📌 হৃৎপিণ্ডের পরিচিত প্রতীকটি কেন দেখতে আসল হৃৎপিণ্ডের মতো নয়? গবেষণা প্রকাশ করেছে যে প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকদের বর্ণনা ও রক্তনালির আকৃতির মিলের পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক সত্য
হৃৎপিণ্ডের প্রতীকটি কেন দেখতে আসল হৃৎপিণ্ডের মতো নয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রাচীনকালের একটি অদ্ভুত সত্য আবিষ্কার করেছেন। শিশুদের কাছে পরিচিত এই চারপাশে প্রচলিত প্রতীকটি আসলে কোথা থেকে এসেছে এবং কেন এটি হৃদয়কে প্রতিনিধিত্ব করে না, তা নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল ও তাঁর বর্ণনা থেকে উদ্ভূত এই প্রতীকটি ১৩ শতাব্দীতে প্রথম চিত্রিত হয়
- 📌 উত্তর আফ্রিকার সিলফিয়াম নামের একটি বিলুপ্ত উদ্ভিদের পাতার আকৃতি থেকে এই প্রতীকটির উৎপত্তি হতে পারে বলে মনে করা হয়
- 📌 ১৯৫০-এর দশকে বিজ্ঞানীরা মৃতদেহের মহাধমনিতে প্লাস্টিক প্রবেশ করিয়ে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালির আকৃতির মিল খুঁজে পান
- 📌 আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মাধ্যমে জানা যায়, হৃৎপিণ্ডের রক্তনালির শাখা-প্রশাখার আকৃতি হুবহু প্রতীকটির মতো
- 📌 প্রাচীন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা সম্ভবত প্লাস্টার ব্যবহার করে মৃতদেহের রক্তনালির ছাঁচ তৈরি করেছিলেন বলে অনুমান করা হয়
📰 বিস্তারিত
ছোট শিশুদের কাছে হৃৎপিণ্ডের প্রতীকটি একটি পরিচিত চিত্র। কিন্তু বিজ্ঞান বইয়ে দেখলে বুঝতে পারা যায়, আসল হৃৎপিণ্ডের গঠন সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে এই কাল্পনিক প্রতীকটি কেন প্রচলিত হয়েছে এবং কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছে। গবেষণাটি ‘জার্নাল অব ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন ইন মেডিসিন’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, এই প্রতীকটির উৎপত্তি প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকদের হাত ধরে। বিশেষ করে অ্যারিস্টটলের বর্ণনা থেকে এই প্রতীকটি বিকশিত হয়। তবে অন্য একটি তত্ত্ব অনুযায়ী, উত্তর আফ্রিকার উপকূলে জন্মানো সিলফিয়াম নামের একটি বিলুপ্ত উদ্ভিদের পাতার আকৃতি থেকে এই প্রতীকটির উৎপত্তি হতে পারে। প্রাচীন গ্রিক ও রোমানরা এই উদ্ভিদের চিকিৎসা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করতেন।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রতীকটি হৃৎপিণ্ডের আসল গঠনের সাথে কোনো মিল নেই। তবে এটি মূলত আবেগ ও স্নেহের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৫ ও ১৬ শতকে জনপ্রিয় হওয়া এই প্রতীকটির পেছনে একটি বৈজ্ঞানিক সত্য লুকিয়ে ছিল, যা বিজ্ঞানীরা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে আবিষ্কার করেন।
১৯৫০-এর দশকে বিজ্ঞানীরা মৃত মানুষের মহাধমনিতে প্লাস্টিক প্রবেশ করিয়ে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালির মডেল তৈরি করেন। সেই প্লাস্টিকের ছাঁচ শুকিয়ে বের করার পর দেখা যায়, তা দেখতে হৃৎপিণ্ডের সেই পরিচিত প্রতীকের মতোই। এর কয়েক দশক পর, করোনারি ধমনিতে বিশেষ রঞ্জক ব্যবহার করে এক্স-রে পরীক্ষার নতুন পদ্ধতি চালু হয়। এই পদ্ধতিতে জানা যায়, হৃৎপিণ্ডের রক্তনালির শাখা-প্রশাখার আকৃতি হুবহু প্রতীকটির মতো।
"হৃৎপিণ্ডের ডান ও বাম উভয় ধমনিতে একসঙ্গে রঞ্জক পদার্থ পাঠালে রক্তপ্রবাহের পুরো চিত্রটি ফুটে ওঠে। রক্তনালির এই শাখা-প্রশাখাগুলোর সম্মিলিত দৃশ্য আর আমাদের চেনা হৃৎপিণ্ডের প্রতীকের আকৃতি হুবহু এক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্রাচীন গ্রিস, উত্তর আফ্রিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডাচ নিউরোসার্জন পিয়েরে ভিঙ্কেনের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ শতাব্দী, ১৫-১৬ শতক, ১৯৫০-এর দশক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!