📌 হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ছড়া ও পুকুরগুলো বিলীন হবার পথে। ৬০০ একর জুড়ে বিস্তৃত এই বনের ২০০ প্রজাতির গাছ ও ১৯৭ প্রজাতির জীবজন্তু বিপদে পড়েছে। অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন ও ভূমিক্ষয়ই মূল কারণ। বিশেষজ্ঞরা পুকুর সংস্কার ও নতুন পুকুর খননের দাবি করছেন
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে। এই ৬০০ একর বিস্তৃত বনের পুকুর ও ছড়াগুলো বিলীন হবার পথে। প্রাকৃতিক জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বনের বাস্তুতন্ত্রের ভিত্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানা গেছে, সাতটি ছড়ার মধ্যে চারটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে। বাকি তিনটি দৃশ্যমান হলেও পানির প্রবাহ নেই। বালু ও পলিমাটিতে ভরাট হয়ে যাওয়া পুকুরগুলো বনের জীবজন্তুদের খাদ্য ও পানির উৎস হারিয়ে ফেলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬০০ একর বিস্তৃত সাতছড়ি বনে ২০০ প্রজাতির গাছ ও ১৯৭ প্রজাতির জীবজন্তু রয়েছে
- 📌 ৪টি ছড়া বিলীন, বাকি ৩টি পানিহীন — বনের জলাশয়গুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে
- 📌 অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন ও ভূমিক্ষয় পুকুরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করছে
- 📌 বিপন্ন প্রাণী লোকালয়ে আসতে বাধ্য — শিকারিদের কবলে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে
- 📌 বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন পুকুর সংস্কার ও নতুন পুকুর খননের প্রয়োজন
📰 বিস্তারিত
সাতছড়ি বনকে বাংলাদেশের একটি অন্যতম পরিবেশগত অভয়ারণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বর্তমানে এই বনের পুকুর ও ছড়াগুলো বিলীন হবার পথে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানা গেছে, বনের চারটি ছড়া সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে। বাকি তিনটি ছড়া দৃশ্যমান হলেও পানির প্রবাহ নেই। পুকুরগুলো বালু ও পলিমাটিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বনের জীবজন্তুদের খাদ্য ও পানির উৎস হারিয়ে ফেলেছে।
বনের বাস্তুতন্ত্রের ভিত্তি এই জলাধারগুলো। পুকুরগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রাণীদের খাদ্যের জোগান সংকটে পড়েছে। তৃষ্ণা মেটাতে বিপন্ন প্রাণীগুলো লোকালয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। এতে শিকারিদের কবলে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে প্রাণীদের সংঘাতের শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হলে গাছগাছালিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বনের আশপাশের এলাকা থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন এবং ভূমিক্ষয় এই জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাতছড়ি বনের পুকুরগুলো সংস্কার করার পাশাপাশি বনের পরিবেশ ক্ষতি না করে আরও কয়েকটি পুকুর খনন করা দরকার। পুকুরগুলোর পাড় ঢালু করে প্রাণীদের পানির কাছে সহজে পৌঁছাতে সহায়তা করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখা দরকার যে বিকল্প পানির উৎসের সন্ধান করতে গিয়ে বনের স্বাভাবিক পরিবেশকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া না হয়।
"সাতছড়িকে বাঁচাতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের মতো কাজগুলো পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চুনারুঘাট উপজেলা, হবিগঞ্জ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: বিশেষজ্ঞরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০০ একর (বনের আয়তন), ২০০ প্রজাতির গাছ, ১৯৭ প্রজাতির জীবজন্তু
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!