📌 জাপানের এমএমএক্স মহাকাশযান মঙ্গলের চাঁদ ফোবোসের দিকে রওনা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই মিশন থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসবে ফোবোসের ১০ গ্রাম মাটি, যা সৌরজগতের সৃষ্টির রহস্য উন্মোচন করতে পারে
মঙ্গলের অদ্ভুত আকৃতির চাঁদ ফোবোসের রহস্য খোঁজার জন্য জাপানের মহাকাশযান এমএমএক্স (মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন) মহাকাশের অন্ধকারে রওনা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই মিশন থেকে ফোবোসের মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে, যা সৌরজগতের সৃষ্টির ইতিহাসে বিপ্লব ঘটাতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাপানের এমএমএক্স মহাকাশযান মঙ্গলের চাঁদ ফোবোসের দিকে রওনা হয়েছে, যা ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেখানে পৌঁছবে।
- 📌 ফোবোসের মাটি ও পাথর সংগ্রহের লক্ষ্যে এই মিশনে জাপানের পাশাপাশি নাসা, ফরাসি মহাকাশ সংস্থা এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির সহযোগিতা রয়েছে।
- 📌 ফোবোসের বুকে অবতরণ করে ১০ গ্রাম মাটি সংগ্রহের পর ২০৩১ সালে পৃথিবীতে ফিরে আসবে এই নমুনা।
- 📌 ফোবোসের গঠন ও জৈব পদার্থের সন্ধান খোঁজার জন্য ফোবোসের বুকে একটি রোভার নামিয়ে পাঠানো হবে, যার নাম ‘ইডেফিক্স’।
- 📌 বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ফোবোসের জন্মের পেছনে দুটি সম্ভাব্য কাহিনী: একটি গ্রহাণুকে মঙ্গলের কক্ষপথে আটকে দেওয়া বা মঙ্গলের সাথে সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলের দুটি ছোট চাঁদের মধ্যে ফোবোসের আকৃতি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। এটি দেখতে মনে হয় একটি ভাসমান আলু। ফোবোস মঙ্গলের খুব কাছাকাছি ঘোরে, ফলে মঙ্গলের আকাশ থেকে দেখলে মনে হয় এটি দিনে দুবার উঠে ও অস্ত যায়। বিজ্ঞানীরা এখনও জানেন না এই চাঁদের সৃষ্টির প্রকৃত কারণ। তাদের দুটি প্রধান ধারণা রয়েছে: একটি গ্রহাণুকে মঙ্গলের কক্ষপথে আটকে দেওয়া বা মঙ্গলের সাথে প্রলয়ংকরী সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি।
জাপানের তানেগাশিমা স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপিত এমএমএক্স মহাকাশযান ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফোবোসের কক্ষপথে প্রবেশ করবে। সেখানে পৌঁছার পর এটি ফোবোসের মাটি ও পাথর সংগ্রহের জন্য একটি রোভার নামিয়ে পাঠাবে। এই রোভারটির নাম ‘ইডেফিক্স’, যার নামকরণ করা হয়েছে ফরাসি কমিকস চরিত্র অ্যাস্টেরিক্সের কুকুরের নামানুসারে।
রোভারটি ফোবোসের মাটির গঠন পরীক্ষা করবে এবং বিজ্ঞানীদের আশা, এই আদিম ধুলোবালিতে জৈব পদার্থ বা প্রাণ সৃষ্টির অজানা উপাদান লুকিয়ে থাকতে পারে। রোভারের কাজ শেষ হলে মূল মহাকাশযানটি স্বয়ং ফোবোসের বুকে অবতরণ করবে এবং অন্তত ১০ গ্রাম মাটি ও পাথর সংগ্রহ করবে। এই নমুনাটি ২০৩১ সালের দিকে পৃথিবীতে ফিরে আসবে, যা সৌরজগতের সৃষ্টির রহস্য উন্মোচন করতে পারে।
"মহাকাশের অন্ধকার পেরিয়ে ফোবোসের বুকে লুকিয়ে থাকা রহস্যের জট খুলতে এই মিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নমুনা থেকে আমরা সৌরজগতের সৃষ্টির নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেতে পারি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মঙ্গলের চাঁদ ফোবোস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানীরা, জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (জাক্স)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ গ্রাম (ফোবোসের মাটি ও পাথর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!