📌 গ্রিনল্যান্ডের ১৭ লাখ বর্গকিলোমিটার বরফের নিচে বিজ্ঞানীরা ১৯৪৩টি নতুন সাবগ্ল্যাসিয়াল উপত্যকা শনাক্ত করেছেন। নাসার নেতৃত্বে গবেষণায় দেখা গেছে, এই উপত্যকাগুলো ভূ-টেকটোনিক পরিবর্তন ও ভূগর্ভস্থ পানিপ্রবাহের কারণে তৈরি হয়েছে। গবেষণা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে
গ্রিনল্যান্ডের বিশাল বরফের স্তর নিচে গোপন ভূগর্ভস্থ উপত্যকা নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব বিজ্ঞানীদের কাছে প্রকাশ পেয়েছে। নাসার নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের ১৭ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত পুরু বরফের নিচে ১৯৪৩টি নতুন সাবগ্ল্যাসিয়াল উপত্যকা শনাক্ত হয়েছে। এই আবিষ্কার ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ডের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস ও ভবিষ্যতের বরফ গলার ধরন বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গ্রিনল্যান্ডের ১৭ লাখ বর্গকিলোমিটার বরফের নিচে বিজ্ঞানীরা ১৯৪৩টি নতুন উপত্যকা শনাক্ত করেছেন, যার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ আগে মানচিত্রে ছিল না
- 📌 পশ্চিম-মধ্য গ্রিনল্যান্ডের উপত্যকাগুলো দীর্ঘ ও সরল, দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে বিস্তৃত — যা ভূ-টেকটোনিক পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে
- 📌 নাসার মেরুবিজ্ঞানী জো ম্যাকগ্রেগর বলেছেন, উপত্যকাগুলো শুধু নদীর পানির ক্ষয়কার্যের কারণে নয়, ভূগর্ভস্থ পানিপ্রবাহের কারণেও তৈরি হয়েছে
- 📌 গবেষণায় ব্যবহৃত ‘আইস ফ্লো পারটারবেশন অ্যানালাইসিস’ পদ্ধতি উপগ্রহ থেকে বরফের সূক্ষ্ম পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে উপত্যকাগুলো শনাক্ত করেছে
- 📌 এই মানচিত্র ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলার গতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বোঝার জন্য সহায়ক হবে
📰 বিস্তারিত
গ্রিনল্যান্ডের বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা ভূপ্রকৃতির নতুন মানচিত্র তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। নাসার নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের বরফের স্তর জমা হওয়ার অনেক আগে থেকে এই উপত্যকাগুলো তৈরি হয়েছিল। গবেষকরা উপগ্রহ থেকে বরফের ওপরের সূক্ষ্ম পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ‘আইস ফ্লো পারটারবেশন অ্যানালাইসিস’ পদ্ধতিতে এই আবিষ্কারটি করেছেন। গবেষণায় শনাক্ত হওয়া ১৯৪৩টি উপত্যকার মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আগে মানচিত্রে ছিল না। বিশেষ করে পশ্চিম-মধ্য গ্রিনল্যান্ডের উপত্যকাগুলো তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ ও সরল এবং দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে বিস্তৃত।
নাসার মেরুবিজ্ঞানী জো ম্যাকগ্রেগর এই আবিষ্কারটিকে একটি ‘ধাঁধা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গবেষকরা উপত্যকাগুলোর মধ্যকার কোণ বিশ্লেষণ করে ধারণা করছেন, এগুলো শুধু নদীর পানির ক্ষয়কার্যের মাধ্যমে তৈরি হয়নি। বরং বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ পানিপ্রবাহও এসব উপত্যকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই মানচিত্র ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে গেলে এর অভ্যন্তরীণ ভূপ্রকৃতি কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে এবং বরফ গলার গতি কীভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, তা পূর্বাভাস দিতে এই তথ্য কাজে আসতে পারে।
"এই উপত্যকাগুলো শুধু নদীর পানির ক্ষয়কার্যের কারণে নয়, ভূগর্ভস্থ পানিপ্রবাহের কারণেও তৈরি হয়েছে। এটি একটি ‘ধাঁধা’ যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গ্রিনল্যান্ড (পশ্চিম-মধ্য অঞ্চল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জো ম্যাকগ্রেগর (নাসার মেরুবিজ্ঞানী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ লাখ বর্গকিলোমিটার বরফ, ৩ কিলোমিটার পুরু বরফ, ১৯৪৩টি নতুন উপত্যকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!