📌 মাটির ভাস্কর হরিপদ পালের জীবনই তার শিল্পের পরিচয়। ঢাকার শাঁখারীবাজারে তার প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি হয় অসংখ্য প্রতিমা। তিনি মাটিকে অস্বীকার করেন না, কারণ স্রষ্টাকে অস্বীকার করা মানে মাটিকে অস্বীকার করা
মাটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক জীবনের গল্প হরিপদ পালের। এই সত্তরোর্ধ্ব শিল্পী নিজের জীবনকে সৃষ্টির কর্মশালায় রূপান্তর করেছেন। ঢাকার শাঁখারীবাজারে তার প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি হয় অসংখ্য প্রতিমা, ভাস্কর্য ও শিল্পকর্ম। তিনি মাটিকে অস্বীকার করেন না, কারণ মাটি মানুষের জন্মদাতা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকার শাঁখারীবাজারে অবস্থিত হরিপদ পালের প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি হয়েছে অসংখ্য প্রতিমা ও ভাস্কর্য, যা জাতীয় জাদুঘর থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পে ছড়িয়ে আছে
- 📌 শৈশবে দাদুর হোঁচট খাওয়ার দৃশ্য দেখে মাটির ভেতর সেই অনুভূতি বন্দী করার স্বপ্ন জাগে হরিপদ পালের
- 📌 কলকাতার বিখ্যাত কুমারটুলীতে কাজ করার সময় মাটির বৈশিষ্ট্য ও প্রতিমার গড়নে বিশেষতা অর্জন করেন
- 📌 মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে ফিরে আসেন বাংলাদেশে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে দীর্ঘ শিল্পযাত্রা শুরু করেন
- 📌 জীবনের কষ্টের মধ্যেও তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ কাজে থাকি, ততক্ষণই আমার আনন্দ’
- 📌 আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ থেকে
📰 বিস্তারিত
হরিপদ পালের জীবনই তার শিল্পের পরিচয়। তিনি নিজের কথা খুব বেশি বলেন না, তাঁর হয়ে কথা বলে তাঁর সৃষ্টি। ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার কুড়লিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। গ্রামবাংলার মাটি, মানুষ আর লোক-ঐতিহ্য তাঁর শিল্পভাবনার ভিত্তি হয়ে ওঠে। বড় হয়েছেন এক শিল্পী পরিবারে। তিন ভাই, চার বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। লেখাপড়া করেছেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত, কিন্তু তাঁর প্রকৃত শিক্ষক ছিলেন তাঁর দাদু ও বাবা। শৈশবে দাদুর হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খাওয়ার দৃশ্য দেখে ছোট্ট হরিপদের মনে হয়েছিল, সেই মুখটাকে যদি মাটির ভেতর বন্দী করা যেত!
প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই তিনি দাদুর পাশে বসে প্রতিমা গড়ার কাজ দেখতেন। বাবা চাইতেন লেখাপড়া করে অন্য পেশায় যান, কিন্তু দাদু তাঁকে ডাকতেন, ‘আয়, কাজ করি’। সেই ডাকে সাড়া দিতে দিতে মাটির সঙ্গে তাঁর আজীবনের বন্ধন গড়ে ওঠে। কৈশোরে ঢাকায় আসেন তিনি এবং লোকশিল্প নিয়ে কাজ শুরু করেন। বুলবুল ললিতকলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত হন। শিল্পকলার শিক্ষক, শিল্পী, ভাস্করদের সান্নিধ্য পেয়ে শিল্পের প্রতি তাঁর তৃষ্ণা আরো বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শিল্পী মরণচাঁদ পালের সান্নিধ্য তাঁর শিল্পীজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
একসময় তিনি পাড়ি জমান কলকাতার বিখ্যাত কুমারটুলীতে। সেখানে দীর্ঘ সময় কাজ করে মাটির বৈশিষ্ট্য, প্রতিমার গড়ন, অঙ্গসৌষ্ঠব ও মুখের সৌন্দর্য সৃষ্টিতে বিশিষ্টতা অর্জন করেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে ফিরে আসেন বাংলাদেশে। তারপর থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতেই গড়ে তুলেছেন তাঁর দীর্ঘ শিল্পযাত্রা।
হরিপদ পালের জীবনে কষ্টও কম আসেনি। তাঁর বড় মেয়ে নিউমোনিয়ায় মারা গেছেন। করোনাকালে হারিয়েছেন একমাত্র ছেলেকে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ স্ত্রীকে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়ান ও সেবা করেন। দিনের পর দিন রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করে বাড়ি ফিরে সংসারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তারপর গভীর রাতে ঘুমাতে যান। কিন্তু কখনো অভিযোগ করেন না। বরং বলেন, ‘যতক্ষণ আমি কাজে থাকি, ততক্ষণই আমার আনন্দ’। অর্থ তাঁর কাছে কখনো বড় হয়ে ওঠেনি। সম্মান, সততা ও আত্মমর্যাদাই ছিল তাঁর জীবনের মূলধন।
"আপনারা কৃপা করে আমাকে যে সম্মানিত করলেন, তাতে আমি খুবই আনন্দিত। মনের আনন্দেই সারা জীবন কাজ করেছি। প্রার্থনা করি, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন কাজ করে যেতে পারি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার শাঁখারীবাজার, আশুলিয়ার কুড়লিয়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হরিপদ পাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ টা (রাত পর্যন্ত কাজ করে বাড়ি ফিরে আসেন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!