধা পাবেন। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কটি বনভূমির দখলদারদের বসতি ও অবৈধ স্থাপনায় যাতায়াত সহজ করবে।
বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন-২০২৬ অনুযায়ী, প্রাকৃতিক বন বনবিরুদ্ধ বা বনবহির্ভূত কাজে ব্যবহার করা যাবে না। অন্যান্য বনভূমিতে জাতীয় অপরিহার্য প্রয়োজনে কোনো প্রকল্প নিতে হলেও বিকল্পের অনুপস্থিতি প্রমাণ, নিরপেক্ষ পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণ, ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন। তবে এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে কোনো এই ধরনের মূল্যায়ন বা অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য বন, জীববৈচিত্র্য ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের বাধা, মামলা এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা জানার পরও নির্মাণকাজ চলতে থাকা আইনের শাসনের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা বলেছেন, আদালতের লিখিত আদেশ হাতে পৌঁছায়নি এমন অজুহাত দিয়ে কাজ অব্যাহত রাখার সুযোগ নেই।
"সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণ জাতীয় বননীতি এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনারও পরিপন্থী। সরকারকে অবিলম্বে সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ করে প্রকল্পটি বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে কীভাবে সংরক্ষিত বনের ভেতরে এই প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থায়ন পেল, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহেশখালী, কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বন বিভাগের কর্মকর্তা, পরিবেশ সংরক্ষণবাদী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা (প্রকল্পের ব্যয়), চার হাজারাধিক (অবৈধ বাসিন্দা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!