📌 ১০ম শতাব্দীর সুফি সাধক ইবনে আতার তার ৯ পুত্রের মৃত্যুর পরও হাসতে থাকেন। তার আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও অলৌকিক ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে ফরিদ উদ্দিন আত্তারের 'তাজকিরাত আল-আউলিয়া'-তে। ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ এ জে আরবেরির অনুবাদে এই ঘটনা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে
১০ম শতাব্দীর সুফি সাধক ইবনে আতার (আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাহল ইবনে আতা আল-আদামি) তার ৯ পুত্রের মৃত্যুর পরও অদ্ভুতভাবে হাসতেন। এই ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ফরিদ উদ্দিন আত্তারের 'তাজকিরাত আল-আউলিয়া'-তে, যা ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ এ জে আরবেরির অনুবাদে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইবনে আতার ছিলেন আল জুনায়েদ বাগদাদীর ঘনিষ্ঠ শিষ্য এবং বাগদাদের সুফি পরিমণ্ডলের বিশিষ্ট সদস্য।
- 📌 তিনি ৩০৯ হিজরি (৯২২ খ্রিষ্টাব্দে) মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন।
- 📌 তার ১০ পুত্রের মধ্যে ৯ জনকে ডাকাতরা হত্যা করলে তিনি হাসতে থাকেন এবং বলেন, 'পিতার পরান আমার'।
- 📌 তিনি দাবি করেন, 'আমরা যা চর্চা করি তা আমাদের কাছে অমূল্য, আর আমরা সাধারণ ভাষা ব্যবহার করতে চাইনি'।
- 📌 তার আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা ও কোরআন তিলাওয়াতের বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন 'তাজকিরাত আল-আউলিয়া'-তে।
📰 বিস্তারিত
ফরিদ উদ্দিন আত্তারের 'তাজকিরাত আল-আউলিয়া' ফারসি ভাষায় রচিত সুফিদের জীবনীভিত্তিক একটি গ্রন্থ। ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ এ জে আরবেরি এই বইটির সংক্ষিপ্ত সংস্করণ প্রকাশ করেন ১৯৬৬ সালে। বইটিতে ৩৮টি পর্বে সুফিসাধকদের জীবন ও তাদের অলৌকিক ঘটনাগুলো বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আতার সম্পর্কিত পর্বে তার জীবন ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
ইবনে আতার ছিলেন আল জুনায়েদ বাগদাদীর অন্যতম প্রধান শিষ্য। একদিন একদল লোক তার প্রার্থনাকক্ষে প্রবেশ করে দেখেন মেঝে পুরো ভিজে একাকার। ইবনে আতার বলেন, 'আমার একটা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আমি লজ্জাবনত অবস্থায় প্রার্থনাকক্ষটি চক্কর কেটেছি আর চোখের পানি ঝরিয়েছি।' তারা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, 'যখন আমি শিশু ছিলাম, আমি এক ব্যক্তির একটা কবুতর নিয়েছিলাম। সেই কথা আমার মনে পড়ে গেল। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমি তার মালিককে এক হাজার রৌপ্যমুদ্রা দিয়েছিলাম, তা সত্ত্বেও আমার বিবেক শান্ত হতে পারেনি।'
তিনি বলেন, 'আগে আমি প্রতি চব্বিশ ঘণ্টায় দু’বার পুরো কোরআন তিলাওয়াত করতাম। আর এখন চৌদ্দ বছর ধরে কোরআন তিলাওয়াত করছি, অথচ আজ আমি কেবল “গনিমতের সুরা” (সুরা আল-আনফাল) পর্যন্ত পৌঁছালাম।'
ইবনে আতার ১০ জন সুদর্শন পুত্র ছিল। একবার তারা পিতার সঙ্গে সফরে বেরিয়েছিল। এমন সময় ডাকাতরা তাদের ওপর আক্রমণ করে। প্রতিটি পুত্র নিহত হওয়ার পর ইবনে আতা কিছুই বলেন না, শুধু হাসতেন। দশম পুত্রকে হত্যা করার সময় তিনি বলেন, 'আমরা এমনটা করি কারণ এটা আমাদের কাছে মূল্যবান। আমরা যা চর্চা করি তা আমাদের কাছে অমূল্য, আর আমরা সাধারণ ভাষা ব্যবহার করতে চাইনি।'
"পিতার পরান আমার, যিনি এই কাজ করছেন, তাঁকে কিছু বলার সাধ্য তো কারও নেই। তিনি জানেন, এবং তিনি দেখছেন; তিনি যদি চান তো তাদের সবাইকে রক্ষা করতে সক্ষম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরাকের বাগদাদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুফি সাধক ইবনে আতার, আল জুনায়েদ বাগদাদী, ফরিদ উদ্দিন আত্তার, ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ এ জে আরবেরি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ পুত্রের মৃত্যু, ৩০৯ হিজরি (৯২২ খ্রিষ্টাব্দ), ১০ জন পুত্র, ৩৮টি পর্ব
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!