📌 স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত ঘোষণা করেছেন, সরকার বর্তমান বছরে কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্পের আওতায় পাইলট প্রকল্প চালু করবে। উদ্বেগ, হতাশা ও ডিজিটাল আসক্তির মতো সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা বিস্তার করা হবে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত রোববার ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় সেমিনারে এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের চার বছরের মেয়াদে এই প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সারা দেশে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ সেবা বিস্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান বছরে বাস্তবায়িত হবে।
- 📌 উদ্বেগ ও দীর্ঘমেয়াদী হতাশার রোগীর সংখ্যা ১০ থেকে ৩০ গুণ বেশি, যা তৃণমূল পর্যায়ে সেবা প্রদানের দাবি তুলে ধরেছে।
- 📌 ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারদের পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
- 📌 কৈশোরকালীন মানসিক স্বাস্থ্য, ডিজিটাল আসক্তি এবং পারিবারিক বিচ্ছেদকে সমাজের বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- 📌 পেরিনেটাল ও পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন নিয়ে পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, বর্তমান সরকারের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বা পাবনা মানসিক হাসপাতালের মতো টারশিয়ারি স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত মারাত্মক বা জটিল মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদান করে। তবে উদ্বেগ, দীর্ঘমেয়াদী হতাশা ও মানসিক চাপে ভোগা রোগীদের সংখ্যা ১০ থেকে ৩০ গুণ বেশি। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব এবং বিদ্যমান জনবলকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে না পারার বিষয়টিকে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারদের পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগাতে আমরা প্রস্তুত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা হবে।”
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্য শোনানোর পর প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সময়ে কৈশোরকালীন মানসিক স্বাস্থ্য, ডিজিটাল আসক্তি এবং পারিবারিক বিচ্ছেদ সমাজের বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল ডিভাইস আসক্তি মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।”
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, “গতানুগতিক বায়োমেডিকেল দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে ‘বায়ো-সাইকো-সোশ্যাল মডেল’ অনুসরণের আহ্বান জানাচ্ছি। মানুষের শারীরিক গঠনের চেয়ে সামাজিক পরিবেশ ও দৃষ্টিভঙ্গিই অনেক সময় মানসিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।”
"আমাদের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বা পাবনা মানসিক হাসপাতালের মতো টারশিয়ারি স্তরের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে মূলত মারাত্মক বা জটিল সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা সেবা পেয়ে থাকেন। কিন্তু এর বাইরে উদ্বেগ, দীর্ঘমেয়াদী হতাশা ও মানসিক চাপে ভোগা রোগীর সংখ্যা ১০ থেকে ৩০ গুণ বেশি। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য আমাদের তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ থেকে ৩০ গুণ (রোগীর সংখ্যা), ১১ অক্টোবর (তারিখ), ১২:৩৯ পিএম (সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!