📌 এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪.৫ লাখ মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছে জলবায়ুবিজ্ঞানীরা।
বিশ্বব্যাপী এল নিনোর প্রভাবে আগামী ছয় মাসে (সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের গবেষণায় এই পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা এল নিনোর কারণে
- 📌 ২ লাখ ৪০ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যু সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হতে পারে
- 📌 নাইজেরিয়াতে ৩০ হাজার, ইন্দোনেশিয়াতে ১৯ হাজার, ভারততে ১৬ হাজার, ব্রাজিলতে ১৩ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর পূর্বাভাস
- 📌 বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন
- 📌 দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে বসন্ত-গ্রীষ্মকালে তাপজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের গবেষণায় দেখা গেছে, গত জুনে শুরু হওয়া বর্তমান এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা অতীতের ডেটা বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস তৈরি করেছেন। রোডিয়াম গ্রুপের গবেষক এমিলি গ্রোভার-কোপেক বলেছেন, এই পূর্বাভাসের উদ্দেশ্য আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়, বরং আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের খোঁজ নিতে স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করা, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষকরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকবে। তবে এল নিনো উত্তর গোলার্ধের বসন্তকাল পর্যন্ত স্থায়ী হলে, ফেব্রুয়ারির পরও ওই অঞ্চলেও তাপজনিত মৃত্যুর আরেকটি ঢেউ দেখা দিতে পারে। বিশেষত ভারত ও পাকিস্তান বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আফ্রিকার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষত নাইজেরিয়াতে আগামী ছয় মাসে অতিরিক্ত ৩০ হাজারের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৯ হাজার, ভারতে ১৬ হাজার এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, বয়স্ক মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে শিশু ও অন্যান্য বয়সের মানুষ।
ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্রিস্টোফার ক্যালাহান পূর্বাভাসটিকে বাস্তবসম্মত বলে মনে করেন। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, এই হিসাবটি শুধুমাত্র তাপজনিত মৃত্যুর উপর ভিত্তি করে তৈরি। এল নিনোর কারণে দাবানল, সংক্রামক রোগ বা বন্যা সহ অন্যান্য দুর্যোগ বাড়লে মোট মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। গবেষকদের মতে, এই পূর্বাভাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আগাম প্রস্তুতি ও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নিয়ে কতটা প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব।
"এই পূর্বাভাসের উদ্দেশ্য আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়; বরং আগেভাগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।"
"ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের খোঁজ নিতে স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের সুবিধা নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বব্যাপী (বিশেষত দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো, নাইজেরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জলবায়ুবিজ্ঞানীরা, এমিলি গ্রোভার-কোপেক, ক্রিস্টোফার ক্যালাহান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ লাখ ৫০ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা, ২ লাখ ৪০ হাজার সেপ্টেম্বর-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, ৩০ হাজার (নাইজেরিয়া), ১৯ হাজার (ইন্দোনেশিয়া), ১৬ হাজার (ভারত), ১৩ হাজার (ব্রাজিল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!