📌 শৈশবে পাঁচটি ডোজ টিকা নেওয়ার পরেও ডিপথেরিয়ার সংক্রমণ বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা না নেওয়ার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। ডিপথেরিয়া মারাত্মক রোগ হিসেবে পরিচিত, যা গলায় ধূসর আস্তরণ তৈরি করে এবং সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মৃত্যু ঘটাতে পারে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিপথেরিয়ার সংক্রমণ আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। শৈশবে পাঁচটি ডোজ টিকা নেওয়ার পরেও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আবার টিকা দিতে হয়। করোনাভাইরাসের পর টিকাদানের হার কমে যাওয়া, টিকার দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের বৃদ্ধি এই রোগের প্রত্যাবর্তনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও নতুন কিছু ব্যাকটেরিয়া স্ট্রেইনের বিস্তারও এর পেছনে দায়ী হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অস্ট্রেলিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিপথেরিয়ার সংক্রমণ আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে
- 📌 বাংলাদেশে ২০১৭-১৮ সালে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডিপথেরিয়ার বড় প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল
- 📌 প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বুস্টার ডোজ না নেওয়ার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এসেছে
- 📌 ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সবসময়ই বেশি থাকে
- 📌 ডিপথেরিয়া মারাত্মক রোগ, যা গলায় ধূসর আস্তরণ তৈরি করে এবং শ্বাসরোধের মতো অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে
- 📌 টিকাদান, সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ডিপথেরিয়া থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়
📰 বিস্তারিত
ডিপথেরিয়া একটি মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, যা কোরিনেব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট হয়। এই রোগটি প্রধানত নাক ও গলার শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে আক্রমণ করে। আক্রান্ত ব্যক্তির গলায় ধূসর রঙের একটি শক্ত আস্তরণ বা সিউডোমেমব্রেন তৈরি হয়, যা শ্বাসনালি বন্ধ করে দিতে পারে এবং শ্বাসরোধের মতো অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও ব্যাকটেরিয়ার নিঃসৃত বিষ রক্তে মিশে হৃৎপিণ্ড, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এই রোগে মৃত্যু ঘটতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশবের পাঁচটি ডোজ টিকা নেওয়ার পরও প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ১০ বছর পরপর টিডি বা টিড্যাপ বুস্টার ডোজ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে ২০১৭-১৮ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ডিপথেরিয়ার একটি বড় প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল, যা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। তবে সাধারণ জনগণের মধ্যে, বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের বুস্টার ডোজ না নেওয়ার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এসেছে।
ডিপথেরিয়া প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার হলো টিকা। শিশুদের ‘পেন্টাভ্যালেন্ট’ টিকার মাধ্যমে এর সুরক্ষা দেওয়া হয়। তবে শৈশবের টিকার মেয়াদ আজীবন থাকে না। তাই শৈশবের পাঁচটি ডোজ সম্পন্ন করার পর, ১১ থেকে ১২ বছর বয়সে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ১০ বছর পরপর টিডি বা টিড্যাপ বুস্টার ডোজ নেওয়া উচিত। এছাড়াও, সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাঁচি-কাশির সময় রুমাল ব্যবহার, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
ডা. কাকলী হালদার, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, “ডিপথেরিয়া থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য টিকাদান নিশ্চিত করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তীব্র গলাব্যথা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা গলায় ধূসর আস্তরণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং রোগীকে আইসোলেশনে রাখতে হবে।”
"শৈশবের পাঁচটি ডোজ টিকা নেওয়ার পরও প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ১০ বছর পরপর টিডি বা টিড্যাপ বুস্টার ডোজ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিপথেরিয়া থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য টিকাদান নিশ্চিত করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ (ঢাকা), রোহিঙ্গা ক্যাম্প
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. কাকলী হালদার (ঢাকা মেডিকেল কলেজ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫টি ডোজ, ১৮ বছর (২০১৭-১৮), ১১-১২ বছর বয়স, প্রতি ১০ বছর পরপর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!