📌 চট্টগ্রামের হারবাং সংরক্ষিত বনে আইন লঙ্ঘন করে পাহাড় কাটা সড়ক নির্মাণ চলছে। এলজিইডি ও জাইকার অর্থায়নে ২৫ কোটি টাকার প্রকল্পে ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক তৈরি হচ্ছে, যা বন্য হাতির আবাসস্থল ও গর্জনগাছের ঝুঁকিতে পড়েছে। বন বিভাগের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সতর্কবার্তা জারি করেছেন, কিন্তু কাজ বন্ধ হয়নি
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উত্তর হারবাং সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে আইন লঙ্ঘন করে পাহাড় কাটা সড়ক নির্মাণ চলছে। গত রোববার বিকেলে দেখা গেল, উত্তর পাহাড়ের টিলা কেটে সড়কের সঙ্গে সমান করা হয়েছে। প্রায় ৬০০ ফুটজুড়ে ৫ থেকে ৯ ফুট উঁচু পাহাড় কাটা হয়েছে, যা বন্য হাতির আবাসস্থল ও গর্জনগাছের ঝুঁকিতে পড়েছে। এই প্রকল্পে ২৫ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে, যা বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অর্থায়ন করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের হারবাং সংরক্ষিত বনে ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণে আইন লঙ্ঘন: পাহাড় কাটা, গাছ কেটে সড়ক প্রসারিত হচ্ছে
- 📌 ৬০০ ফুটজুড়ে ৫ থেকে ৯ ফুট উঁচু পাহাড় কাটা হয়েছে, যা ১০ থেকে ১২ ফুট চওড়া — বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন
- 📌 বন বিভাগের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, বনে সড়ক নির্মাণের আইন লঙ্ঘন করলে জবরদখল ও বন্য প্রাণীর ঝুঁকি বাড়বে
- 📌 চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবীর হাসান ১৭ সেপ্টেম্বর চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু কাজ থামেনি
- 📌 চকরিয়ার মধুশিয়া গর্জনবন, সাতকানিয়ার বৈতরণি সংরক্ষিত বন ও মহেশখালীর শাপলাপুর সংরক্ষিত বনেও সড়ক নির্মাণের বিরুদ্ধে বন বিভাগের প্রতিবাদ
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উত্তর হারবাং ফরেস্ট অফিসের পাশ দিয়ে পূর্ব দিকে ঢুকে গেছে একটি সরু পথ। এই পথটি বন বিভাগের গেজেটভুক্ত সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়কে রূপ নিচ্ছে। প্রকল্পে ২৫ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে, যা বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অর্থায়ন করছে। তবে বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া কাজ শুরু করা হয়েছে।
গত রোববার বিকেলে দেখা গেল, উত্তর পাহাড়ের টিলা কেটে সড়কের সঙ্গে সমান করা হয়েছে। আধা কিলোমিটার এগিয়ে উত্তর করমুহুরীপাড়ায় আবার কাটা পাহাড় দেখা যায়। সাবানঘাটা সেতুর পর প্রায় ৬০০ ফুটজুড়ে পাহাড় কেটে চওড়া করা হয়েছে। কোথাও ৫ ফুট, কোথাও ৯ ফুট উঁচু পাহাড় কাটা হয়েছে, যা ১০ থেকে ১২ ফুট চওড়া। এই কাজে কাটা পড়েছে কয়েকটি গাছও।
বন বিভাগের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, আইন অনুযায়ী বনের ভেতর সড়ক নির্মাণের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বনের ভেতর সড়ক হলে জবরদখলসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়। তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। তবে নিষেধের পরও কাজ চলছে।
"আইন অনুযায়ী বনের ভেতর সড়ক নির্মাণের সুযোগ নেই। প্রতিটি সংস্থার এ আইন মেনে চলা উচিত। বনের ভেতর সড়ক হলে জবরদখলসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়।"
চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবীর হাসান গত ১৭ সেপ্টেম্বর চিঠি দিয়ে সংরক্ষিত বনের ভেতর কাজ বন্ধ করতে বলেছিলেন। তবে চিঠির পরও কাজ থামেনি। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরু পথ পাকা ও প্রশস্ত হলে বনের ভেতরে গাড়ি ও মানুষের প্রবেশ সহজ হবে। এতে গাছ চুরি, বন্য প্রাণী শিকার ও নতুন করে বনভূমি দখলের সুযোগ বাড়বে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের হারবাং সংরক্ষিত বন, চকরিয়া, কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ ফরিদুল ইসলাম (প্রতিমন্ত্রী, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়), মো. আবীর হাসান (চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা), মোহাম্মদ সোহেল রানা (বন কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ কোটি ৩ লাখ টাকা (প্রকল্প ব্যয়), ৫ কিলোমিটার (সড়ক দৈর্ঘ্য), ৬০০ ফুট (পাহাড় কাটা অংশ), ৫-৯ ফুট (পাহাড়ের উচ্চতা), ১০-১২ ফুট (পাহাড় কাটা অংশের চওড়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!