📌 গ্রাজিয়া দেলেদ্দা, ইতালির নোবেলজয়ী সাহিত্যিক, নিজের জীবনের প্রথম দিকেই পুরুষ-প্রধান সমাজের বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে বিশ্বসাহিত্যে নাম কাড়েন। তাঁর জীবন বাংলাদেশের নারীদের স্বপ্নপূরণের গল্পের সাথে গভীরভাবে মিলে যায়
গ্রাজিয়া দেলেদ্দা, ইতালির নোবেলজয়ী সাহিত্যিক, তাঁর জীবনের প্রথম দিকেই নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকারের বন্দি হতে পারেননি। এক সপ্তাহ ধরে তাঁর লেখা পড়ার মাধ্যমে একজন পাঠক মুগ্ধ হয়ে পড়েছেন তাঁর গভীর অনুভূতি ও কল্পনার বিশ্বে। গ্রাজিয়া দেলেদ্দার লেখায় মানবমনের গভীর টানাপোড়েন, নৈতিক দ্বন্দ্ব, ভালোবাসা এবং সার্ডিনিয়ার প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনের চিত্র ফুটে ওঠে। তাঁর সহজ কিন্তু গভীর ভাষাশৈলী এবং বাস্তবতার সঙ্গে কাব্যিক মেলবন্ধন তাঁকে বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখকদের মধ্যে স্থান দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৮৭১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সার্ডিনিয়ার নুওরো গ্রামে জন্মগ্রহণকারী গ্রাজিয়া দেলেদ্দা তাঁর জীবনের প্রথম দিকেই পুরুষ-প্রধান সমাজের বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সাহিত্য জগতে নাম কাড়েন।
- 📌 ১১ বছর বয়সে তাঁর লেখাপড়া শেষ হলেও সেলাইয়ের সুঁই হাতে তুলে দেওয়া হলেও তিনি লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তেন এবং ভোরের নিস্তব্ধ প্রহরে লেখালেখি শুরু করেন।
- 📌 ১৯২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়ে ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী হিসেবে সাহিত্যে নোবেলজয়ী হন।
- 📌 ১৯৩৬ সালে ৬৪ বছর বয়সে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হলেও তিনি লেখা থামাননি এবং শেষ উপন্যাস লিখে গেছেন।
- 📌 গ্রাজিয়া দেলেদ্দার জীবন বাংলাদেশের নারীদের স্বপ্নপূরণের গল্পের সাথে মিলে যায়, যারা সংসার, সন্তান, স্বামী এসবের পাশাপাশি নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখেন।
📰 বিস্তারিত
গ্রাজিয়া দেলেদ্দা ১৮৭১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সার্ডিনিয়ার নুওরো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানে মেয়েদের জীবন আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল — প্রাথমিক বিদ্যালয়, রান্নাবান্না, সেলাইফোঁড়াই, বিয়ে এবং সন্তান। গ্রাজিয়া দেলেদ্দা ছিলেন চার ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ। ১১ বছর বয়সে তাঁর লেখাপড়া শেষ হলেও পরিবার তাঁকে পড়া থামানোর কথা বলেনি। কিন্তু পরিবারের সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়তেন, তিনি লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তেন এবং সেলাইয়ের ঝুড়ির নিচে লুকিয়ে রাখতেন বই। ভোরের নিস্তব্ধ প্রহরে তিনি লেখালেখি শুরু করেন।
১৭ বছর বয়সে তিনি রোমের এক পত্রিকায় প্রথম গল্প পাঠালেন। তা ছাপা হলো এবং তাঁর নাম প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হলো। পরিবার আঁতকে উঠলেন। নারীর জন্য লেখালেখি সম্মানজনক নয় এবং লেখা প্রকাশ করাটা আরও খারাপ। ভাইয়েরা বললেন তিনি পরিবারের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছেন। পাড়া-প্রতিবেশী কানাঘুষা করলেন এবং খবরের কাগজ ব্যঙ্গ করল। কিন্তু গ্রাজিয়া লেখা চালিয়ে গেলেন।
১৯০০ সালে গ্রাজিয়া দেলেদ্দা পালমিরো মাদেজানির সঙ্গে বিয়ে করেন, যিনি ইতালির অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ছিলেন। বিয়ের পর তাঁরা চলে গেলেন রোমে। সংসার, স্বামী এবং দুই পুত্রসন্তান সার্দুস (১৯০১) ও ফ্রাঞ্চেস্কো "ফ্রাঞ্জ" (১৯০৪) সারিয়ে তিনি লেখালেখি চালিয়ে গেলেন। বছরে প্রায় একটি করে উপন্যাস বের হতো তাঁর কলম থেকে। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে এলিয়াস পোর্তোলু (১৯০৩), চেনেরে (১৯০৪), লেদেরা (১৯০৮), এবং কানে আল ভেন্তো (১৯১৩)।
১৯২৬ সালে সুইডিশ একাডেমি ঘোষণা করলেন গ্রাজিয়া দেলেদ্দা সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন। ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী হিসেবে সাহিত্যে নোবেল জয়ী হন তিনি। প্রথম ইতালীয় নারী হিসেবে এই সম্মান পাওয়ার পর তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল “ইতিমধ্যেই?”। খবরের কাগজ এবং ফটোগ্রাফারদের ভিড়ে তাঁর রোমের বাড়ি ভরে গেল। কিন্তু একসময় তিনি বিরক্ত হয়ে পড়লেন। তাঁর প্রিয় পোষা কাক চেক্কা পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে পড়েছিল লোকজনের আনাগোনায়। তিনি বললেন, “চেক্কা যদি সহ্য করতে না পারে, আমিও পারি না।” এবং ফিরে গেলেন তাঁর লেখার টেবিলে।
১৯৩৬ সালে ৬৪ বছর বয়সে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হলেও তিনি লেখা থামাননি। অস্ত্রোপচারের পরও তিনি লিখে গেছেন। তাঁর শেষ উপন্যাস লা কিয়েসা দেলা সোলিতুদিনে (The Church of Solitude) আত্মজীবনীমূলক এক তরুণীর মারাত্মক রোগের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার গল্প। তাঁর মৃত্যুর পর আরেকটি পাণ্ডুলিপি কোজিমা উদ্ধার হয়, যা প্রকাশিত হয় ১৯৩৭ সালে।
"ইতিমধ্যেই?"
"চেক্কা যদি সহ্য করতে না পারে, আমিও পারি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সার্ডিনিয়া (নুওরো গ্রাম), রোম (ইতালি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গ্রাজিয়া দেলেদ্দা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ সেপ্টেম্বর ১৮৭১ (জন্ম), ৬৪ বছর (মৃত্যু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!