📌 ভোলার লালমোহন উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। গত ১০ দিনে ২৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন, এর মধ্যে ৫০% ডেঙ্গু শনাক্ত। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের ঘাটতি ও চিকিৎসা সংকটে রোগীরা কষ্ট পাচ্ছেন
ভোলার লালমোহন উপজেলায় ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ ক্রমাগত বাড়ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ — কেউই এই মশাবাহিত রোগের ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। গত ১০ দিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়ার সংখ্যা ২৪ জনে পৌঁছেছে, যা আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্কতা জারি করেছেন, কারণ অধিকাংশ রোগীই পরীক্ষা না করায় ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে দেরিতে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত ১০ দিনে ২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি, এর মধ্যে ১০ জনের মধ্যে ৫ জনে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
- 📌 ৩০ বছর বয়সী সুরমা বেগম (রমাগঞ্জ ইউনিয়নের কর্তারহাট বাসিন্দা) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ দিন ধরে চিকিৎসাধীন, কিন্তু অধিকাংশ ওষুধই বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে।
- 📌 ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু ছাড়াও হামে ১৯ জন, নিউমোনিয়ায় ১২১ জন, ডায়রিয়ায় ১৮১ জন রোগী চিকিৎসাধীন।
- 📌 মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ইউসুফ হোসেন বলেছেন, অসচেতনতা কারণে অনেক রোগী পরীক্ষা করাতে চান না, ফলে ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে দেরিতে।
- 📌 স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু মাহমুদ তালহা সাদী ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির পানির সংগ্রহ, মশা প্রতিরোধ ও সচেতনতা জোর দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে মোট ৪৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনেই ২৪ জনের চিকিৎসা চলছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে মেডিকেল অফিসার (ইউনানি) ডা. মো. ইউসুফ হোসেন জানান, প্রতিদিনই ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে রোগী আসছেন। তবে অধিকাংশই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে চান না। যারা পরীক্ষা করান, তাদের মধ্যে ১০ জনের মধ্যে ৫ জনেরই ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
৩০ বছর বয়সী সুরমা বেগম (রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কর্তারহাট এলাকার বাসিন্দা) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি। তিনি বলেন, প্রথমে জ্বর হলে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খেয়েছিলেন, কিন্তু সপ্তাহখানেক পরেও জ্বর কমেনি। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ায় ডাক্তারের পরামর্শে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তিনি বলেন, চিকিৎসক-নার্সরা নিয়মিত দেখে যাচ্ছেন, কিন্তু অধিকাংশ ওষুধই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাওয়া যায় না। ফলে প্রয়োজনীয় ওষুধ বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে।
৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু ছাড়াও অন্যান্য রোগেও রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে হামে ১৯ জন, নিউমোনিয়ায় ১২১ জন, ডায়রিয়ায় ১৮১ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আবু মাহমুদ তালহা সাদী বলেন, চিকিৎসক-নার্সের সংকট থাকলেও বর্তমান কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে ওষুধের ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম, টায়ার ইত্যাদিতে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। দিন-রাতে মশারি, মশা প্রতিরোধক ও শরীর ঢেকে রাখতে হবে। জ্বর হলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।" — ডা. আবু মাহমুদ তালহা সাদী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভোলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. মো. ইউসুফ হোসেন, ডা. আবু মাহমুদ তালহা সাদী, মোসা. সুরমা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ জন (গত ১০ দিনে ডেঙ্গু ভর্তি), ৫০% (ডেঙ্গু শনাক্ত), ৩ দিন (সুরমা বেগমের চিকিৎসা), ৫০ শয্যা (স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!