📌 ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গন্ডার দিবসে আন্তর্জাতিক গন্ডার ফাউন্ডেশন প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গন্ডারের তিনটি প্রজাতিতে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন হলেও জাভা ও সুমাত্রা গন্ডারের সংখ্যা বিপজ্জনকভাবে কমে যাচ্ছে। বর্তমানে পৃথিবীতে মাত্র ৩৭ হাজারের কম গন্ডার বেঁচে রয়েছে
২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গন্ডার দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক গন্ডার ফাউন্ডেশন (আইআরএফ) প্রকাশিত ‘স্টেট অব দ্য রাইনো’ প্রতিবেদনে বিশ্বের পাঁচটি গন্ডার প্রজাতির বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনটি গন্ডার প্রজাতিতে ধীরে ধীরে ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে, কিন্তু দুটি প্রজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বিশ্ব গন্ডার দিবস** (২২ সেপ্টেম্বর) উপলক্ষে আইআরএফ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গন্ডারের তিনটি প্রজাতিতে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন হলেও জাভা ও সুমাত্রা গন্ডারের সংখ্যা বিপজ্জনকভাবে কমে যাচ্ছে।
- 📌 **গত ২৫ বছরে** ভারত ও নেপালে একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সংরক্ষণ ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত।
- 📌 **দক্ষিণ আফ্রিকার কালো গন্ডারের** সংখ্যা গত দুই দশকে দ্বিগুণ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু **সাদা গন্ডারের** সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চোরা শিকারিদের কারণে হ্রাস পেয়েছে।
- 📌 **ইন্দোনেশিয়ায়** বর্তমানে মাত্র **৩৪ থেকে ৪৭টি সুমাত্রা গন্ডার** এবং **এক শটিরও কম জাভা গন্ডার** বেঁচে রয়েছে। গত ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চোরা শিকারিদের কারণে **১৮ থেকে ২৬টি জাভা গন্ডার** মারা গেছে।
- 📌 **বিজ্ঞানীদের** মতে, গন্ডারের শিংয়ের কোনো প্রমাণিত ঔষধি গুণ নেই, তবে অপরাধীরা এই শিংয়ের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
আইআরএফের নির্বাহী পরিচালক নিনা ফ্যাসিওনে বলেছেন, একশৃঙ্গ গন্ডারের সংরক্ষণে অর্জিত অগ্রগতি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফল। তবে সুমাত্রা ও জাভা গন্ডারের অবস্থা অত্যন্ত বিপজ্জনক। দক্ষিণ আফ্রিকার সাদা গন্ডারের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে, কারণ চোরা শিকারিরা এই প্রজাতির শিংয়ের জন্য গন্ডারকে লক্ষ্য করে।
বিবিসি ওয়াইল্ডলাইফ ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, গন্ডারের পাঁচটি প্রজাতির মধ্যে তিনটি বর্তমানে মহাবিপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত। পৃথিবীতে বর্তমানে মাত্র **৩৭ হাজারের কম গন্ডার** বেঁচে রয়েছে। এশিয়ার কিছু দেশে গন্ডারের শিংকে ধনসম্পদের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং কিছু লোক বিশ্বাস করে শিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করা যায়। ফলে অবৈধ শিং ব্যবসা অব্যাহত রয়েছে।
চোরাকারবারিরা গন্ডারের শিং সংগ্রহ করে অবৈধ বাজারে বিক্রি করে। বিজ্ঞানীদের মতে, গন্ডারের শিং মূলত কেরাটিন দিয়ে তৈরি, যা আমাদের চুল ও নখের উপাদানের মতোই। তাই এই শিংয়ের কোনো ঔষধি গুণ নেই।
"একশৃঙ্গ গন্ডারের সংরক্ষণে অর্জিত অগ্রগতি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। তবে সুমাত্রা ও জাভা গন্ডারের অবস্থা অত্যন্ত বিপজ্জনক। দক্ষিণ আফ্রিকার সাদা গন্ডারের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পৃথিবী (বিশ্বব্যাপী), দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নিনা ফ্যাসিওনে (আইআরএফ নির্বাহী পরিচালক), বিজ্ঞানীরা, চোরাকারবারিরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ (সেপ্টেম্বর), ২৫ (বছরে), ১৮-২৬ (জাভা গন্ডার মারা গেছে), ৩৪-৪৭ (সুমাত্রা গন্ডার বেঁচে রয়েছে), ৩৭ (হাজারের কম গন্ডার বেঁচে রয়েছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!