📌 প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজিত অনলাইন মাদকবিরোধী পরামর্শ সভায় ডা. হেলাল আহমেদ বলেছেন, প্রযুক্তির সমস্যা নেই, সমস্যা আমাদের মাইন্ডসেটে। সন্তানদের ডিভাইস ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বাবা-মা দায়িত্বশীল হতে হবে
২৫ জুন ২০২৬ তারিখে প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজিত ১৭৮তম অনলাইন মাদকবিরোধী পরামর্শ সভায় শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ সন্তানদের ডিজিটাল ব্যবহার নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সভায় আলোচিত বিষয় ছিল ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: চলমান সংকট, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনী ফলাফল’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে প্রথম আলোর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১৭৮তম অনলাইন পরামর্শ সভায় ডা. হেলাল আহমেদ সন্তানদের ডিজিটাল ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন
- 📌 ডা. আহমেদ বলেন, প্রযুক্তির সমস্যা নেই, সমস্যা আমাদের মাইন্ডসেটে এবং এর ব্যবহারে — সন্তানরা কি ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করছে তা নির্ভর করে বাবা-মার নিয়ন্ত্রণে
- 📌 ডিভাইস ব্যবহারের অতিরিক্ত নেতিবাচক প্রভাব সন্তানদের সামাজিক বিকাশ, ঘুমের সমস্যা, আচরণগত পরিবর্তন এবং রুচির বিকৃতি ঘটাতে পারে
- 📌 ডা. আহমেদ বিদ্যুতের তারের সাথে তুলনা দিয়ে বলেন, প্রযুক্তি যেমন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তেমনি সন্তানদের ডিজিটাল ব্যবহারও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
📰 বিস্তারিত
ডা. হেলাল আহমেদ বলেছেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে বাবা-মা এবং সন্তানদের মনোযোগ উভয়ই ডিভাইসে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, সন্তান যখন স্ক্রিন স্ক্রল করছে, তখন বাবা-মাও ফোনে ব্যস্ত — এই অবস্থায় সন্তানদের সুষম পরিবেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়ছি। তবে তিনি মনে করেন, আমরা পুরোপুরি পিছিয়ে পড়িনি, বরং আমরা সঠিক ব্যবহারের জায়গা থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
ডা. আহমেদ বলেন, ডিজিটাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেট সন্তানদের বিকাশের জন্য একটি বড় সহায়ক শক্তি। তবে সমস্যাটি তাদের ব্যবহারের মাইন্ডসেটে। তিনি বলেন, সন্তানরা কি ইতিবাচক ও প্রোডাক্টিভভাবে ব্যবহার করছে, নাকি নেতিবাচকভাবে নিজেদের ক্ষতি করছে — সেটাই মূল বিষয়।
তিনি আরও বলেন, সন্তান যদি সারাদিন শুধু অনলাইন গেম বা স্ক্রিন স্ক্রলে আটকে থাকে, তাহলে তার সামাজিক বিকাশ ব্যাহত হবে। অতিরিক্ত নেতিবাচক ব্যবহারের কারণে বাচ্চাদের ঘুমের সমস্যা, রাত জাগা, দিনে ঘুমাচ্ছে, আচরণ উগ্র বা এগ্রেসিভ হয়ে উঠছে এবং রিলস বা শর্টস দেখে রুচির বিকৃতি ঘটছে। তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে বৈরী বা শত্রু না ভেবে, এর ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
"আমি বিষয়টিকে সবসময় একটি বিদ্যুতের তারের সাথে তুলনা করি। বিদ্যুৎ না থাকলে আমরা আলো পেতাম না, ফ্যান চলত না, আধুনিক জীবন অচল হয়ে যেত। কিন্তু তাই বলে কি আমরা বিদ্যুতের খোলা তার হাত দিয়ে স্পর্শ করি? অবশ্যই না। আমরা তারটিকে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখি, বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি রেগুলেটর, সুইচ বা রিমোট ব্যবহার করি। প্রযুক্তির ব্যবহারটাও ঠিক তেমনি বাবা-মাকে একটু একটু করে ‘রেগুলেট’ বা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্রথম আলো ট্রাস্টের কার্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ জুন ২০২৬ (আয়োজন তারিখ), ১৭৮তম (সভা সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!