📌 বাংলাদেশে এল নিনোর শক্তিশালী প্রভাবের কারণে শীতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শীতকালে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার স্থায়িত্ব কম হতে পারে এবং কুয়াশা বাড়তে পারে। ফরহাদ হোসেনের মতো সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ পর্যন্ত এই বিষয়টি আলোচিত
বাংলাদেশে শীতের আগমন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এল নিনোর প্রভাবের কারণে শীতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে বলে আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস। ফরহাদ হোসেন, একজন রাজধানীর বাসিন্দা, বলছেন যে, গ্রীষ্মের গরম কিছুটা সহনীয় ছিল, কিন্তু শরৎকালেও গরমের অনুভূতি কমেনি। অক্টোবরেও গরমের ধারা অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে যথাক্রমে ৮ ও ১৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও, এই দুই মাসে তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরহাদ হোসেন (রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার) বলেছেন, গ্রীষ্মের গরম কিছুটা সহনীয় ছিল, কিন্তু শরৎকালেও গরমের অনুভূতি কমেনি। অক্টোবরেও গরমের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
- 📌 আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে যথাক্রমে ৮ ও ১৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে।
- 📌 আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেছেন, শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে গ্রীষ্মে অনিয়মিত বৃষ্টি ও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। শীতেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে।
- 📌 বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বলেছে, এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সামনের মাসগুলোতে আরও শক্তিশালী হতে পারে।
- 📌 এল নিনোর প্রভাবের কারণে শীতের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা বেশি। তবে এর অর্থ শীত থাকবে না, এমন নয়।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে শীতের আগমন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এল নিনোর প্রভাবের কারণে শীতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে বলে আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস। ফরহাদ হোসেন, একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাজধানীর বাসিন্দা, বলছেন, ‘এপ্রিল–মে মাসে যে গরম গেছে, সে সময় হাতে গোনা কয়েক দিন বাসায় এসি চালিয়েছিলেন। এবার গ্রীষ্ম কিছুটা সহনীয় ছিল। বৃষ্টি–বাদলও হয়েছে। কিন্তু শরৎকাল হলেও সেপ্টেম্বরে গরম ছিল অনেক বেশি। মনে হয়েছে, মাসের অর্ধেকের বেশি দিন এসি চালাতে হয়েছে। অক্টোবরেও সেই গরম রয়ে গেছে।’
আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, জুনের পর থেকেই এল নিনোর শক্তিশালী অবস্থা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো ভারতীয় অঞ্চলে পড়ে। তিনি বলেন, ‘শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে গ্রীষ্মে অনিয়মিত বৃষ্টি ও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। শীতেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে।’
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ৩ সেপ্টেম্বর তার সর্বশেষ এল নিনো আপডেটে বলেছে, এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সামনের মাসগুলোতে আরও শক্তিশালী হতে পারে। এল নিনো কোনো ঝড় বা নির্দিষ্ট দিনের আবহাওয়ার ঘটনা নয়। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং সেখানকার বায়ুমণ্ডলীয় চাপের বড় ধরনের পরিবর্তন। স্বাভাবিক সময়ে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে নিয়মিত বাতাস বয়ে যায়। এল নিনোর সময় এই বাতাস দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশে জমে থাকা উষ্ণ পানি মধ্য ও পূর্ব অংশে ছড়িয়ে যায়। এই পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বায়ুচাপ, বাতাস, বৃষ্টি ও তাপমাত্রার ধরন বদলে দেয়।
এল নিনোর প্রভাবের কারণে বাংলাদেশে শীতের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা বেশি। তবে এর অর্থ শীত থাকবে না, এমন নয়। শীতের মূল সময় নভেম্বরের শেষ দিকে থেকে শুরু হয় এবং ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। তবে এবারের শরতের উষ্ণতা এবং বৃষ্টির ঘাটতির কারণে শীতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার স্থায়িত্ব কম হতে পারে।
"শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে গ্রীষ্মে অনিয়মিত বৃষ্টি ও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। শীতেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে।"
"এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সামনের মাসগুলোতে আরও শক্তিশালী হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (পূর্ব রাজাবাজার), বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফরহাদ হোসেন, আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ শতাংশ (আগস্টে বৃষ্টি কম), ১৮ শতাংশ (সেপ্টেম্বরে বৃষ্টি কম), ৩ সেপ্টেম্বর (ডব্লিউএমওর আপডেট তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!