📌 বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন দক্ষিণ মেরুর বরফের নিচে নির্মিত আইসকিউব অবজারভেটরির মাধ্যমে মহাজাগতিক নিউট্রিনো শনাক্তের কীর্তির জন্য ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন। এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের অন্ধকার রহস্যগুলো উন্মোচন করছে
বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় খুলেছে বেলজিয়ামের পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেনের নাম। দক্ষিণ মেরুর অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে নির্মিত আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরির মাধ্যমে তিনি মহাজাগতিক নিউট্রিনো শনাক্তের কীর্তির জন্য ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোম থেকে এই ঘোষণা দিয়েছে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্রান্সিস হালজেন দক্ষিণ মেরুর বরফের নিচে নির্মিত আইসকিউব অবজারভেটরি ব্যবহার করে মহাজাগতিক নিউট্রিনো শনাক্তের কীর্তির জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন
- 📌 ৬৫ বিলিয়ন নিউট্রিনো প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর আঙুলের ডগায় চলে যায়, কিন্তু এরা কোনো প্রভাব ফেলে না — তবে মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো মহাবিশ্বের গোপন বার্তা বহন করে
- 📌 ১,৪৫০ থেকে ২,৪৫০ মিটার গভীর বরফের নিচে স্থাপিত ৫,১৬০টি আলোক সেন্সর দিয়ে বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনোর গতিপথ ও শক্তি মাপতে সক্ষম হন
- 📌 আইসকিউব অবজারভেটরি থেকে বিজ্ঞানীরা মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি ও দূরের সক্রিয় গ্যালাক্সি থেকে আসা নিউট্রিনোর সন্ধান পেয়েছেন
- 📌 বৈকাল হ্রদ, ভূমধ্যসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরেও নতুন নিউট্রিনো টেলিস্কোপ নির্মাণের কাজ চলছে
📰 বিস্তারিত
মহাবিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় কণার নাম নিউট্রিনো। এই কণার কোনো চার্জ নেই, ভরও প্রায় শূন্যের কোঠায়। অন্য কোনো পদার্থের সঙ্গে এর মিথস্ক্রিয়া নেই বললেই চলে। প্রতি সেকেন্ডে আপনার আঙুলের ডগায় সূর্য থেকে আসা ৬৫ বিলিয়ন নিউট্রিনো চলে যায়, কিন্তু আপনি কিছুই টের পান না। তবে যখন এই নিউট্রিনো সুদূর মহাজাগতিক উৎস থেকে আসে — যেমন, বিস্ফোরিত নক্ষত্র বা সক্রিয় গ্যালাক্সি — তখন তা মহাবিশ্বের গোপন রহস্যগুলো বহন করে আসে।
ফ্রান্সিস হালজেনের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ মেরুর অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি নির্মাণ করেন। এই অবজারভেটরিতে ৮৬টি কেবলে ৫,১৬০টি আলোক সেন্সর স্থাপন করা হয়েছে, যা ৮ ঘনকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এই সেন্সরগুলো বরফের গভীরে স্থাপিত, যেখানে সমুদ্রের পানির চেয়ে বেশি স্বচ্ছতা ও স্থিরতা রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, যখন একটি মহাজাগতিক নিউট্রিনো বরফের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষ করে, তখন চার্জযুক্ত কণা তৈরি হয় এবং বরফের ভেতরে নীল আলোর এক সূক্ষ্ম ঝলকানি ছড়ায়। এই আলোর দিশা দেখেই সেন্সরগুলো নিউট্রিনোর দিক ও শক্তি মাপে নেয়। প্রথমে অ্যামান্ডা প্রকল্প থেকে শুরু হলেও, ২০১১ সালে আইসকিউব সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয় এবং ২০১৩ সালের মধ্যে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন যে তারা সৌরজগতের বাইরের গভীর মহাবিশ্ব থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করতে পেরেছেন।
ফ্রান্সিস হালজেনের গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি ও দূরের সক্রিয় গ্যালাক্সি থেকে আসা নিউট্রিনোর সন্ধান পেয়েছেন। প্রথাগত আলো বা টেলিস্কোপ দিয়ে দেখা সম্ভব ছিল না এমন মহাবিশ্বের অন্ধকার ও ধূলিধূসরিত অঞ্চলগুলো থেকে নিউট্রিনো এখন নতুন বার্তা বয়ে আনছে। এই আবিষ্কার মহাজাগতিক রহস্যগুলো উন্মোচনের পথ খুলেছে।
"মহাবিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় কণা নিউট্রিনোকে ধরার জন্য দক্ষিণ মেরুর বরফই ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা। কারণ বরফের স্বচ্ছতা ও স্থিরতা অন্যান্য পদার্থের তুলনায় অনেক বেশি। এই আবিষ্কার মহাজাগতিক ঘটনাগুলোর গোপন রহস্যগুলো উন্মোচন করবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ মেরুর অ্যান্টার্কটিকা (আইসকিউব অবজারভেটরি), যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফ্রান্সিস হালজেন (বেলজিয়ামের পদার্থবিজ্ঞানী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫ বিলিয়ন নিউট্রিনো/সেকেন্ড, ৫,১৬০টি আলোক সেন্সর, ৮ ঘনকিলোমিটার এলাকা, ১,৪৫০-২,৪৫০ মিটার গভীর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!