📌 বিজ্ঞানীরা জিন থেরাপির মাধ্যমে দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের দৃষ্টিশক্তি আংশিক ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা দেখিয়েছেন। অপ্টোজেনেটিক নামের এই নিরাপদ চিকিৎসায় ১০ জন অ্যাডভান্সড রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা রোগীর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানী অধ্যাপক বোটন্ড রোশকা বলেছেন, এই পদ্ধতি দৃষ্টিশক্তি আরও বেশি ফেরাতে ৫-১০ বছরের মধ্যে সক্ষম হতে পারে
বিজ্ঞানীরা জিন থেরাপির মাধ্যমে দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের দৃষ্টিশক্তি আংশিক ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা প্রমাণ করেছেন। অপ্টোজেনেটিক নামের এই নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সাদাকালো ছবি দেখতে সক্ষম হচ্ছেন। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জিন থেরাপি দিয়ে দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের দৃষ্টিশক্তি আংশিক ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব বলে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন।
- 📌 অপ্টোজেনেটিক নামের এই চিকিৎসায় ১০ জন অ্যাডভান্সড রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা রোগীর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- 📌 চিকিৎসায় চোখে ইনজেকশন দেওয়া হয়, যা রেটিনার গ্যাংলিয়ন কোষগুলোকে আলো শনাক্ত করতে সক্ষম করে।
- 📌 সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানী অধ্যাপক বোটন্ড রোশকা বলেছেন, এই পদ্ধতি দৃষ্টিশক্তি আরও বেশি ফেরাতে ৫-১০ বছরের মধ্যে সক্ষম হতে পারে।
- 📌 নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এই আবিষ্কারের মাধ্যমে দৃষ্টিহীন ব্যক্তিরা সাদাকালো ছবি দেখতে পারছেন।
📰 বিস্তারিত
জিন থেরাপির মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়ার এই নতুন পদ্ধতিতে আলো ব্যবহার করে স্নায়ুকোষকে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করার কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ১০ জন রোগী সবাই অ্যাডভান্সড রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগে রেটিনার কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়, ফলে আলো বুঝতে পারে না। তবে রেটিনায় অবস্থিত গ্যাংলিয়ন কোষগুলো তুলনামূলকভাবে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই কোষগুলো চোখ থেকে পাওয়া দৃশ্য-সংক্রান্ত তথ্য মস্তিষ্কে পাঠায়।
চিকিৎসায় প্রথমে রোগীদের চোখে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর ফলে গ্যাংলিয়ন কোষগুলো আবার আলো শনাক্ত করতে পারে। এরপর রোগীদের একটি বিশেষ চশমা দেওয়া হয়, যা চারপাশের দৃশ্য ধারণ করে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর ঝলকে রূপান্তর করে। এই ঝলক গ্যাংলিয়ন কোষগুলোকে সক্রিয় করে, ফলে রোগীরা সাদাকালো ছবি দেখতে পান।
গবেষণাপত্রের লেখক এবং সুইজারল্যান্ডের ইনস্টিটিউট অব মলিকিউলার অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল অপথালমোলজি বাসেলের পরিচালক অধ্যাপক বোটন্ড রোশকা বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অপ্টোজেনেটিকস ধারণাটি কার্যকর। এখন লক্ষ্য হলো দৃষ্টিশক্তি আরও বেশি ফেরানোর দিকে এগিয়ে যাওয়া। তা হয়তো ৫-১০ বছরের মধ্যে অর্জিত হবে।’
"আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অপ্টোজেনেটিকস ধারণাটি কার্যকর। এখন লক্ষ্য হলো দৃষ্টিশক্তি আরও বেশি ফেরানোর দিকে এগিয়ে যাওয়া। তা হয়তো ৫-১০ বছরের মধ্যে অর্জিত হবে।"
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী হ্যানকিংস বলেছেন, ‘যেসব মানুষের কিছুটা দৃষ্টিশক্তি এখনো অবশিষ্ট আছে, তাঁদের জন্য এই গবেষণা আশ্বস্ত হওয়ার মতো বিষয়। আমরা দেখেছি যে আপাতত কিছুটা হলেও দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুইজারল্যান্ডের ইনস্টিটিউট অব মলিকিউলার অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল অপথালমোলজি বাসেল, ইংল্যান্ডের নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক বোটন্ড রোশকা, বিজ্ঞানী হ্যানকিংস, গবেষণায় অংশ নেওয়া ১০ জন রোগী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ জন রোগী, ৫-১০ বছর (সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!