📌 শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের ‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ড. ইউনূসের কাজ সারা বিশ্বে নারীদের ক্ষমতায়নে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। ড. ইউনূস ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ চালু করার আশা প্রকাশ করেন
শান্তিতে নোবেলজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘হিলারি রোডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন নিজেই ড. ইউনূসের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পান ড. মুহাম্মদ ইউনূস
- 📌 অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূতসহ প্রায় ৪০০ অতিথি
- 📌 পুরস্কার গ্রহণের পর ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের কাজের ৫০ বছরের স্বীকৃতি’
- 📌 ড. ইউনূসের বক্তৃতায় ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ চালু করার আশা প্রকাশ
- 📌 হিলারি ক্লিনটন বলেন, ড. ইউনূসের কাজ ‘শুধু বাংলাদেশের নারীদের নয়, সারা পৃথিবীতে’ প্রভাব ফেলেছে
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্টন হলরুমে অনুষ্ঠিত এই সম্মাননা অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সকল অতিথি দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে করতালি দিয়ে তাকে সম্মান জানান। এ বছর মোট চারজনকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। ড. ইউনূসের পাশাপাশি পুরস্কার পান ভারতের ‘সেলফ-এমপ্লয়েড উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন’-এর পরিচালক রিমা নানাবতী, ফ্যাশন ডিজাইনার টোরি বার্চ এবং জর্দানের ‘মাইক্রোফান্ড ফর উইমেন’-এর বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ান। মুনা সুখতিয়ানকে বিশেষ ‘জর্জটাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।
হিলারি ক্লিনটন ড. ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘আমি নিজে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম দেখেছি। নারীরা কীভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে। এটা অভূতপূর্ব। শুধু বাংলাদেশের নারীরা নয়, ড. ইউনূস তার কাজ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন।’
পুরস্কার গ্রহণের পর ড. ইউনূস তার ৫০ বছরের কর্মজীবনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের কাজের ৫০ বছরের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এখানে আপনারা যে আয়োজন করেছেন, তা বাংলাদেশে একটি বড় বার্তা পৌঁছে দেবে এবং গ্রামীণ পরিবারকে অনুপ্রাণিত করবে।’ তিনি দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেছি। আমরা নারীদের দিকে মনোযোগ দিয়েছি। তারা যেন নিজেদের শক্তি কাজে লাগাতে, নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে পারেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেন।’
ড. ইউনূস আরও বলেন, ‘আজ সেই পরিবারগুলো অনেক বদলে গেছে। এখন আর লাজুক, চুপ করে বসে থাকা দরিদ্র নারী দেখা যায় না, বরং দেখা যায় আত্মবিশ্বাসী নারী, যারা নিজেদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন। এসব নারী নিজেদের ব্যাংক নিজেরাই পরিচালনা করেন, আর তারাই গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক। ঋণগ্রহীতাদের সন্তানেরাও এখন চাকরি খুঁজছে। আমরা তাদের বলেছি, ‘আমরা চাকরিপ্রার্থী নই, আমরা চাকরিদাতা’। কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে নিজের ব্যবসা গড়ে তুলতে হবে।’
"আমাদের কাজের ৫০ বছরের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এখানে আপনারা যে আয়োজন করেছেন, তা বাংলাদেশে একটি বড় বার্তা পৌঁছে দেবে এবং গ্রামীণ পরিবারকে অনুপ্রাণিত করবে।"
ড. ইউনূস সামাজিক ব্যবসার ধারণা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত মুনাফা নয়, বরং সমস্যার সমাধান করা। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সামাজিক ব্যবসার তহবিল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চক্ষু হাসপাতাল গড়ে তুলতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ পুনরায় স্বাস্থ্যসেবাতেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে।’
শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ভুলভাবে সাজানো হয়েছে। কারণ, এটি তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে তৈরি করে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো মানুষকে সৃজনশীল ও উদ্যোগী করে গড়ে তোলা। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাব্যবস্থার কাজ হওয়া উচিত উদ্যোক্তা তৈরি করা।’ তিনি আশাবাদ জানান, ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’ গড়ার পথে নেতৃত্ব দিতে পারে। এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করবে, ‘শুধু সার্টিফিকেটের পেছনে না ছুটে একজন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠো। ব্যবসা শুরুর জন্য অর্থায়নসহ যা যা প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয় তা নিশ্চিত করবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মুহাম্মদ ইউনূস, হিলারি ক্লিনটন, রিমা নানাবতী, টোরি বার্চ, মুনা সুখতিয়ান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছর (গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মজীবন), ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, ৪০০+ অতিথি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!