📌 চট্টগ্রামে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবস্থানকালে ৫৯% শিশু হামে সংক্রমিত হয়েছে। গবেষণায় ১৯৬ শিশুর মধ্যে ১৭টি নমুনায় বি৩ জিনোটাইপ হাম ভাইরাস শনাক্ত হয়। টিকা না নেওয়া শিশুদের জটিলতা ও মৃত্যুর হার বেশি
চট্টগ্রামে হামের সংক্রমণ নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছে এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবস্থানকালে ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু হামে সংক্রমিত হয়েছে। এ তথ্য উপস্থাপন অনুষ্ঠানে মুখ্য গবেষক কামরুন নাহার জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামে ৩০০টি নমুনা বিশ্লেষণে ১৯৬টি শিশু ও ১০৪টি মা-শিশু নমুনা সংগ্রহ করা হয়
- 📌 ১৯৬ শিশুর মধ্যে ৮৫ দশমিক ২ শতাংশ টিকা নেওয়া ছিল না, ৪৬ শতাংশ নির্ধারিত বয়স পৌঁছায়নি
- 📌 ৫১ শিশু (৩১ শতাংশ) মাঝারি-তীব্র অপুষ্টির শিকার, যা জটিলতার প্রধান কারণ
- 📌 ৮৭ শতাংশ শিশু নিউমোনিয়া সহ বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত, ৭৮ দশমিক ১ শতাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত
- 📌 টিকা নেওয়া শিশুদের তুলনায় টিকা না নেওয়া শিশুদের জটিলতা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দ্বিগুণ
- 📌 ৫৩ শতাংশ শিশুর হাম অত্যন্ত গুরুতর ছিল, ৭ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 গবেষণা সুপারিশ: টিকা দেওয়ার বয়স ৬ মাসে নামানো, টিকার আওতা ৯৫ শতাংশের বেশি করা
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত গবেষণা ফলাফল উপস্থাপনে মুখ্য গবেষক কামরুন নাহার জানান, ৩০০টি নমুনার মধ্যে ১৯৬টি শিশু ও ১০৪টি মা-শিশু নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনাগুলো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় ১৭টি শিশুর নমুনায় জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়, যেখানে শনাক্ত হয় বি৩ জিনোটাইপ হাম ভাইরাস।
গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৬ শিশুর মধ্যে ১৬৭ শিশু (৮৫ দশমিক ২ শতাংশ) টিকা নেওয়া ছিল না। এর মধ্যে ৪৬ শতাংশ শিশু নির্ধারিত বয়সে টিকা নিতে পারেনি। অন্যদিকে, নির্ধারিত বয়সে টিকা নেওয়ার পরেও ৫২ শতাংশ শিশুর পরিবার সচেতনতার অভাব বা টিকা দেওয়ার তারিখ ভুলে যাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অপুষ্টি হামের জটিলতায় প্রধান ভূমিকা পালন করছে। গবেষণায় ৫১ শিশু (৩১ শতাংশ) মাঝারি বা তীব্র অপুষ্টির শিকার ছিল। এই অপুষ্টি শিশুদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ গ্রামীণ এলাকা থেকে এসেছে এবং ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশ নিম্ন আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবার থেকে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, টিকা নেওয়া শিশুদের তুলনায় টিকা না নেওয়া শিশুদের গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় দ্বিগুণ। টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে কোনো মৃত্যু হয়নি। তবে, টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে ৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া, মাত্র ৩২ দশমিক ১ শতাংশ শিশু আগের ছয় মাসে ভিটামিন এ ক্যাপসুল পেয়েছিল। ভিটামিন এ ক্যাপসুল না পাওয়া শিশুদের ৫৯ শতাংশের গুরুতর জটিলতা দেখা গেছে।
"হাম প্রতিরোধের দুটি বড় উপায় হলো টিকাদান ও আক্রান্ত রোগীকে পৃথক রাখা। হাসপাতালের পাশাপাশি বাড়িতেও আক্রান্ত রোগীকে পৃথক রাখতে হবে।"
গবেষণা সুপারিশ করেছে, টিকার পরিধি বাড়ানোর জন্য নিয়মিত টিকাদানের আওতা ৯৫ শতাংশের বেশি করার প্রয়োজন। এছাড়া, ৪৬ শতাংশ শিশু ৯ মাস বয়সের আগেই হামে আক্রান্ত হওয়ায়, গবেষক দল হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার বয়স ৬ মাসে নামানোর সুপারিশ করেছে। তবে, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক সেখ ফজলে রাব্বি বলেছেন, ছয় মাস বয়সে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ জন্য বড় ধরনের অর্থায়ন প্রয়োজন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামরুন নাহার (মুখ্য গবেষক), শাহাদাত হোসেন (মেয়র), সেখ ফজলে রাব্বি (বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক), মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন (অধ্যক্ষ), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন (চমেক হাসপাতাল পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৯.৪% (হাসপাতালে সংক্রমিত শিশু), ১৯৬ (শিশু নমুনা), ৮৫.২% (টিকা নেওয়া শিশু), ৩১% (অপুষ্টির হার), ৮৭% (জটিলতা হার), ৭৮.১% (নিউমোনিয়া আক্রান্ত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!