📌 বড়লেখার হাল্লা গ্রামে অবস্থিত মনোহর আলী মাস্টারের বাড়িটি ‘পাখিবাড়ি’ নামে পরিচিত। এই পরিবার ২০০৯ সাল থেকে পাখিদের আশ্রয় দিচ্ছে, কিন্তু বর্তমানে তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের বিলম্ব ও পরিবেশগত চাপের কারণে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন
বাংলাদেশের হাকালুকি হাওরের হাল্লা গ্রামে অবস্থিত একটি বাড়ি পাখিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। এই ‘পাখিবাড়ি’-তে বসবাসকারী আক্তার আহম্মদ শিবু ও তাঁর ভাই স্বপন ২০০৯ সাল থেকে পাখিদের সঙ্গে বসবাস করছেন। ২৯ আগস্ট এই অনন্য পরিবেশ পরিদর্শন করে জানা গেছে, বাড়ির চারপাশে পানকৌড়ি ও বক পাখিরা নিরাপদে আশ্রয় নিচ্ছে, কিন্তু পরিবেশগত চাপ ও প্রকল্পের বিলম্ব তাদেরকে হতাশ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মনোহর আলী মাস্টারের বাড়ি ‘পাখিবাড়ি’ নামে পরিচিত, যেখানে পানকৌড়ি ও বক পাখিরা নিরাপদে বসবাস করে।
- 📌 ২০০৯ সাল থেকে এই পরিবার পাখিদের আশ্রয় দিচ্ছে, কিন্তু বর্তমানে তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের বিলম্ব ও পরিবেশগত চাপের কারণে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
- 📌 ২০১৯ সালে পরিবেশ সংরক্ষণে জাতীয় পদক পেয়েছিলেন শিবু ও তাঁর ভাই, কিন্তু পুরস্কারের আংশিক অর্থ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তগত হয়েছে।
- 📌 হাকালুকি হাওরের কৈয়ারকোনা বিল থেকে প্রতিদিন পাখিরা এসে বাড়ির গাছপালায় আশ্রয় নেয়, কিন্তু অতিরিক্ত পাখির কারণে অনেক গাছ ভেঙে পড়েছে।
- 📌 শিবু জানান, বাবা মারা যাওয়ার সময় বলেছিলেন, ‘পাখিরাও এ বাড়ির উত্তরাধিকারী’।
📰 বিস্তারিত
বড়লেখা উপজেলার হাল্লা গ্রামের মূল সড়ক থেকে প্যান্ট গুটিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দুপুর ১২টার দিকে পাখিবাড়ির পথ ধরি। বর্ষার পানি ও কাদাপানি মাড়িয়ে যখন এই বাড়ির দিকে যাওয়া শুরু করি, তখনই আমার শৈশবের স্মৃতি ফিরে আসে। চারপাশে শাপলার চওড়া হাঁসি ও কচুরিপানার সবুজ জলাভূমি দেখে মনে হয়, আমি বাংলার এক নিখাদ গ্রামে ফিরে এসেছি। প্রায় আড়াই একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই বাড়ির চারপাশে নানা জাতের গাছপালা রয়েছে, যার মধ্যে হিজল, করচ, বরুণ, কড়ই, কদম ও নারকেল অন্যতম।
বাড়ির দক্ষিণ পাশে হাকালুকি হাওরের কৈয়ারকোনা বিল। সারা দিন মাছ শিকার করে বিলের পানকৌড়ি ও বক পাখিরা এসে মনোহর মাস্টারের বাড়ির গাছপালায় আশ্রয় নেয়। প্রতিবেশীদের আপত্তি সত্ত্বেও শিবু ও তাঁর ভাই স্বপন পাখিদের আশ্রয় দিচ্ছেন। বাড়ির মালিক শিবু জানান, ‘জন্মের পর থেকেই বাড়িতে পাখি দেখে এসেছি। পাখির সঙ্গেই বেড়ে উঠেছি।’ তিনি বলেন, বাবা মারা যাওয়ার সময় ছেলেদের বলেছিলেন, ‘তোমাদের সঙ্গে পাখিরাও এ বাড়ির উত্তরাধিকার।’
গাছের ওপর থেকে পাখির মল পড়ছে নিচে। আমার গায়ের জামা ও ক্যামেরা সাদা হয়ে গেছে। তীব্র দুর্গন্ধে নাকে-চোখে জ্বালা অনুভব করলাম। এমন পরিবেশে কীভাবে শিবুরা বছরের পর বছর টিকে আছে, বিষয়টি আমার কাছে বিস্ময় ঠেকল। শিবু ও তাঁর ভাই স্বপন এখন এই পাখিবাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে থাকেন। তবে তাদের অভিযোগ, ২০২৩ সালে নেওয়া প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়নি। দিনে দিনে পাখি বাড়ির গাছগুলো বুড়ো হয়েছে, অতিরিক্ত পাখির কারণে অনেক গাছ ভেঙেও পড়েছে। নতুন করে কিছু গাছ লাগানো প্রয়োজন, যাতে পুরোনো গাছগুলো ভেঙে পড়লে পাখিরা আশ্রয়হীন হয়ে না পড়ে।
"পাখির প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই কি আজ বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাখিবাড়ির জন্য? আইন-বিধিমালা তৈরি করা ছাড়া আমাদের কি আর কিছুই করার নেই?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হাকালুকি হাওরের হাল্লা গ্রাম, বড়লেখা উপজেলা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আক্তার আহম্মদ শিবু, মনোহর আলী মাস্টার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০৯ (পাখিবাড়ি হিসেবে পরিচিতি লাভ), ২৯ (আগস্ট), ১২ (টার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!