📌 গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের শনাক্ত হলে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে পৌঁছেছে। পরীক্ষা ছাড়া কোনো পশু জবাই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং এলাকায় টিকা কর্মসূচি ত্বরান্বিত করা হচ্ছে
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ তীব্রতা বাড়িয়ে ৩৭ জনের শরীরে এই মারাত্মক রোগের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ছয়জন আক্রান্তের শনাক্ত হলে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা পরীক্ষা ছাড়া কোনো গবাদিপশু জবাই না করার সতর্কতা জারি করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জে ৩৭ জনের মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ শনাক্ত, এর মধ্যে ৬ জনের নতুন করে সংক্রমণ
- 📌 ১১ সেপ্টেম্বর অসুস্থ গরুর মাংস খাওয়ার পরপরই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে
- 📌 ১০০ পরিবারের কাছে কম দামে বিক্রি করা অসুস্থ গরুর মাংস খাওয়ার কারণে সংক্রমণ ছড়িয়েছে
- 📌 সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার গবাদিপশু রয়েছে, এর মধ্যে ১৯ হাজার গরুকে ইতিমধ্যে টিকা দেওয়া হয়েছে
- 📌 উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে ১১ হাজার টিকা মজুত রয়েছে, আরও ১৫ হাজার টিকার জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে
- 📌 গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাইয়ে রিং ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব ছাফরহাটি গ্রামে ১১ সেপ্টেম্বর একটি অসুস্থ গরু জবাই করা হয়। ওই গরুর মাংস কাটাকাটি ও খাওয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরে জ্বর, মাথাব্যথা ও ত্বকে ফোসকার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের বাছহাটি গ্রামের একটি অসুস্থ গরু জবাই করে প্রায় ১০০ পরিবারের কাছে কম দামে মাংস বিক্রি করা হয়। এরপর গত দুই সপ্তাহে সর্বানন্দ, তারাপুর, কঞ্চিবাড়ী, সোনারায় ও রামজীবন ইউনিয়নে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) কামরুল হাসান এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম জানান, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ছয় বাসিন্দার মধ্যে প্রথম উপসর্গ দেখা যায়। অসুস্থ গরুর মাংস খাওয়ার পর তাদের জ্বর ও ত্বকে ফোসকা দেখা দেয়। পরে তারা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন। কামরুল হাসান জানান, এই ছয়জনের মধ্যে চারজনের নমুনায় অ্যানথ্রাক্স ধরা পড়ে।
বাছহাটি গ্রামের গোলেজা বেগম (৪০) বলেন, ‘অসুস্থ গরুটির মাংস পরিষ্কার ও রান্না করে খাওয়ার পরপরই আমার হাতে ফোসকা দেখা দেয়।’ একই গ্রামের শফিক আলম (৪৫) জানান, ‘আমি মাংস খাইনি। শুধু গরু জবাইয়ে সহযোগিতা করেছিলাম। জবাইয়ের সময় গরুর রক্ত হাতে লাগার পর আমার দুই হাতে ফোসকা দেখা দেয়।’
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর গত ২১ সেপ্টেম্বর বাছহাটি গ্রাম থেকে মাংসের দু’টি নমুনা সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারে (সিডিআইএল) পাঠায়। ২৩ সেপ্টেম্বর পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদনে দু’টি নমুনাতেই অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম। সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান জানান, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গবাদিপশুকে দ্রুত টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।
"গরু ছাড়াও ছাগল, ভেড়া ও মহিষের মাধ্যমেও অ্যানথ্রাক্স ছড়াতে পারে। তবে বর্তমানে গরুকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।"
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার গবাদিপশু রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে এলাকায় অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাবের পর চলতি বছরের জুলাইয়ে ১৫টি ইউনিয়নে রিং ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি শুরু করে সরকার। এর আওতায় এ পর্যন্ত ১৯ হাজার গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আক্রান্ত এলাকার ৩ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সব গবাদিপশুকে টিকা দেওয়ার কথা। বর্তমানে ১১ হাজার টিকা মজুত রয়েছে এবং আরও ১৫ হাজার টিকার জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুন্দরগঞ্জ উপজেলা, গাইবান্ধা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামরুল হাসান (ইউএইচএফপিও), কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম (প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা), গোলেজা বেগম (৪০), শফিক আলম (৪৫)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৭ জন আক্রান্ত, ১০০ পরিবার, ২ লাখ ৫৪ হাজার গবাদিপশু, ১৯ হাজার টিকা দেওয়া, ১১ হাজার টিকা মজুত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!