📌 শেরপুর সীমান্তে ভারতের দেওয়া কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে পড়া প্রায় ১০০টি হাতিকে অবাধ চলাচলের সুযোগ দিতে সরকার ভারতকে অনুরোধ করবে। পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ৫৪ কিলোমিটার বেড়ার ৫-৬টি পয়েন্ট খুলে দেওয়া দরকার
শেরপুর সীমান্তে ভারতের দেওয়া কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে পড়া হাতিদের জন্য বাংলাদেশ সরকার ভারতকে অনুরোধ জানাবে। সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, হাতিদের অবাধ চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করতে সীমান্তের বেড়ার ৫ থেকে ৬টি পয়েন্ট খুলে দেওয়া দরকার। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ‘হাতির সুরক্ষা: বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এই কথা জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **শেরপুর সীমান্তে ১০০টিরও বেশি হাতি আটকে পড়েছে** ভারতের দেওয়া কাঁটাতারের বেড়ায়, যা ২০০৭ সাল থেকে চলমান সমস্যা।
- 📌 **ভারতকে অনুরোধ করা হবে ৫৪ কিলোমিটার বেড়ার ৫-৬টি পয়েন্ট খুলে দেওয়ার** জন্য, যাতে হাতির করিডোর সুবিধাজনক হয়।
- 📌 **মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা আর কত প্রজাতি বিলুপ্ত হতে দিতে পারি না’** — হাতি সংরক্ষণের জন্য দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন দরকার।
- 📌 **বনভূমি দখল ও খন্ডিত করিডোরের পুনরুদ্ধার** প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মাত্র ২ থেকে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের।
- 📌 **নেপাল ও থাইল্যান্ডের মতো বাংলাদেশেও হাতির নির্যাতন ও সার্কাসে ব্যবহার বন্ধের** দাবি উঠেছে।
- 📌 **বন বিভাগের বরাদ্দ বৃদ্ধি ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের** মাধ্যমে হাতির পুনর্বাসন পদ্ধতির সমালোচনা করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী নিয়ে আমার চিন্তার শেষ নাই। পৃথিবী থেকে বহু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আজকের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন হচ্ছে আমরা আর কত প্রজাতি বিলুপ্ত হতে দিতে পারি। মানুষ প্রকৃতির একটি অংশ হিসেবে বসবাস করতে চাইলে আমরা বন্যপ্রাণীর বিলুপ্তি হতে দিতে পারি না।’
২০০৭ সালে শেরপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ায় বাংলাদেশ অংশে গারো পাহাড়ে প্রায় ১০০টি হাতি আটকা পড়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে হাতি নিয়ে আমাদের সমঝোতা স্মারক আছে। আমরা চেষ্টা করব শেরপুর সীমান্তে হাতির করিডোরে ভারতের দেওয়া ৫৪ কিলোমিটার বেড়ার ৫ থেকে ৬টি পয়েন্ট খুলে দেওয়া যেন; যাতে হাতি অবাধে চলাচল করতে পারে।’ তিনি আশ্বস্ত করেন, ভারতের সঙ্গে পরবর্তী সভায় এই প্রস্তাব তোলা হবে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ রেজা খান বলেন, শুধু গাছপালা লাগিয়ে হাতির আবাসস্থল টিকিয়ে রাখা যাবে না। বনের কার্যকর প্রতিবেশব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি হাতিদের বনে ফেরানোর (রি-ওয়াইল্ডিং) ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক জোট (আইইউসিএন) বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারোয়ার আলম বলেন, বনভূমি দখলের কারণে হাতির খন্ডিত হয়ে যাওয়া করিডোর পুনরুদ্ধার শুরু করতে হবে। কিছু করিডোরের দূরত্ব মাত্র ২ থেকে ৭ কিলোমিটার।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বনে ইকোট্যুরিজমের নামে মানুষের অবাধ যাতায়াত আত্মঘাতী। তিনি বলেন, হাতির প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ, সার্কাসে ব্যবহার এবং চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, যা ইতিমধ্যে নেপাল ও থাইল্যান্ড করেছে। তিনি মনে করেন, বন বিভাগকে সামান্য রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়া গেলে তারা হাতি সুরক্ষায় সফল হবে।
বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন সংস্থা ‘অভয়ারণ্য’–এর প্রতিষ্ঠাতা রুবাইয়া আহমেদ সাফারি পার্কে হাতির রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেন, উদ্ধারের পরও পুনর্বাসনের নামে হাতির ওপর নির্যাতনমূলক পদ্ধতি এখনো বহাল আছে। তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে হাতির নিরাপদ পুনর্বাসনের প্রস্তাব দেন।
শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী বলেন, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয়দের বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রস্তাব দেন। বন অধিদপ্তরের বন সংরক্ষক আর এস এম মুনিরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে হাতির পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবি জানান।
"পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী নিয়ে আমার চিন্তার শেষ নাই। পৃথিবী থেকে বহু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আজকের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন হচ্ছে আমরা আর কত প্রজাতি বিলুপ্ত হতে দিতে পারি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরপুর সীমান্ত, গারো পাহাড়, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল আউয়াল মিন্টু (মন্ত্রী), রেজা খান (বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ), সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান (উপদেষ্টা), রুবাইয়া আহমেদ (অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠাতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০টি+ হাতি আটকে পড়া, ৫৪ কিলোমিটার বেড়া, ৫-৬টি পয়েন্ট খুলতে হবে, ২-৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের করিডোর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!