📌 ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তিস্তা নদীতে ভেসে যাওয়া মাত্র তিন-চার দিন বয়সী একটি হাতিশাবককে নর্থ বেঙ্গল ফিশারমেনস ফোরামের পাঁচ সদস্য উদ্ধার করেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা মা হাতির সাথে শাবকের পুনর্মিলন ঘটান। এছাড়াও, উত্তর প্রদেশে নেপাল সীমান্তে স্রোতের তোড়ে আটকা পড়া পাঁচটি হাতির দলকে বন কর্মকর্তারা বাঁচান
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গজলডোবা ব্যারাজ এলাকায় তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে মাত্র তিন-চার দিন বয়সী একটি হাতিশাবক ভেসে যাওয়ার বিপদ থেকে বাঁচানোর একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। নদীর প্রবল ঘূর্ণিতে দলছুট হয়ে পড়া ছোট্ট শাবকটিকে নর্থ বেঙ্গল ফিশারমেনস ফোরামের পাঁচ সদস্য উদ্ধার করে মা হাতির কাছে ফিরিয়ে দেয়। ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ সেপ্টেম্বর।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাত্র ৩-৪ দিন বয়সী হাতিশাবক তিস্তা নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়ার বিপদ থেকে বাঁচানো হয়।
- 📌 মিঠু দাস, রাজেশ দাস, বিশ্বনাথ দাস, গোপাল দাস ও বাবলু দাস নামের পাঁচজন জেলে নৌকাবাসী শাবকটিকে উদ্ধার করেন।
- 📌 বৈকুণ্ঠপুর বন বিভাগের কর্মকর্তা মুদিত কুমার জানান, শাবকটি মা হাতির কাছে ফিরে আসার পর মাতৃস্নেহের প্রমাণ দেয়।
- 📌 মা হাতি শাবককে পরম মমতায় কাছে টেনে নেয় এবং দুধ পান করায়।
- 📌 উত্তর প্রদেশে নেপাল সীমান্তের কড়িয়ালা নদীতে স্রোতের তোড়ে আটকা পড়া পাঁচটি হাতির দলকে বন কর্মকর্তারা বাঁচান।
📰 বিস্তারিত
তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে মাত্র তিন-চার দিন বয়সী একটি হাতিশাবক ভেসে যাওয়ার বিপদ থেকে বাঁচানোর একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গজলডোবা ব্যারাজ এলাকায়। মা হাতিটি স্রোতের উজানে আটকা পড়লেও, ছোট্ট শাবকটি প্রায় চার কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে যায়। মৃত্যুর সঙ্গে তার দূরত্ব মাত্র কয়েক মুহূর্তের ছিল। ঠিক তখনই নদীর বুকে ত্রাতা হয়ে হাজির হয় একটি ছোট জেলে নৌকা। নর্থ বেঙ্গল ফিশারমেনস ফোরামের পাঁচ সদস্য — মিঠু দাস, রাজেশ দাস, বিশ্বনাথ দাস, গোপাল দাস এবং বাবলু দাস — দূর থেকে শাবকটির শুঁড় ভাসতে দেখে বিপদের আঁচ পান।
নৌকাবাসীরা ক্রান্তি-পাঞ্জাব বাঁধ থেকে প্রায় তিন মাইল পথ পাড়ি দেন। শাবকটি তখন চরম ক্লান্ত এবং জীবনের শেষ বিন্দু দিয়ে খাবি খাচ্ছিল। মৎস্যজীবীরা পরম যত্নে শাবকটিকে জল থেকে টেনে নৌকায় তুলেন। কিন্তু শাবকটির অবস্থা ছিল সম্পূর্ণ নিঃশেষিত। নৌকাটি তীরে পৌঁছানোর পর শাবকটিকে শুকনা ডাঙায় নামিয়ে দেওয়া হয়। সাময়িক বিশ্রাম পেয়ে সে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে।
বন বিভাগের কর্মকর্তা মুদিত কুমার জানান, উদ্ধারকারীদের মনে ছিল মানুষের দীর্ঘক্ষণ স্পর্শের কারণে মা হাতিটি শাবককে প্রত্যাখ্যান করতে পারে। কিন্তু মাতৃস্নেহের শক্তি সবকিছুকে হারিয়ে দেয়। ডাঙায় নামার পর শাবকটি গুটিগুটি পায়ে মায়ের দিকে এগিয়ে যায়। মা হাতিটি কোনো দ্বিধা ছাড়াই সন্তানকে পরম মমতায় কাছে টেনে নেয় এবং দুধ পান করায়। বর্তমানে উভয়েই বন বিভাগের নিরাপদ নজরদারিতে রয়েছে।
এই ঘটনা বৈকুণ্ঠপুর বন বিভাগের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এখানে এশিয়ান হাতি, চিতা বাঘ এবং নানা প্রজাতির পাখির সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়াও, গত আগস্ট মাসের শেষের দিকে উত্তর প্রদেশের নেপাল সীমান্তের কড়িয়ালা নদীতে পাঁচটি হাতির একটি দল স্রোতের তোড়ে আটকা পড়ে। তিনটি পূর্ণবয়স্ক ও দুটি শাবক নিয়ে গঠিত দলটি যখন ব্যারাজের দিকে ভেসে যাচ্ছিল, তখন কাতারনিয়াঘাট বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যের রেঞ্জ কর্মকর্তারা স্রোতের গতি কমানোর জন্য একটি গেট বন্ধ করে দেন। পূর্ণবয়স্ক হাতিগুলো তাদের শরীর দিয়ে ঢাল তৈরি করে শাবকদের নিরাপদে তীরে তুলে আনে।
"বন্য প্রাণীদের বিপদে মানুষের এমন মমত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে আসার ঘটনা মন ভালো করে দেয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গজলডোবা ব্যারাজ (পশ্চিমবঙ্গ, ভারত), কড়িয়ালা নদী (উত্তর প্রদেশ, নেপাল সীমান্ত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিঠু দাস, রাজেশ দাস, বিশ্বনাথ দাস, গোপাল দাস, বাবলু দাস, মুদিত কুমার, বন বিভাগের কর্মকর্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩-৪ দিন বয়স, ৪ কিলোমিটার, ৫ সদস্য, ৩ মাইল, ৫টি হাতি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!