📌 ১৪ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য উৎপাদকদের সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর) বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে। প্রথম দুই বছরে ১৫% প্লাস্টিক সংগ্রহ ও ৭.৫% রিসাইক্লিং নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
প্লাস্টিক দূষণ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করার লক্ষ্যে সরকার ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করে। বৈঠকটি ‘প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: উৎপাদকদের সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর ২০২৬)’ শীর্ষক এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলোর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়। সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ‘গো-ফর-ইমপ্যাক্ট’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৪ অক্টোবর ২০২৬** ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য উৎপাদকদের সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর) বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়।
- 📌 **প্রথম দুই বছরে** প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা **১৫%** এবং রিসাইক্লিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা **৭.৫%** নির্ধারণ করা হয়েছে।
- 📌 **বাংলাদেশে** প্রতি বছর **৮ লাখ টন** প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা দুর্বল।
- 📌 **উৎপাদকদের দায়িত্ব** বাড়িয়ে পণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোরও সংগ্রহ ও রিসাইক্লিং ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
- 📌 **বৈঠকে অংশ নেন** পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পরিবেশ অধিদপ্তরের আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্লাস্টিক শিল্পের প্রতিনিধি সামিম আহমেদসহ ১৫ জন বিশেষজ্ঞ।
📰 বিস্তারিত
বৈঠকে পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে এবং প্লাস্টিক দূষণ স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বুড়িগঙ্গা নদীর পানির নিচে **৬ থেকে ৮ ফুট** পর্যন্ত বর্জ্য জমে আছে। প্লাস্টিক বর্জ্য পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে প্রতি বছর **৮ লাখ টন** প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দুর্বল হওয়ায় এই বর্জ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ ও রিসাইক্লিং করা সম্ভব হচ্ছে না।”
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহনের দায়িত্ব মূলত স্থানীয় সরকার ও অনানুষ্ঠানিক খাতের ওপর ন্যস্ত। কিন্তু পণ্য উৎপাদকদের দায়িত্ব তেমনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থা পরিবর্তন করতে সরকার **উৎপাদকদের সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর)** বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রথম দুই বছরে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা **১৫%** এবং রিসাইক্লিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা **৭.৫%** নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পগুলোকেও এর আওতায় আনা হবে।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইপিআর বাস্তবায়নে সরকার ব্যবসাবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রচলিত ফি পদ্ধতি ও সার্টিফিকেটভিত্তিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে এমন একটি পদ্ধতি নিয়েছি, যাতে অংশীজনদের অন্তর্ভুক্তি ও বাস্তবায়ন সহজ হয়। ব্র্যান্ড মালিকদের দায়িত্ব শেষ হবে না, তারা প্রোডিউসার রেসপন্সিবিলিটি অর্গানাইজেশন (পিআরও) এর মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
"প্লাস্টিকের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে, কমছে না। প্লাস্টিক দূষণ আমাদের জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে, প্লাস্টিক বর্জ্য পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। বুড়িগঙ্গার পানির নিচে ছয় থেকে আট ফুট পর্যন্ত বর্জ্য জমার কথা আমরা শুনেছি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও রিসাইক্লিং নিশ্চিত করা জরুরি।"
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন: তালুকদার এয়ার কমোডর মাহাবুবুর রহমান (ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন), সুমাইয়া টি আহমেদ (প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ), সৈয়দ মনজুরুল হক (ইউএনডিপি), খাদেম মাহমুদ ইউসুফ (বিপিসিএল), শাহরিয়ার মান্নান (হেলভেটাস বাংলাদেশ), রাজু বসাক (ব্র্যাক), রঞ্জন কুমার ঘোষ (ওয়াটারএইড বাংলাদেশ), সাইফ মনজুর-আল-ইসলাম (ওয়াটারএইড বাংলাদেশ) এবং শিরিন লিরা (সুইজারল্যান্ড দূতাবাস)।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, প্রথম আলো কার্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল আউয়াল মিন্টু (পরিবেশ মন্ত্রী), আব্দুল্লাহ আল মামুন (পরিবেশ অধিদপ্তর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য, ১৫% সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা, ৭.৫% রিসাইক্লিং লক্ষ্যমাত্রা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!