📌 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস (CAS) এর সঙ্গে ১৪ সেপ্টেম্বর চীনের সাংহাইয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা হবে আন্তর্জাতিক সেন্টার অব এক্সিলেন্স (ICoE-Bangladesh) এবং যৌথ গবেষণা, ডেটা উন্নয়ন ও শিক্ষার্থী বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার একটি মাইলফলক অতিক্রম করেছে। চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস (CAS) এর সঙ্গে ১৪ সেপ্টেম্বর চীনের সাংহাইয়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) বাংলাদেশের গবেষণা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদেরসহ বিভাগের শিক্ষকরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪ সেপ্টেম্বর সাংহাইয়ে চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস (CAS) এর সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্বাক্ষর করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চুক্তি।
- 📌 চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা হবে আন্তর্জাতিক সেন্টার অব এক্সিলেন্স (ICoE-Bangladesh)।
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি পর্যবেক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহযোগিতার মূল বিষয়বস্তু।
- 📌 ৩ বছরের মেয়াদ থাকবে চুক্তি, পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়ানো যাবে।
- 📌 থাইল্যান্ড ও লাওসের বিশ্ববিদ্যালয়ও চীনের সঙ্গে পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর করে।
📰 বিস্তারিত
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের পক্ষ থেকে অধ্যাপক লি গুওছিং এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন। উপাচার্য বাংলাদেশ থেকে ভিডিও বক্তব্যে অংশ নেন। তিনি বলেন, “এই চুক্তি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দলিল নয়; এটি দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতি।”
চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক ডেটা নেটওয়ার্ক ফর আর্থ অবজারভেশন (IDN4EO) এর আওতায় বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্র (ICoE-Bangladesh) প্রতিষ্ঠা করা। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক পণ্য উন্নয়নে যৌথ গবেষণা হবে।
উপাচার্য ড. রইছ উদ্দীন বলেন, “এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশকে শক্তিশালী করবে।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ, একাডেমিক বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হবে।”
চুক্তির আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-উপযোগী ডেটাসেট উন্নয়ন, শিক্ষার্থী বিনিময় এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য আদান-প্রদানেরও সুযোগ থাকবে। সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব লাওস এবং থাইল্যান্ডের মাহানাকর্ন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তারা চীনের সঙ্গে পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে।
"এই সমঝোতা স্মারক শুধু একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি নয়; বরং দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, উদ্ভাবন, উন্নত গবেষণা ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।"
"জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, উন্নত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং দেশের গবেষণা সক্ষমতা জোরদারে এই অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীনের সাংহাই, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীন, অধ্যাপক লি গুওছিং, ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদের, ড. মো. আব্দুল মালেক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ সেপ্টেম্বর (চুক্তি স্বাক্ষর), ২১ সেপ্টেম্বর (অনুষ্ঠান), ৩ বছর (চুক্তির মেয়াদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!