📌 অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সরকারের পরিবেশ ও জনস্বার্থকে অগ্রাহ্য করার সাত মাসের প্রবণতা তুলে ধরেছেন। কক্সবাজারের বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণ, মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে সড়ক, সোনাদিয়া দ্বীপে চিংড়ি ঘের নির্মাণ — এসব প্রকল্পের বিরুদ্ধে পরিবেশবাদীরা আন্দোলন করছেন
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পরিবেশ ও জনস্বার্থকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা সাত মাসের মধ্যে আরও জোরদার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও পরিবেশবিজ্ঞানী অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, কক্সবাজারের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ, মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণ ও সোনাদিয়া দ্বীপে প্যারাবন ধ্বংস করে চিংড়ি ঘের নির্মাণের মতো প্রকল্পগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশে সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পরিবেশের ক্ষতি করছে এবং জনস্বার্থকে অগ্রাহ্য করছে।
- 📌 কক্সবাজারের সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণের প্রকল্পে কাণ্ডজ্ঞান অনুযায়ী সমুদ্রের স্রোতের কারণে রাস্তাটি দীর্ঘমেয়াদে টিকবে না বলে দাবি করেছেন তিনি।
- 📌 মহেশখালী দ্বীপের সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পাহাড় কাটা পড়বে বলে আশঙ্কা করেছেন আনু মুহাম্মদ।
- 📌 সোনাদিয়া দ্বীপে নির্বিচারে প্যারাবন ধ্বংস করে চিংড়ি ঘের নির্মাণের প্রকল্প পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবেশবাদীরা।
- 📌 অর্থমন্ত্রী বলেছেন যে, পরিবেশ আইন রক্ষা করে উন্নয়ন করা সম্ভব নয়, যা পরিবেশবিজ্ঞানীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
- 📌 বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণ বন্ধ, হাইকোর্টের মামলা নং ২২৬/২০১১-এর রায় বাস্তবায়ন এবং ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা দরকার।
📰 বিস্তারিত
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আজ সোমবার ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘অপরিকল্পিত উন্নয়নে বিপন্ন কক্সবাজার: পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। উষ্ণতা বাড়ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে। এসব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য উপকূলজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। কিন্তু সরকারের প্রকল্পগুলো এ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ মহেশখালীর উদাহরণ দিয়ে বলেন, পাহাড়ি বনের মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের ফলে গাছপালা এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার আন্তর্জাতিক ফোরামে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির জন্য টাকা চায়, কিন্তু সেই টাকার বদলে পরিবেশের ক্ষতি করছে। তিনি বলেন, চকরিয়া সুন্দরবন ছিল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে তা নষ্ট হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাপার সহ-সভাপতি জাকির হোসেন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, কক্সবাজারের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে সৈকতের বালিয়াড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়িতে চলমান রাস্তা নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার এবং হাইকোর্টের মামলা নং ২২৬/২০১১-এর রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা ও দখল উচ্ছেদ করা দরকার।
বাপার কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, গুটিকয়েক মানুষের স্বার্থে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বালিয়াড়ি সৈকতের সুরক্ষাকবচ নষ্ট হলে সামুদ্রিক প্রতিবেশব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ভাষণে পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে ১০ মিনিট কথা বলেছেন, কিন্তু তার নির্দেশ অমান্য করে পরিবেশ বিধ্বংসী প্রকল্প চলছে।
"কক্সবাজারে বালিয়াড়িতে রাস্তা বানানোর চিন্তা মাথায় আসে! কান্ডজ্ঞান বলে সমুদ্রের স্রোত ও তীব্রতার কারণে এ রাস্তা টিকবে না। এ রাস্তাটা কিছু লোকের টাকা বানানোর প্রকল্প। দীর্ঘমেয়াদে পুরো বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের যে বিপদ সেটাকে বাড়ানো হচ্ছে বলে মনে করি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (সংবাদ সম্মেলন), কক্সবাজার (বালিয়াড়ি, মহেশখালী, সোনাদিয়া দ্বীপ), সুন্দরবন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, জাকির হোসেন, করিম উল্লাহ কলিম, মো. আলমগীর কবির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মামলা নং ২২৬/২০১১, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৩ হাজার গাছ (মেরিন ড্রাইভ), ১০ মিনিট (প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ), ২০ মিনিট (জাতিসংঘের ভাষণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!