📌 ব্যায়াম ক্যানসার রোগীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে এবং ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কমায়, কিন্তু এই সুবিধা পেতে পারছেন না সবাই। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে রোগীরা দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার খরচও কমতে পারে
ব্যায়াম ক্যানসার রোগীদের জীবন বাঁচাতে পারে এবং তাদের ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে পারে, কিন্তু এই উপকারিতা পেতে পারছেন না সব রোগী। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পরিকল্পিত ব্যায়াম কর্মসূচি রোগীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার খরচও কমাতে পারে। তবে এই সুবিধা পেতে পারছেন না সবাই, কারণ ব্যায়াম কর্মসূচির খরচ বহন করতে পারছেন না অনেক রোগী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬৬ বছর বয়সী লি কোলকার মেটাস্ট্যাটিক কিডনি ক্যানসারের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার পর ব্যায়ামের মাধ্যমে তার কর্মশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মনোযোগও উন্নত হয়েছে।
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে, কোলন ক্যানসারের রোগীদের মধ্যে ব্যায়ামের ফলে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কমে যায় এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
- 📌 ব্যায়াম কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৯০ শতাংশ আট বছর পরও জীবিত ছিলেন, যেখানে নিয়ন্ত্রণ দলের এই হার ছিল ৮৩ শতাংশ।
- 📌 ব্যায়াম কর্মসূচির খরচ প্রতি রোগী ৩ হাজার ডলার, যা ক্যানসারের নতুন ওষুধের তুলনায় অনেক কম।
- 📌 ক্যানসার গবেষক ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ডা. স্কট র্যামসে বলেছেন, ব্যায়ামের মতো উপকারকারী কোনো ওষুধ থাকলে তা নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হয়ে যেত।
- 📌 বর্তমানে ক্যানসার রোগীদের জন্য ব্যায়াম কর্মসূচি মূলত বড় ক্যানসার সেন্টারগুলোর সীমিত এলাকায় সীমাবদ্ধ এবং খরচ বহন করতে পারছেন না অনেক রোগী।
📰 বিস্তারিত
৬৬ বছর বয়সী লি কোলকারের জীবনে ব্যায়ামের ভূমিকা ছিল বিপ্লবী। তিনি পিটসবার্গের নিজ বাড়ির বেসমেন্টে বসে আইপ্যাডের মাধ্যমে অনলাইন ব্যায়াম সেশনে যোগ দেন। অনলাইনে ছিলেন ক্যানসার রোগীদের জন্য বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক অলিভিয়া মাস্টেন। কোলকার মেটাস্ট্যাটিক কিডনি ক্যানসারের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার পর থেকে ক্লান্তি ও মনোযোগের সমস্যায় ভুগছিলেন। ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ মেডিক্যাল সেন্টারের কর্মীরা তাকে ব্যায়ামের সুফল সম্পর্কে জানান। তিনি বলেন, ‘এ কথাটাই আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছিল।’
ব্যায়ামের সুফল স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ক্যানসার রোগীদের ব্যায়ামে যুক্ত করার উদ্যোগ বাড়ছে। গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, ব্যায়াম ক্যানসার রোগীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে। বিশেষ করে স্তন ক্যানসারের রোগীদের ক্ষেত্রে এর সুফল বেশি দেখা গেছে। গত বছর একটি গুরুত্বপূর্ণ র্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল্ড ট্রায়ালে দেখা গেছে, কোলন ক্যানসারের রোগীদের তিন বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে ব্যায়াম করলে তাদের ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কমে যায়। জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়।
ব্যায়াম কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৯০ শতাংশ আট বছর পরও জীবিত ছিলেন, যেখানে নিয়ন্ত্রণ দলের এই হার ছিল ৮৩ শতাংশ। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার খরচও কমে। একজন রোগীর জন্য পুরো কর্মসূচির খরচ হয় মাত্র ৩ হাজার ডলার। ফ্রেড হাচ ক্যানসার সেন্টারের ক্যানসার গবেষক ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ডা. স্কট র্যামসে বলেছেন, ‘এতটা উপকার করে এমন কোনো ওষুধ থাকলে সেটি সঙ্গে সঙ্গেই নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হয়ে যেত। বিমা কোম্পানিগুলোও এর খরচ দিত।’
অনকোলজিস্ট ডা. ক্রিস্টোফার বুথ বলেছেন, ‘এতটা উপকার করে এমন কোনো ওষুধ থাকলে সেটি সঙ্গে সঙ্গেই নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হয়ে যেত। বিমা কোম্পানিগুলোও এর খরচ দিত।’ বর্তমানে ক্যানসার রোগীদের জন্য ব্যায়াম কর্মসূচি মূলত বড় ক্যানসার সেন্টারগুলোর সীমিত এলাকায় সীমাবদ্ধ। কর্মসূচি চালাতে দাতাদের সহায়তা নেওয়া হয় এবং অনেক রোগী নিজের পকেট থেকে খরচ বহন করতে হয়। কম আয়ের অনেক রোগীর পক্ষে সেই খরচ বহন করা সম্ভব হয় না। বড় ক্যানসার সেন্টার থেকে দূরে থাকা রোগীরাও এ সুযোগ সহজে পান না।
"রোগীদের আপনি বলতে পারেন, এটি করলে হয়তো আরও বেশি দিন বাঁচবেন। কিন্তু এ সুবিধা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (পিটসবার্গ, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য, নিউইয়র্ক, সান ফ্রান্সিসকো)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লি কোলকার (৬৬), ডা. স্কট র্যামসে, ডা. ক্রিস্টোফার বুথ, অলিভিয়া মাস্টেন, জেফ মেয়ারহার্ড
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৬ বছর বয়স, ৯০ শতাংশ (আট বছর পর জীবিত), ৮৩ শতাংশ (নিয়ন্ত্রণ দল), ৩ হাজার ডলার (খরচ), ১৫০ মিনিট (সপ্তাহে ব্যায়াম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!