📌 শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ৫৩টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্য দেশের ঘটনা বাংলাদেশের বলে প্রচার, সম্পাদিত ভিডিও, ভুয়া মন্তব্য এবং পুরোনো ঘটনার নতুন দাবি জড়ানো হয়েছে
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্যের সংখ্যা ৫৩টি ছাড়িয়ে গেছে। ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত এই অপতথ্যগুলো শনাক্ত করেছে তিনটি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান। এসব অপতথ্যে অন্য দেশের ঘটনা বাংলাদেশের বলে প্রচার করা হয়েছে, সম্পাদিত ভিডিও ও ফটোকার্ড ব্যবহার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচারিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৩টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। এর মধ্যে রিউমর স্ক্যানার ৪৩টি, বাংলা ফ্যাক্ট ৭টি ও ডিসমিসল্যাব ৩টি শনাক্ত করেছে।
- 📌 ফেসবুকে ২৫টি ও এক্সে ১৯টি অপতথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে।
- 📌 পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরীর বক্তব্য সম্পাদিত ভিডিওতে মসজিদের মিম্বারে দেওয়া বলে প্রচার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি লক্ষ্মীপুরের চৌপল্লী বারাহী মন্দির পরিদর্শনে বক্তব্য দিয়েছিলেন।
- 📌 ভারতের ঘটনা বাংলাদেশের বলে প্রচার করা হয়েছে। যেমন, ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একটি প্রতিমা পড়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের বলে দাবি করা হয়েছে।
- 📌 রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিরোধীদলীয় সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচারিত হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
দুর্গাপূজা উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরীর বক্তব্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত অবস্থায় মসজিদের মিম্বারে বসে বক্তব্য দিচ্ছেন। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, তিনি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এই বক্তব্য দিয়েছেন। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওটি সম্পাদিত। প্রকৃত ঘটনাটি হলো, তিনি লক্ষ্মীপুরের চৌপল্লী বারাহী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এটি তাঁর নির্বাচনী এলাকা।
এছাড়া অন্য দেশের ঘটনা বাংলাদেশের বলে প্রচার করা হয়েছে। যেমন, ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার গাইঘাটায় একটি প্রতিমা গাড়িতে তোলার সময় পড়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ‘জামায়াত নেত্রীর পূজা উদ্যাপনের দৃশ্য’ দাবিতে আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা ভারতের বারানসিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রচারের অংশ হিসেবে ধারণ করা হয়েছিল।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচারের ঘটনাও দেখা গেছে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি ব্যবহার করে একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, তিনি বলেছেন, ‘নবী-রাসূল নয়, দেব–দেবীরাই পৃথিবী থেকে অন্যায় দূর করেছেন।’ যাচাই করে দেখা যায়, তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার রমনা কালীমন্দিরে দেওয়া বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের শুধু নয়, সমগ্র পৃথিবীতে যখন অন্যায় অত্যাচার নিপীড়ন নেমে এসেছিল, তখনই দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল।’
বিরোধীদলীয় উপনেতা ও সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের নামেও ভুয়া মন্তব্য প্রচার করা হয়েছে। ফটোকার্ডে তাঁর নামের সঙ্গে ‘জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ তাহের’ উল্লেখ করা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে, তিনি বলেছেন, ‘দুর্গাপূজা শুধু হিন্দুদের নয়, এটি আমাদেরও উৎসব।’ যাচাই করে দেখা যায়, তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি। জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজ থেকেও ভুয়া দাবিটির প্রচার নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
"একটা সমাজে যখন অন্যায় অপকর্ম, অসুর—এই সমস্ত অপকর্মের নেতৃত্ব দিচ্ছিল, তখন এটাকে দমন করার জন্য আপনাদের দুর্গাদেবী এই চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করেন এবং সেখানেই শুভ শক্তির বিজয় সাধিত হয়েছে।"
এছাড়া পুরোনো ঘটনার ভিডিও দুর্গাপূজার বলে প্রচার করা হয়েছে। যেমন, ‘বাংলাদেশে দুর্গাপূজা বন্ধের দাবিতে সম্প্রতি মিছিল হয়েছে’—এমন ক্যাপশনে একটি মিছিলের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যাচাই করে দেখা গেছে, এটি পুরোনো একটি ঘটনা।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৩টি অপতথ্য, ২৫টি ফেসবুকে, ১৯টি এক্সে, ২১ অক্টোবর (দুর্গাপূজা শেষ), ১৬-২২ অক্টোবর (অপতথ্য ছড়ানো সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!