📌 পারিবারিক সহিংসতা শুধু শারীরিক আঘাত নয় — মানসিক নির্যাতন, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণ এবং যৌন সহিংসতা এর অন্তর্গত। সাইকোলজি প্র্যাকটিশনার ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেছেন, এই অদৃশ্য রূপগুলো ভুক্তভোগীদের জীবনকে ডিমের খোসার ওপর হাঁটার মতো জটিল করে তোলে। অক্টোবর মাসে এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
পারিবারিক সহিংসতার অদৃশ্য রূপ নিয়ে বাংলাদেশে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন এসেছে। বিবাহবিচ্ছেদের পথে যাওয়া নারীদের প্রতি পরিচিত-পরিজনেরা প্রায়ই বলেন, ‘এতটুকু মানিয়ে নিলে না? অনেকের জীবনসঙ্গী তো গায়ে হাত পর্যন্ত তোলে’ — এমন কথাগুলো শুধু মানসিক নির্যাতন নয়, গ্যাসলাইটিংয়ের একটি অংশ। কিন্তু এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে এখনও অজানা। ডা. সানজিদা শাহরিয়া, সাইকোলজি প্র্যাকটিশনার ও অধ্যাপক, বলেছেন, ‘শারীরিক আঘাত ছাড়াও মানসিক অবমাননা, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণ এবং যৌন সহিংসতা — সবই পারিবারিক সহিংসতার অন্তর্গত।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **অক্টোবর মাসে** পারিবারিক সহিংসতা সচেতনতা মাস পালিত হয়, যা ১৯৮৯ সালে মার্কিন কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত
- 📌 **পারিবারিক সহিংসতা** চার ভাগে বিভক্ত: মানসিক নির্যাতন, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণ ও যৌন সহিংসতা
- 📌 **গ্যাসলাইটিং** ভুক্তভোগীকে বিভ্রান্ত করে নিজের স্মৃতি ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে সন্দেহ করতে বাধ্য করে
- 📌 **অর্থনৈতিক নির্যাতন** হলো টাকা-পয়সা আটকানো, চাকরি থেকে বেতন কেড়ে নেওয়া বা ব্যবসায়ে বাধা দেওয়া
- 📌 **সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণ** ভুক্তভোগীকে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত করে
- 📌 **যৌন সহিংসতা** অন্তর্ভুক্ত বৈবাহিক ধর্ষণ, জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক এবং অস্বস্তিকর যৌন কর্মকাণ্ড
📰 বিস্তারিত
পারিবারিক সহিংসতা শুধু মারধর বা আঘাত নয় — এটি একটি জটিল সমস্যা, যা মানসিকভাবে ভুক্তভোগীদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়। ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেছেন, ‘মানসিক নির্যাতন শারীরিক আঘাতের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর। গ্যাসলাইটিংয়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে এমনভাবে বিভ্রান্ত করা হয় যে সে নিজের স্মৃতি বা বুদ্ধি নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করে। যেমন, ‘তুমি মানসিক রোগী’ বা ‘এটা ঘটেনি’ বলে মিথ্যা প্রমাণ দেওয়া।’
অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণও পারিবারিক সহিংসতার একটি রূপ। কোনো ব্যক্তির টাকা-পয়সা, জমানো সম্পদ বা চাকরি থেকে বেতন জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া, দৈনন্দিন খরচের জন্য টাকা না দেওয়া — সবই এই নির্যাতনের অন্তর্ভুক্ত। ডা. শাহরিয়া বলেন, ‘এই ধরনের নির্যাতন ভুক্তভোগীদের জীবনকে ডিমের খোসার ওপর হাঁটার মতো করে তোলে।’
সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে পরিবার, বন্ধু বা সমাজ থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। ফোন চেক করা, কার সঙ্গে কথা বলছে তা নিয়ে সন্দেহ করা, বা ঘরের বাইরে যেতে হলে প্রতিটি পদক্ষেপের অনুমতি নিতে বাধ্য করা — এগুলোও সহিংসতার অংশ। যৌন সহিংসতা অন্তর্ভুক্ত বৈবাহিক ধর্ষণ, সঙ্গীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা এবং অস্বস্তিকর যৌন কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা।
ডা. শাহরিয়া আরও বলেছেন, ‘এসব নির্যাতন খালি চোখে দেখা না গেলেও দিনের পর দিন ঘটতে থাকলে ব্যক্তি বিভিন্ন মানসিক ডিসঅর্ডারে ভুগতে শুরু করেন। কিন্তু বাংলাদেশে এগুলোকে এখনও পারিবারিক বোঝাপড়ার বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়। স্কুলের পাঠ্যবইসহ নানা মাধ্যমে এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।’
"‘শারীরিক আঘাত ছাড়াও মানসিক অবমাননা, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণ এবং যৌন সহিংসতা — সবই পারিবারিক সহিংসতার অন্তর্গত।’ — ডা. সানজিদা শাহরিয়া
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মার্কিন কংগ্রেস (অক্টোবর মাসে পারিবারিক সহিংসতা সচেতনতা মাসের উদ্যোগ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. সানজিদা শাহরিয়া (সাইকোলজি প্র্যাকটিশনার ও অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ (পারিবারিক সহিংসতার ভাগ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!