📌 মাদাগাস্কার থেকে ৭ থেকে ৯ হাজার কিলোমিটার দূরে অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে পৌঁছেছিল এলিফ্যান্ট বার্ডের দুটি ডিম। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ডিমগুলোর ভেতরে থাকা বাতাস ভর্তি ফাঁপা স্থান এবং পুরু খোলসের কারণে সমুদ্রযাত্রায় অক্ষত থাকতে সক্ষম হয়েছিল। ১৯৩০ ও ১৯৯২ সালে এই ডিম দুটি শিশুদের হাতে পাওয়া যায়।
৭ থেকে ৯ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিয়ে ভারত মহাসাগর ভাসতে ভাসতে দুটি বিশাল ডিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে পৌঁছেছিল। এই ঘটনা মাদাগাস্কারের উপকূলে ঘটেছিল এবং বিজ্ঞানীরা এই ডিম দুটিকে এলিফ্যান্ট বার্ডের বলে চিহ্নিত করেছেন। এই পাখির নামের বাংলা অর্থ হাতি পাখি। বিজ্ঞানীরা ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে, এলিফ্যান্ট বার্ড ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে টিকে থাকা সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে ভারী পাখি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাদাগাস্কার থেকে ৭ থেকে ৯ হাজার কিলোমিটার দূরে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে পৌঁছেছিল এলিফ্যান্ট বার্ডের দুটি ডিম
- 📌 ডিম দুটির ভেতরে থাকা বাতাস ভর্তি ফাঁপা স্থান এবং পুরু খোলসের কারণে সমুদ্রযাত্রায় অক্ষত থাকতে সক্ষম হয়েছিল
- 📌 ১৯৩০ সালে স্কট রিভারে এবং ১৯৯২ সালে সার্বান্তেস উপকূলে শিশুদের হাতে পাওয়া যায় দুটি ডিম
- 📌 এলিফ্যান্ট বার্ডের শরীরের আকার আফ্রিকান হাতির সমান (৩ মিটার) হতে পারত, কিন্তু ওজন সর্বোচ্চ ৮০০ কেজি
- 📌 বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ১৩ শতকের মার্কো পোলোর ভ্রমণকাহিনিতে বর্ণিত ‘রুক’ বা ‘রক’ পাখির গল্প থেকে এলিফ্যান্ট বার্ডের নামের উৎপত্তি হতে পারে
📰 বিস্তারিত
২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞানীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে, এলিফ্যান্ট বার্ডের প্রজাতিই ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে টিকে থাকা সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে ভারী পাখি। প্রাগৈতিহাসিক এই দানবীয় পাখির দল বাস্তবেই ঘুরে বেড়াত এই পৃথিবীতে। উড়তে অক্ষম এই বিশালাকার পাখিদের রাজত্ব নিয়ে নানা গবেষণা রয়েছে।
মাদাগাস্কারের উপকূলে প্রচণ্ড ঝড়ের তোড়ে দুটি ডিম সাগরে ভেসে যায়। পানির ওপর ভেসে থাকার রহস্য ছিল এর ভেতরে থাকা বাতাস ভর্তি ফাঁপা স্থান বা ‘এয়ার পকেট’ এবং অতি পুরু খোলস, যা নোনাজল এবং পাথরের আঘাত থেকে ভেতরের অংশ রক্ষা করে। সমুদ্রের অন্যতম শক্তিশালী স্রোত ‘অ্যান্টার্কটিক সার্কামপোলার কারেন্ট’-এর ওপর ভর করে মাসের পর মাস ভারত মহাসাগর পাড়ি দিতে থাকে বিশাল এই ডিম দুটি। অবশেষে দীর্ঘ পথ ভেসে এসে সেগুলো আছড়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে।
তীরের নরম বালিয়াড়ির নিচে দ্রুত চাপা পড়ে যাওয়ায় রোদ ও বাতাসের হাত থেকে রক্ষা পায় এবং হাজার বছর অবিকৃত অবস্থায় সুরক্ষিত থাকে। বহুকাল পর, ১৯৩০ সালে স্কট রিভারে একটি এবং ১৯৯২ সালে সার্বান্তেস উপকূলে খেলার সময় শিশুদের হাতে পাওয়া যায় দ্বিতীয় ডিমটি। বিজ্ঞানের কল্যাণে প্রকাণ্ড এই ডিমগুলোর সমুদ্রজয়ের গল্প আজ প্রাকৃতিক ইতিহাসের এক রোমাঞ্চকর উপাখ্যান হয়ে টিকে আছে।
"এলিফ্যান্ট বার্ডের শরীরের আকার আফ্রিকান হাতির সমান (৩ মিটার) উঁচু হতে পারত, যদিও ওজনের দিক থেকে হাতির চেয়ে অনেক হালকা ছিল (সর্বোচ্চ ৮০০ কেজি)"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মাদাগাস্কার উপকূল, অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল (স্কট রিভার ও সার্বান্তেস উপকূল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানীরা, শিশুদের, মার্কো পোলো
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ থেকে ৯ হাজার কিলোমিটার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩ শতক, ৩ মিটার, ৮০০ কেজি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!