📌 গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সমর চন্দ্র পণ্ডিত প্রতি মাসে নির্দিষ্ট দিনে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী গ্রামে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত দরিদ্র রোগী পাচ্ছেন সেবা। তাঁর উদ্যোগের পিছনে রয়েছে শিক্ষক অধ্যাপক এ এফ মহিউদ্দিন খানের অনুপ্রেরণা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের সেবা করার অভিজ্ঞতা
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. সমর চন্দ্র পণ্ডিত (এস সি পণ্ডিত) প্রতি মাসে নির্দিষ্ট দিনে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী গ্রামে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। এই মানবিক উদ্যোগে প্রতি মাসে শত শত গ্রামীণ দরিদ্র মানুষ দূরদূরান্ত থেকে আসে এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পান। ডা. পণ্ডিতের এই সেবা কার্যক্রম শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত মানবসেবা প্রকল্প।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে** মাইকিং করে গ্রামের মানুষকে জানানো হয় ডা. পণ্ডিতের চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে
- 📌 **রোগীদের জন্য** উঠানে বসার ব্যবস্থা করা হয় এবং অপেক্ষমানদের চা-পান প্রদান করে সম্মান প্রদর্শন করা হয়
- 📌 **২০২০ সাল থেকে** ডা. পণ্ডিত মাসে দুই দিন নিজ গ্রামে এবং এক দিন সন্তোষে রোগী দেখেন, সরকারি চাকরির ব্যস্ততা সত্ত্বেও
- 📌 **ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক** অধ্যাপক এ এফ মহিউদ্দিন খানের অনুপ্রেরণা এবং সিডর ও আইলা দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের সেবা করার অভিজ্ঞতা তাঁকে এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত করেছে
- 📌 **স্বাস্থ্য সেবার বাণিজ্যিকরণ** এবং শহরকেন্দ্রিক চিকিৎসা পেশায় দায়িত্বহীনতা দেখিয়ে ডা. পণ্ডিতের উদ্যোগ সমাজে নতুন আশা জাগিয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবা দিন দিন ব্যয়বহুল ও বাণিজ্যমুখী হয়ে পড়ছে। এই সমস্যার বিরুদ্ধে একমাত্র প্রতিরোধ হিসেবে দাঁড়িয়েছেন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. সমর চন্দ্র পণ্ডিত। তিনি প্রতি মাসে নির্দিষ্ট দিনে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী গ্রামে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। এই উদ্যোগে প্রতি মাসে শত শত গ্রামীণ দরিদ্র মানুষ দূরদূরান্ত থেকে আসে এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পান।
ডা. পণ্ডিতের এই সেবা কার্যক্রম শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত মানবসেবা প্রকল্প। গ্রামের মানুষকে জানাতে ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে মাইকিং করা হয়। রোগীদের জন্য উঠানে বসার ব্যবস্থা করা হয় এবং অপেক্ষমানদের চা-পান প্রদান করে সম্মান প্রদর্শন করা হয়। এই পুরো আয়োজনই সেবার সংজ্ঞাকে নতুন মাত্রা দেয়।
ডা. পণ্ডিতের এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক এ এফ মহিউদ্দিন খানের অনুপ্রেরণা এবং সিডর ও আইলা দুর্যোগে উপকূলীয় মানুষের সেবা করার অভিজ্ঞতা। তিনি বলেছেন, "শহরে থাকলেও গ্রামের মানুষকে ভুলে যাইনি।" এই মানসিকতা তাঁকে দেশের অন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য একটি আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
"শহরে থাকে, কিন্তু গ্রামের মানুষকে ভুলে যায়নি"
২০২০ সাল থেকে পরিকল্পিতভাবে শুরু করা এই প্রক্রিয়ায় ডা. পণ্ডিত মাসে দুই দিন নিজ গ্রামে এবং এক দিন সন্তোষে রোগী দেখেন। সরকারি চাকরির ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি এই সেবা অব্যাহত রাখছেন। তিনি বলেছেন, "আমাদের দেশে সরকারি চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা এবং প্রান্তিক পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অপ্রতুলতা সর্বজনবিদিত। তদুপরি উচ্চশিক্ষা ও ডিগ্রি অর্জনের পর চিকিৎসকদের বড় একটি অংশের মধ্যেই শহরকেন্দ্রিক প্রাইভেট প্র্যাকটিস ও বাণিজ্যিক প্রবণতা দেখা যায়।" তিনি দাবি করেছেন, "শিকড় বা নিজ গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার এই অভাব যেখানে প্রকট, সেখানে সদিচ্ছা থাকলে পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক অঙ্গীকার রক্ষা করাও সম্ভব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী গ্রাম, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. সমর চন্দ্র পণ্ডিত (এস সি পণ্ডিত), অধ্যাপক এ এফ মহিউদ্দিন খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ কিলোমিটার (মাইকিং ব্যাসার্ধ), মাসে ৩ দিন (রোগী দেখার দিন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!