📌 বাংলাদেশের শীর্ষ কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন বলেছেন, হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ছে তরুণদের মধ্যে। তিনি জীবনাচার পরিবর্তন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং দ্রুত চিকিৎসার গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন
বাংলাদেশে হৃদ্রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে এবং তরুণদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কার্ডিওভাসকুলার অ্যান্ড স্ট্রোক সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন। তিনি বলেছেন, হৃদ্রোগের প্রধান ঝুঁকি হলো উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনাচার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ছে তরুণদের মধ্যে** — অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন বলেছেন, কম বয়সেই হৃদ্রোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা আগের তুলনায় বেশি উদ্বেগজনক।
- 📌 **জীবনাচার পরিবর্তন দরকার** — স্কুলে শারীরিক শিক্ষা কমে যাওয়ায়, মাঠের সুযোগ হ্রাস পেয়েছে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ বাড়ছে।
- 📌 **ধূমপান ও স্থূলতা হৃদ্রোগের প্রধান কারণ** — তরুণদের মধ্যে ধূমপান, ভ্যাপিং এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।
- 📌 **হাসপাতালে দেরি করে রোগীরা চিকিৎসা নিতে** — অনেকেই বুকব্যথা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মনে করে ওষুধ খেয়ে অপেক্ষা করেন, ফলে হার্ট অ্যাটাকের ‘গোল্ডেন আওয়ার’ হারিয়ে যায়।
- 📌 **দ্রুত চিকিৎসা জরুরি** — হার্ট অ্যাটাকের প্রথম ২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে রক্তনালি খুলে দেওয়া এবং স্টেন্ট পরানো রোগীর জীবন বাঁচাতে পারে।
📰 বিস্তারিত
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশে হৃদ্রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। একসময় সংক্রামক রোগই মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে এসব রোগের প্রকোপ কমেছে। এর পরিবর্তে অসংক্রামক রোগ যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদ্রোগ বেড়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, আগে হৃদ্রোগকে বয়স্কদের রোগ মনে করা হতো, কিন্তু এখন তরুণদের মধ্যেও এই রোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেছেন, হার্ট অ্যাটাকের শুরুতে আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। তবে দ্রুত চিকিৎসায় অনেক রোগী সুস্থ হন। তিনি দাবি করেছেন, প্রতিরোধ ও দ্রুত চিকিৎসায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশে কম বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক। এর প্রধান কারণ হলো জীবনাচার। স্কুলে শারীরিক শিক্ষা কমে যাওয়ায়, শহরে মাঠের সুযোগ হ্রাস পেয়েছে। স্কুল-কলেজের ক্যানটিনে ভাজাপোড়া ও অস্বাস্থ্যকর খাবার সহজলভ্য। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও গেমে দীর্ঘ সময় বসে থাকায় শারীরিক কার্যক্রম কমছে। ফলে ওজন ও কোলেস্টেরল বাড়ছে। ধূমপানও ঝুঁকি বাড়ায়।
অধ্যাপক ডা. সফিউদ্দিন বলেছেন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, স্থূলতা ও ধূমপান হৃদ্রোগের প্রধান ঝুঁকি। তিনি বলেছেন, খাদ্যাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি ও লবণ উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত চর্বি, বিশেষ করে ট্রান্স ফ্যাট, ক্ষতিকর। শারীরিক কার্যক্রম কমলে স্থূলতা বাড়ে, যা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি বলেছেন, ধূমপান, তামাক ও মাদক বন্ধ করা, অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা সম্ভব।
তিনি বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন দরকার। ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও শরীরের যত্নের ব্যবহারিক শিক্ষা দিতে হবে। শারীরিক কার্যক্রম ও মাঠের সুযোগ বাড়াতে, মোবাইল-ল্যাপটপে দীর্ঘ সময় বসে থাকা কমাতে হবে। ধূমপান, ভ্যাপিং ও মাদক বন্ধে পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে কাজ করতে হবে। জাঙ্কফুড, অতিরিক্ত তেল, চিনি ও লবণযুক্ত খাবার গ্রহণ কমাতে হবে। মানসিক চাপ এবং ঘুমেও গুরুত্ব দিতে হবে। ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
"আমাদের দেশে বুকব্যথা হলে অনেকেই প্রথমে সেটিকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মনে করেন। অনেকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে অপেক্ষা করেন। সব বুকব্যথা হার্ট অ্যাটাক নয়, কিন্তু নতুন বা অস্বাভাবিক বুকব্যথাকে গুরুত্ব দিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ ঘণ্টা (গোল্ডেন আওয়ার), ৬-৮ ঘণ্টা (ঘুমের প্রয়োজন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!