📌 বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বুকের ব্যথা গ্যাস্ট্রিক মনে করে সময় নষ্ট করা বিপজ্জনক। হার্ট অ্যাটাকের পর দ্রুত চিকিৎসা না পেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। চিকিৎসা অবকাঠামো ও জনবল সংকটের পাশাপাশি রোগীদের দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছানো হৃদ্রোগের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে
বুকের ব্যথা বা শারীরিক অস্বস্তি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মনে করে অ্যান্টাসিড খেয়ে ঘরে বসে থাকা বিপজ্জনক। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হার্ট অ্যাটাকের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টাই রোগীর জীবন বাঁচাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিভাগের বিশেষজ্ঞরা এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হার্ট অ্যাটাকের পর প্রথম ৪ ঘণ্টা রোগীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — এই সময়ে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে হৃৎপেশি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বা মৃত্যু ঘটতে পারে।
- 📌 বাংলাদেশের বাস্তবতা: ভৌগোলিক দূরত্ব ও যানজটের কারণে অনেক রোগী দ্রুত পিসিআই (পোস্ট করোনারি ইন্টারভেনশন) কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন না।
- 📌 হৃদ্রোগের ঝুঁকি: দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর তুলনামূলক কম বিএমআই থাকলেও অতিরিক্ত পেট চর্বি, কম বয়সে ডায়াবেটিস ও উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইডের কারণে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বেড়েছে।
- 📌 হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ: বুকের মাঝখানে চাপ, হাত বা থুতনিতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, অতিরিক্ত ঘাম, বমি ভাব — তবে নারী, প্রবীণ ও ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা ছাড়াও হাতে ঝিমঝিম, মাথা হালকা লাগা বা হঠাৎ ঘাম হতে পারে।
- 📌 প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: শৈশব থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হাঁটা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং টেলিমেডিসিনভিত্তিক রেফারেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দাবি তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিভাগ এবং প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে আজ শনিবার গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাংলাদেশে হৃদ্রোগের চিকিৎসাসেবায় অবকাঠামো ও জনবলসংকটের পাশাপাশি রোগীদের দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছানো, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হৃদ্রোগের প্রধান ঝুঁকি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) হৃদ্রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশীষ দে বলেছেন, অ্যাকিউট হার্ট অ্যাটাকে রক্তনালির ব্লক দ্রুত খুলতে প্রাইমারি পিসিআই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চিকিৎসাপদ্ধতি। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় ভৌগোলিক দূরত্ব ও যানজটের কারণে অনেক রোগী দ্রুত পিসিআই কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন না। তিনি বলেন, "হার্ট অ্যাটাকের পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম।"
চমেকের হৃদ্রোগ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এ কে এম মনজুর মোরশেদ দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "তুলনামূলক কম বিএমআই থাকলেও এ অঞ্চলের মানুষের পেটে অতিরিক্ত চর্বি, কম বয়সে ডায়াবেটিস, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড ও কম ভালো কোলেস্টেরলের কারণে হৃদ্রোগের ঝুঁকি রয়েছে।" তিনি নিয়মিত হাঁটাকে হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখার সহজ ও কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
চমেকের হৃদ্রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ নূর উদ্দিন তারেক হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ নিয়ে সাধারণ মানুষের ভুল ধারণা দূর করেন। তিনি বলেন, "বুকের মাঝখানে চাপ, জ্বালাপোড়া বা ভারী অনুভূতি, হাত বা থুতনিতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, অতিরিক্ত ঘাম ও বমি ভাব হার্ট অ্যাটাকের পরিচিত লক্ষণ। তবে নারী, প্রবীণ ও ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা ছাড়াও হাতে ঝিমঝিম, মাথা হালকা লাগা, সামান্য অস্বস্তি বা হঠাৎ ঘামের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।"
বৈঠকে হৃদ্রোগের আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে ভুল ধারণা দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন সহযোগী অধ্যাপক কাজী শামীম আল মামুন। তিনি বলেন, "এনজিওগ্রাম মূলত রক্তনালির ভেতরের ব্লক শনাক্ত করার একটি পরীক্ষাপদ্ধতি। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লক চিকিৎসায় স্টেন্ট বা অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করা হয়।"
"সব ব্যথা গ্যাস্ট্রিকের নয়। হার্ট অ্যাটাকের পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের হৃদ্রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশীষ দে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক আশীষ দে, এ কে এম মনজুর মোরশেদ, মোহাম্মদ নূর উদ্দিন তারেক, কাজী শামীম আল মামুন, বিশ্বজিৎ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪:৪৯ (বৈঠকের সময়), ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!