📌 কক্সবাজারের হারবাং সংরক্ষিত বনে দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণে পাহাড় কাটার ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মোমিনুল হক ও এলজিইডিকে ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে অর্থ জমা না দিলে মামলা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
কক্সবাজারের হারবাং সংরক্ষিত বনে দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণে পাহাড় কাটার ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মোমিনুল হক ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)কে ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। গত বুধবার পরিবেশ অধিদপ্তরের শুনানির পর এই অর্থ সাত কর্মদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুনানিতে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) লঙ্ঘনের জন্য এই জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কক্সবাজারের হারবাং সংরক্ষিত বনে পাহাড় কাটার ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে
- 📌 সাত কর্মদিবসের মধ্যে অর্থ জমা না দিলে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
- 📌 দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার অংশ সংরক্ষিত বনের ভেতর পড়ে
- 📌 প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার ও জাপানের জাইকা
- 📌 বন বিভাগের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছেন, পাকা সড়ক হলে বনভূমি জবরদখল ও বন্য প্রাণী শিকার ঝুঁকি বাড়বে
📰 বিস্তারিত
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের হারবাং সংরক্ষিত বনে দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণের সময় পাহাড় কাটা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এলজিইডি, এবং নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোমিনুল হক। শুনানিতে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী পাহাড় কাটার ঘটনায় পরিবেশগত ক্ষতি নিরূপণ করে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, বনের ভেতর সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করা হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণের টাকাও পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের আদেশ অনুযায়ী অর্থ জমা দেওয়ার জন্য এখনও সময় বাকি রয়েছে।
২ অক্টোবর প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের উত্তর হারবাং ফরেস্ট অফিস থেকে কোরবানিয়াঘোনা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ করছে এলজিইডি। এই সড়কটির নির্মাণে ব্যয় প্রায় ২৫ কোটি ৩ লাখ টাকা। এতে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার ও জাপানের জাইকা। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সড়কটির প্রায় চার কিলোমিটার অংশ গেজেটভুক্ত সংরক্ষিত বনের ভেতর পড়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর বন বিভাগের নজরে এসেছিল পাহাড় কাটার ঘটনা। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবীর হাসান চিঠি দিয়ে এলজিইডিকে সংরক্ষিত বনের ভেতর কাজ বন্ধ করতে বলেছিলেন। কিন্তু কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পাঁচ দিন পরও সেখানে পাহাড় কাটতে দেখা যায়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছেন, সংরক্ষিত বনের ভেতর পাকা সড়ক হলে মানুষের প্রবেশ ও যানবাহন চলাচল বাড়বে। এতে বনভূমি জবরদখল, গাছ চুরি ও বন্য হাতির চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
"পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। হারবাংয়ের এই সড়ক এলজিইডির ‘দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার, হারবাং সংরক্ষিত বন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পরিচালক জমির উদ্দিন, প্রকল্প পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম, ঠিকাদার মোমিনুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা, ২৫ কোটি ৩ লাখ টাকা প্রকল্প ব্যয়, ৪ কিলোমিটার সংরক্ষিত বনের অংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!