📌 গাজীপুরের ধাঁধারচরে ৪৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য সাননোভা এনার্জি ২৩৯ একর জমি বন্দোবস্তের আবেদন করেছে। সাবেক বিএনপি নেতা কামাল জামান মোল্লা এই প্রকল্পের পরিচালক। স্থানীয় কৃষিজীবী ও পরিবেশবাদীরা প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বলে জানা গেছে
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ ধাঁধারচরে ৪৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য সাননোভা এনার্জি ২৩৯ দশমিক ৫৭ একর জমি বন্দোবস্তের আবেদন করেছে। সাবেক বিএনপি নেতা কামাল জামান মোল্লা এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে আবেদন পত্রে স্বাক্ষর করেছেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুত চাহিদা পূরণ এবং টেকসই শক্তি নিশ্চিত করতে চায়। তবে স্থানীয় কৃষিজীবী, পরিবেশবাদী এবং বাসিন্দারা প্রকল্পের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য সাননোভা এনার্জি গাজীপুরের ধাঁধারচরে ২৩৯ দশমিক ৫৭ একর জমি বন্দোবস্ত চেয়েছে, যার মধ্যে ৩০ দশমিক ৭০ একর নদী শ্রেণিভুক্ত জমি রয়েছে।
- 📌 সাবেক বিএনপি নেতা কামাল জামান মোল্লা এই প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে আবেদন পত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি মাদারীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ছিলেন এবং গত সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
- 📌 ৩০০ পরিবারের জীবিকা নির্ভরশীল এই চরে কৃষি, পর্যটন এবং জীববৈচিত্র্যের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, চরে ৫০০ পরিবারের জীবিকা রয়েছে এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র।
- 📌 বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন বলেছেন, নদী ও নদীসংলগ্ন ভূমি বন্দোবস্তযোগ্য নয় এবং প্রকল্পটি পরিবেশবিধ্বংসী হতে পারে। তিনি ধাঁধারচরকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য অঞ্চল হিসেবে ঘোষণার দাবি করেছেন।
- 📌 জমির ৬৩ শতাংশ নাল এবং ১৯ শতাংশ সিকস্তি ভূমি শ্রেণিভুক্ত। প্রকল্পের জন্য নেদারল্যান্ডস, কোরিয়া ও চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ আলোচনা চলছে।
📰 বিস্তারিত
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, সাননোভা এনার্জির পরিচালক কামাল জামান মোল্লা গত ১৬ আগস্ট গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে জমি বন্দোবস্তের আবেদন পত্র জমা দিয়েছিলেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ও সবুজ শক্তি প্রসারের রূপকল্পকে সমর্থন করবে। প্রকল্পের জন্য নেদারল্যান্ডসের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কোরিয়া ও চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ আলোচনা চলছে।
জমির বিবরণে বলা হয়েছে, প্রকল্পের জন্য নদী শ্রেণির দুটি দাগে ৩০ দশমিক ৭০ একর, বালুচর শ্রেণির তিনটি দাগে ১৩ দশমিক ৬৩ একর, সিকস্তি ভূমি শ্রেণির ১০৬ দাগে ৪৫ দশমিক ৮২ একর এবং নাল শ্রেণির ৯০ দাগে ১৫২ দশমিক ১৫ একর জমি চাওয়া হয়েছে। জমির ৬৩ শতাংশ নাল, ১৯ শতাংশ সিকস্তি ভূমি, প্রায় ১৩ শতাংশ নদী এবং ৬ শতাংশ বালুচর শ্রেণিভুক্ত।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল হক ভূঁইয়া বলেছেন, ‘এই চর আমাদের রুটি-রোজির জোগান দেয়। এখানে ৩০০ পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। এটি একটি পর্যটন কেন্দ্র এবং প্রচুর পাখির আবাসস্থল। প্রশাসন পাখির বংশবৃদ্ধির জন্য বাসা তৈরি করে দিয়েছে। আমরা এই চর হাতছাড়া হতে দেব না।’ অন্য একজন বাসিন্দা জহিরুল হক আঙ্গুর বলেছেন, ‘সকালে শত শত মানুষ নৌকায় করে এসে চরে আসে। এখানে ৫০০ পরিবারের জীবিকা রয়েছে। আম, জাম, পেয়ারা, বড়ইসহ বিভিন্ন ফল এবং ধান, গম, আখ, বাদামসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয়। এই জমিতে কোনোভাবেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না।’
"নদী একটি পাবলিক ট্রাস্ট প্রপার্টি। নদী ও নদীসংলগ্ন ভূমি কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বন্দোবস্ত দেওয়ার আগে পরিবেশগত ও জনস্বার্থগত বিষয়গুলো বিবেচনা করা জরুরি।"
বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন বলেছেন, ধাঁধারচর জীববৈচিত্র্যের দিক থেকেও সমৃদ্ধ। চরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ প্রজাতির পাখির বিচরণ রয়েছে। তিনি বলেন, চরটি বিশেষ জীববৈচিত্র্য অঞ্চল হিসেবে ঘোষণার দাবি রাখে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অবকাঠামো নির্মাণ, ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন এবং পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বাড়বে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুর জেলা, কাপাসিয়া উপজেলা, দুর্গাপুর ইউনিয়ন, রাণীগঞ্জ ধাঁধারচর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামাল জামান মোল্লা (সাননোভা এনার্জির পরিচালক), জাহিদুল হক ভূঁইয়া, জহিরুল হক আঙ্গুর, মো. মনির হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ মেগাওয়াট (সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র), ২৩৯.৫৭ একর (জমি), ৩০.৭০ একর (নদী শ্রেণিভুক্ত জমি), ৩০০+ পরিবার (কৃষিজীবী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!