📌 ঝিনাইদহ-কোটচাঁদপুর মহাসড়কের দুই পাশে ২০-২৫ বছরের বয়সী রেইনট্রি, মেহগনি ও আকাশমণি গাছ কাটা চলছে। বন বিভাগের অজ্ঞাত নিয়ম ও দরপত্রের অজ্ঞাততা নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গাছগুলো কাটা হচ্ছে ২০২৪ সালের পুরাতন দরপত্রের মাধ্যমে, যা বন মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে
ঝিনাইদহ-কোটচাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী রেইনট্রি, মেহগনি ও আকাশমণি গাছগুলো কাটা চলছে। বন বিভাগের অজ্ঞাত নিয়ম ও দরপত্রের অজ্ঞাততা নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গাছগুলো কাটা হচ্ছে ২০২৪ সালের পুরাতন দরপত্রের মাধ্যমে, যা বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ-জীবননগর সড়কের কোটচাঁদপুর এলাকার কাশিপুর থেকে এলাঙ্গী অভিমুখে মহাসড়কের দুই ধারে ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সী গাছ কাটা চলছে।
- 📌 ৪৫টি লটে কোটচাঁদপুর ও ৬টি লটে শৈলকুপায় গাছ বিক্রি করা হয়েছে, যার মোট মূল্য ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ২৫ টাকা।
- 📌 ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান করা হলেও কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০ জুন। গাছ কাটার দায়িত্ব পেয়েছে কুষ্টিয়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে বকুল হোসেনের নামের অধীনে মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ।
- 📌 সরেজমিনে গাছ কাটা দেখভাল করছেন কালীগঞ্জের কাঠ ব্যবসায়ী আক্কাচ আলী, যিনি দাবি করেন, সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ চলছে।
- 📌 এলাকাবাসী রেজাউল ইসলাম বলেন, গাছগুলো রাস্তায় চলাচলকারীদের ছায়া ও অক্সিজেন সরবরাহ করত, কিন্তু নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।
- 📌 বন বিভাগের ডেপুটি বন রেঞ্জার প্রণব কুমার বিশ্বাস জানান, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের মেয়াদ শেষে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। মেয়াদ ১০ থেকে ৩০ বছর হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
ঝিনাইদহ-কোটচাঁদপুর মহাসড়কের দুই পাশে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী গাছগুলো কাটা চলছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সারা দেশে সবুজ তরতাজা গাছ না কাটার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু কোটচাঁদপুর ও শৈলকুপার গাছগুলো কাটা বন্ধ হয়ে যায়নি। বরং পুরাতন দরপত্রের মাধ্যমে গাছ কাটা শুরু হয়েছে।
এই দরপত্রের মাধ্যমে কোটচাঁদপুরে ৪৫টি লটে এবং শৈলকুপায় ৬টি লটে গাছ বিক্রি করা হয়েছে। প্রতিটি লটে ২০ থেকে ২৫টি গাছ থাকার কথা জানিয়েছে বন বিভাগের একটি সূত্র। গাছগুলো কাটার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল। কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০ জুন। কার্যাদেশপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীর নাম ছিল মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ, যার মালিক হিসেবে কুষ্টিয়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে বকুল হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।
সরেজমিনে গাছ কাটার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে কালীগঞ্জের কাঠ ব্যবসায়ী আক্কাচ আলীর। তিনি দাবি করেন, সরকারি নিয়ম মেনেই গাছ কাটা হচ্ছে। তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন রয়েছে, কেন পুরাতন দরপত্রের মাধ্যমে গাছ কাটা হচ্ছে এবং কেন বন মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী রেজাউল ইসলাম বলেন, “গাছগুলো রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের ছায়া দিচ্ছিল, নির্মল অক্সিজেন দিচ্ছিল। এগুলো কেন কাটা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। এগুলো কাটার ফলে মহাসড়ক ফাঁকা হয়ে গেছে, ছায়া-শীতল অবস্থা হারিয়ে গেছে।”
"গাছগুলো অনেক আগে দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে। মাঝে নানা কারণে কাটা সম্ভব হয়নি। এখন কাটা হচ্ছে। সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের মেয়াদ শেষে বিক্রি করার নিয়ম রয়েছে।"
বন বিভাগের ডেপুটি বন রেঞ্জার প্রণব কুমার বিশ্বাস জানান, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের মেয়াদ শেষে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মেয়াদ ১০ বছর থেকে শুরু করে ২৫-৩০ বছরও হতে পারে। বর্তমানে যে গাছগুলো কাটা হচ্ছে, সেগুলো ২০ থেকে ২৫ বছর মেয়াদের বলে আমাদের ধারণা।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝিনাইদহ-কোটচাঁদপুর মহাসড়ক, কালীগঞ্জ-জীবননগর সড়ক, কাশিপুর এলাকা, এলাঙ্গী, কোটচাঁদপুর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেজাউল ইসলাম (কোটচাঁদপুরের বাসিন্দা), আক্কাচ আলী (কাঠ ব্যবসায়ী), প্রণব কুমার বিশ্বাস (ডেপুটি বন রেঞ্জার), বকুল হোসেন (কার্যাদেশপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০-২৫ বছর (গাছের বয়স), ৪৫টি লট (কোটচাঁদপুর), ৬টি লট (শৈলকুপা), ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ২৫ টাকা (মোট মূল্য), ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল (দরপত্র আহ্বান), ২০২৪ সালের ২০ জুন (কার্যাদেশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!